সকাল থেকে অফিস, টানা ৯ থেকে ১০ ঘণ্টা বসে কাজ। দিনের বেশির ভাগ সময়ই কাটছে চেয়ারে। বাড়ি ফেরার পরও বিশ্রাম ছাড়া তেমন নড়াচড়া নেই। এমন জীবনযাপনে ধীরে ধীরে বাড়তে পারে ওজন ও শরীরে চর্বি জমার প্রবণতা। এর সঙ্গে বাড়তে পারে বিভিন্ন রোগের ঝুঁকিও।
বর্তমানে দীর্ঘ সময় বসে কাজ করা মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। বিশেষ করে নিয়মিত শরীরচর্চা ও হাঁটাচলা কম থাকলে ডায়াবেটিস, রক্তে চর্বির মাত্রা বেড়ে যাওয়া এবং ভিটামিনের ঘাটতির মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই আগেভাগে শরীরের অবস্থা সম্পর্কে জানতে কিছু পরীক্ষা করা যেতে পারে।
রক্তে শর্করার মাত্রা
দীর্ঘ সময় বসে থাকা এবং শারীরিক পরিশ্রম কম হলে শরীরে চর্বি জমার প্রবণতা বাড়তে পারে। এর ফলে ইনসুলিন ঠিকভাবে কাজ না করার ঝুঁকি তৈরি হয়। ধীরে ধীরে বাড়তে পারে রক্তে শর্করার মাত্রা এবং ডায়াবেটিসের ঝুঁকি।
এ কারণে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী রক্তে শর্করার অবস্থা জানতে খালি পেটে রক্তে শর্করার পরীক্ষা অথবা দীর্ঘ সময়ের রক্তে শর্করার গড় মাত্রা বোঝার পরীক্ষা করা যেতে পারে।
বিশেষ করে ওজন বেড়ে গেলে, পরিবারে ডায়াবেটিসের ইতিহাস থাকলে কিংবা দীর্ঘদিন শারীরিক পরিশ্রম কম হলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।
রক্তে চর্বির পরীক্ষা
দীর্ঘ সময় বসে থাকা ও শারীরিকভাবে কম সক্রিয় থাকার সঙ্গে শরীরে ক্ষতিকর চর্বি বাড়ার ঝুঁকি থাকতে পারে। রক্তে ক্ষতিকর কোলেস্টেরল বেশি থাকলে তা রক্তনালির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে এবং হৃদ্রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
তাই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত রক্তে বিভিন্ন ধরনের চর্বি ও কোলেস্টেরলের মাত্রা জানার পরীক্ষা করা যেতে পারে। বিশেষ করে যাদের ওজন বেশি, শারীরিক পরিশ্রম কম বা হৃদ্রোগের ঝুঁকি রয়েছে, তাদের এ বিষয়ে সচেতন থাকা জরুরি।
ভিটামিন ডি পরীক্ষা
দিনের বেশির ভাগ সময় ঘরের ভেতরে, বিশেষ করে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত অফিসে কাটালে সূর্যের আলো পাওয়ার সুযোগ কমে যায়। ফলে কারও কারও শরীরে ভিটামিন ডির ঘাটতি দেখা দিতে পারে।
শরীরে ভিটামিন ডির ঘাটতি থাকলে ক্লান্তি, হাত-পা বা কোমরে ব্যথাসহ বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে। এসব লক্ষণ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে রক্তে ভিটামিন ডির মাত্রা পরীক্ষা করা যেতে পারে।
তবে শুধু অফিসে বসে কাজ করেন বলেই সবার ভিটামিন ডির ঘাটতি থাকবে—এমন নয়। প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই ভালো।
শুধু পরীক্ষা নয়, বদলাতে হবে অভ্যাসও
দীর্ঘ সময় বসে কাজ করার কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে শুধু পরীক্ষা করলেই হবে না। কাজের ফাঁকে নিয়মিত উঠে কিছুক্ষণ হাঁটা, সিঁড়ি ব্যবহার করা, সম্ভব হলে প্রতিদিন শরীরচর্চা করা এবং খাবারের বিষয়ে সচেতন হওয়াও জরুরি।
শরীরে কোনো অস্বাভাবিকতা বা দীর্ঘদিনের ক্লান্তি থাকলে নিজের মতো করে পরীক্ষা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো। কারণ বয়স, ওজন, পারিবারিক ইতিহাস ও শারীরিক অবস্থার ওপর ভিত্তি করে প্রয়োজনীয় পরীক্ষাও ভিন্ন হতে পারে।
আরটিভি/জেএমএ
আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন