ভালোবাসার সম্পর্কে মান-অভিমান, অভিমান কিংবা সঙ্গীর অনুভূতি নিয়ে সাময়িক সংশয় তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু এই সন্দেহ যদি বারবার মনে ফিরে আসে, কোনো কারণ ছাড়াই অস্থিরতা তৈরি করে এবং সম্পর্ক নিয়ে সারাক্ষণ নিশ্চয়তা খুঁজতে হয়, তাহলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেকেই এমন পরিস্থিতিতে নিজের অনুভূতি নিয়েই বারবার প্রশ্ন করতে থাকেন। মনে হতে পারে—‘আমি কি সত্যিই তাকে ভালোবাসি?’, ‘এই সম্পর্ক কি আমার জন্য ঠিক?’ কিংবা ‘সঙ্গী কি আগের মতোই আমাকে ভালোবাসেন?’ একবার উত্তর পাওয়ার পরও কিছুদিন যেতে না যেতেই একই প্রশ্ন নতুন করে মাথায় আসতে পারে। এভাবে সন্দেহ ও নিশ্চয়তা খোঁজার একটি চক্র তৈরি হয়।

- Advertisement -

এই অবস্থায় কেউ কেউ নিজের অনুভূতি যাচাই করতে থাকেন। সঙ্গীর সঙ্গে সময় কাটানোর সময় আগের মতো আনন্দ বা উত্তেজনা হচ্ছে কি না, পুরোনো ছবি দেখে ভালোবাসার গভীরতা কতটা—এসবও মাপার চেষ্টা করেন। আবার অন্য দম্পতির সঙ্গে নিজের সম্পর্কের তুলনা করে দেখেন। কিন্তু এতে সাধারণত স্বস্তি পাওয়ার বদলে সংশয় আরও বেড়ে যায়।

সঙ্গীর ছোটখাটো আচরণও তখন বড় বিষয় মনে হতে পারে। খুদে বার্তার উত্তর দিতে কিছুটা দেরি করা, স্বাভাবিকের তুলনায় কম কথা বলা কিংবা প্রশংসা না করাকে কেউ কেউ ভালোবাসা কমে যাওয়ার ইঙ্গিত হিসেবে ধরে নেন। এরপর শুরু হয় বারবার সঙ্গীর কাছে নিশ্চয়তা চাওয়া। একই বিষয় বন্ধু বা পরিচিতদের কাছে বলে মতামত নেওয়ার প্রবণতাও দেখা দিতে পারে।

সাময়িকভাবে এসব আচরণ মনকে স্বস্তি দিলেও দীর্ঘমেয়াদে তা সমস্যার সমাধান করে না। বরং অতিরিক্ত নিশ্চয়তা চাওয়ার কারণে সম্পর্কের স্বাভাবিকতা নষ্ট হতে পারে এবং নিজের উদ্বেগ আরও শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমও এ ধরনের সংশয় বাড়াতে পারে। অন্য দম্পতিদের সুখী মুহূর্ত, ঘুরতে যাওয়া কিংবা ভালোবাসার নানা প্রকাশ দেখে নিজের সম্পর্কের সঙ্গে তুলনা করলে অকারণ অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে। মনে রাখা দরকার, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা সম্পর্কের পুরো বাস্তবতা সাধারণত প্রকাশ পায় না।

তবে সব সন্দেহ যে অমূলক, তা নয়। সম্পর্কে যদি প্রতারণা, নিয়মিত মিথ্যাচার, অসম্মান, দায়িত্বহীনতা কিংবা অন্য কোনো স্পষ্ট সমস্যা থাকে, তাহলে সেই সংশয়ের বাস্তব কারণ থাকতে পারে। কিন্তু দৃশ্যমান কোনো কারণ ছাড়াই যদি কেবল অনুমান ও আশঙ্কার ভিত্তিতে সম্পর্ক নিয়ে সারাক্ষণ পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলতে থাকে, তাহলে বিষয়টি মানসিক উদ্বেগের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।

কী করবেন?

প্রথমত, মনে রাখতে হবে—মনে কোনো চিন্তা আসা মানেই সেটি সত্য নয়। সন্দেহ তৈরি হলেই সঙ্গে সঙ্গে তার উত্তর বা নিশ্চয়তা খোঁজার চেষ্টা না করে কিছুটা সময় দিতে হবে।

বারবার সঙ্গীর কাছে নিশ্চয়তা চাওয়া, নিজের অনুভূতি পরীক্ষা করা এবং অন্যের সম্পর্কের সঙ্গে নিজের সম্পর্কের তুলনা করার অভ্যাস ধীরে ধীরে কমাতে হবে। একই সঙ্গে নিজের চিন্তাগুলোকে বাস্তব ঘটনা ও অনুমান—এই দুই ভাগে আলাদা করে দেখার চেষ্টা করা যেতে পারে।

যদি এই সংশয় এতটাই বেড়ে যায় যে দৈনন্দিন কাজ, মানসিক শান্তি কিংবা সম্পর্কের স্বাভাবিকতায় বড় ধরনের প্রভাব পড়ে, তাহলে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ বা মনোচিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।

কারণ সুস্থ সম্পর্কের জন্য প্রতিটি মুহূর্তে শতভাগ নিশ্চয়তা পাওয়া জরুরি নয়। সম্পর্কের স্বাভাবিক ওঠানামা, কিছুটা অনিশ্চয়তা এবং পরিবর্তনকে মেনে নিয়ে পারস্পরিক আস্থা ও বোঝাপড়ার মাধ্যমে এগিয়ে যাওয়াই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

- Advertisement -



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews