ঝকঝকে বিজ্ঞাপন। ‘মাত্র ৫ মিনিটে জামানতহীন লোন’, ‘প্রয়োজন নেই কোনো নথিপত্র’, ‘শুধু জাতীয় পরিচয়পত্রেই মিলবে টাকা’। করোনাকালীন মন্দা ও পরবর্তী অর্থনৈতিক সঙ্কটের সুযোগ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন চটকদার বিজ্ঞাপনের জোয়ার ভেসে বেড়াচ্ছে। আর এই ফাঁদে পা দিয়েই সর্বস্বান্ত হচ্ছেন দেশের লাখ লাখ মধ্যবিত্ত ও নি¤œ আয়ের মানুষসহ উচ্চশিক্ষিত ব্যক্তিরাও। সহজ শর্তে ঝটপট ঋণের আড়ালে দেশজুড়ে গড়ে উঠেছে এক ভয়ঙ্কর ‘ডিজিটাল লোনের ফাঁদ’ ও অ্যাপ-ভিত্তিক প্রতারণা সিন্ডিকেট। নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে চড়া সুদ, সুদের ওপর সুদ এবং শেষমেশ গ্রাহকের ব্যক্তিগত ছবি ও তথ্য চুরি করে চালানো হচ্ছে নির্মম ব্ল্যাকমেইল। লোকলজ্জা আর অপমানের পিঠে পিঠ দিয়ে আত্মহননের পথ বেছে নিচ্ছেন অনেকেই, যা এখন দেশের এক নীরব মহামারীতে রূপ নিয়েছে। এমনই কয়েকটি চক্রের সন্ধান পেয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) সদর দফতরের সাইবার পুলিশ সেন্টারের অধীন সাইবার মনিটরিং সেল। চক্রটির ওয়েবসাইট বা অ্যাপের মাধ্যমে নাগরিকদের গোপনীয় সংবেদনশীল যেসব তথ্যগুলো জাতীয় গোপনীয় ডাটাবেজ থেকে অবৈধভাবে সংগ্রহ করে বিক্রি করে আসছিলেন। একটি সংঘবদ্ধ চক্র এসব গোপনীয় সংবেদনশীল তথ্য অবৈধভাবে সংগ্রহ করে আসছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) প্রতারকরা বিভিন্ন অজুহাতে ওটিপির নম্বর নিয়ে বিকাশ বা নগদের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। আরেকটি চক্র ব্যাংকের গ্রহকদের কাছ থেকে বিভিন্ন সমস্যার কথা বলে পিন বা ওটিপি নিয়ে নিচ্ছে। আর হ্যাকার গ্রুপের খপ্পরে পড়ে মোবাইলের সব ডাটা নিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে সব কিছু নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে সর্বস্ব লুটে নিচ্ছে।
এমনই একটি চক্রের সদস্য বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের ছাত্র মো: আরমান হোসেন (২২)। তিনি দেশের নাগরিকদের অত্যন্ত সংবেদনশীল তথ্য অবৈধভাবে সংগ্রহ ও অর্থের বিনিময়ে বিক্রি করে আসছিলেন। লেখাপড়ার পাশাপাশি তিনি অ্যাপ ও ওয়েবসাইট ডেভেলপারের কাজ করতেন।
গত ৫ মে রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে সিআইডি। এর আগে এই চক্রের আরো দু’জনের কাছ থেকে তথ্য নিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
সিআইডি সূত্র জানায়, গত বছরের ৯ অক্টোবর সকাল সাড়ে ১০টায় সিআইডির সদর দফতরের সাইবার পুলিশ সেন্টারের অধীন সাইবার মনিটরিং সেলের নিয়মিত অনলাইন মনিটরিংকালে ‘সিয়াম হাওলাদার’ নামক একটি ফেসবুক আইডি নজরে আসে। যেখানে দেশের নাগরিকদের অত্যন্ত সংবেদনশীল তথ্য যেমন- জাতীয় পরিচয়পত্রের পূর্ণাঙ্গ ডাটা, এসএমএস তালিকা, বিকাশ/রকেট/নগদসহ বিভিন্ন মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাকাউন্টের তথ্য, ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য এবং মামলা সংক্রান্ত তথ্য অর্থের বিনিময়ে বিক্রির বিজ্ঞাপন দেয়া হচ্ছিল। বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সিআইডি অনুসন্ধান শুরু করে।
অনুসন্ধানকালে প্রাপ্ত তথ্য যাচাই-বাছাই ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় চার দিন পরই লক্ষ্মীপুরে অভিযান চালিয়ে কমলনগর থানা এলাকা থেকে মো: সিয়াম হাওলাদারকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে অপরাধে ব্যবহৃত মোবাইল ফোন, সিমকার্ড, হার্ডডিস্ক ও অন্যান্য আলামত জব্দ করা হয়। তার স্মার্টফোনে ‘সব এখানে’ নামক একটি অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ পাওয়া যায়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে ‘সব এখানে’ নামীয় একটি অ্যাপ এবং সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটের মাধ্যমে নাগরিকদের সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহ ও বিক্রির কথা স্বীকার করে।
সিয়ামকে গ্রেফতারের পর গত বছরের ১৪ অক্টোবর সিআইডির এসআই মেহেদী হাসান বাদি হয়ে পল্টন মডেল থানায় এ সংক্রান্ত একটি মামলা করেন। সিয়ামের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই বছরের ২৮ অক্টোবর খুলনার কয়রা থেকে গ্রেফতার করা হয় চক্রের অন্যতম অ্যাডমিন মো: আল আমিনকে (২৩)। আল আমিন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়ে জানান, তিনি শুধু বিপণন দেখতেন, কিন্তু এই পুরো সিস্টেম এবং অ্যাপটি তৈরি করেছে এক দক্ষ প্রোগ্রামার। এরপর গত ৫ মে সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টার দল ক্যান্টনমেন্ট থানাধীন মানিকদি থেকে অ্যাপ ও ওয়েবসাইট ডেভেলপার মো: আরমান হোসেনকে গ্রেফতার করে। এ সময় তার কাছ থেকে তিনটি মোবাইল ফোন, ছয়টি সিমকার্ড (যার মধ্যে তিনটি বিকাশ মার্চেন্ট সিম) এবং একটি ল্যাপটপ জব্দ করা হয়।
যেভাবে পাতা হয় লোভনীয় ফাঁদ : অনুসন্ধানে দেখা যায়, এই চক্রগুলো মূলত ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম বা ইউটিউবে চটকদার ভিডিও ও ব্যানার স্পন্সর বিজ্ঞাপন দেয়। গুগল প্লে স্টোরে ‘ক্যাশম্যান’, ‘টাকা লোন’, ‘র্যাপিড ক্যাশ’, ‘পকেট লোন’ বা ‘হ্যান্ডি ক্যাশ’-এর মতো আকর্ষণীয় নামে শত শত অ্যাপ ছড়িয়ে রাখা হয়েছে। একজন সাধারণ মানুষ যখন টাকার জরুরি প্রয়োজনে এই অ্যাপগুলো ইনস্টল করেন, তখনই অজান্তেই তার ফোনের নিয়ন্ত্রণ চলে যায় প্রতারকদের হাতে। অ্যাপ সচল করার শর্ত হিসেবে কন্টাক্ট লিস্ট (যোগাযোগ তালিকা), গ্যালারির ছবি, ভিডিও এবং মেসেজের অ্যাক্সেস বা অনুমতি বাধ্যতামূলকভাবে কেড়ে নেয়া হয়। অধিকাংশ সাধারণ ব্যবহারকারী শর্তাবলি না পড়েই ‘অ্যালাউ’ (অনুমতি) বাটনে ক্লিক করে নিজের সব ব্যক্তিগত গোপনীয়তা তুলে দেন অপরাধীদের হাতে।
সুদের হার নয়, এ যেন রক্তচোষা নীতি: অ্যাপগুলোর ঋণের হিসাব নিকাশ কোনো ব্যাংকিং নিয়মের মধ্যে পড়ে না। রিপোর্টে জানা গেছে, কোনো গ্রাহক যদি তিন হাজার টাকা ঋণের আবেদন করেন, তবে প্রসেসিং ফি বা অগ্রিম চার্জ কেটে তাকে দেয়া হয় মাত্র এক হাজার ৮০০ থেকে দুই হাজার টাকা। কিন্তু মাত্র সাত দিন পর তাকে পরিশোধ করতে বলা হয় পুরো তিন হাজার টাকা কিংবা তারও বেশি। অর্থাৎ মাত্র এক সপ্তাহে সুদের হার দাঁড়ায় ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত। বার্ষিক হিসাবে যা হাজার শতাংশ ছাড়িয়ে যায়। সাধারণ ব্যাংকিং বা অনুমোদিত এমএফএস (এমএফএস) যেখানে সীমিত এবং যৌক্তিক সুদে ঋণ দেয়, সেখানে এই অবৈধ অ্যাপগুলো রীতিমতো রক্তচোষা নীতি অবলম্বন করছে।
এক ভুক্তভোগীর জীবন্ত নরকযন্ত্রণা: রাজধানীর একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী শরিফুল ইসলামের (ছদ্মনাম) অভিজ্ঞতা থেকে এই মরণফাঁদের বাস্তব চিত্র তুলে ধরা হলো। মায়ের চিকিৎসার জন্য জরুরি পাঁচ হাজার টাকার প্রয়োজনে তিনি একটি অ্যাপ থেকে ঋণ নিয়েছিলেন। শরিফুল জানান, ‘হাতে পেয়েছিলাম তিন হাজার ৪শ টাকা। ৭ দিন পর আমাকে পাঁচ হাজার টাকাই শোধ করতে বলা হয়। বেতন পেতে দেরি থাকায় মাত্র ২ দিন সময় চেয়েছিলাম। এর মধ্যেই তারা আমার ফোনের কন্টাক্ট লিস্টের সবার নম্বর ও গ্যালারির ছবি চুরি করে। আমার আত্মীয়স্বজন, এমনকি অফিসের বসের নম্বরে ফোন করে আমাকে চরম অপমান করা হয়। এখানেই শেষ নয়, আমার সাধারণ ছবি এআই দিয়ে নগ্ন বানিয়ে আমার স্ত্রীর হোয়াটসঅ্যাপে পাঠায় তারা। লোকলজ্জার ভয়ে আমি চাকরি ছেড়ে গ্রামে পালিয়ে আসতে বাধ্য হয়েছি।’ শরিফুলের মতো এমন হাজারো মানুষ আজ নিজ সমাজে ‘স্মার্ট অপরাধীদের’ কাছে জিম্মি হয়ে ধুঁকে ধুঁকে মরছেন।
মানসিক নির্যাতন ও ব্ল্যাকমেইলের ভয়ঙ্কর কৌশল : ডিজিটাল লোন প্রতারণার সবচেয়ে ভয়ঙ্কর দিকটি হলো এর উসুল বা কালেকশন পদ্ধতি। মাত্র ১ দিন বা কয়েক ঘণ্টা ঋণ পরিশোধে দেরি হলেই শুরু হয় আসল খেলা। চক্রের সদস্যরা গ্রাহককে ফোন করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে। এরপরও টাকা না পেলে, গ্রাহকের অজান্তে চুরি করা কন্টাক্ট লিস্টের সবাইকে ফোন দেয়া হয়। স্বজন, বন্ধু, সহকর্মী এমনকি অফিসের বসের নম্বরে ফোন দিয়ে ওই গ্রাহককে ‘চোর’, ‘প্রতারক’ কিংবা ‘লম্পট’ বলে অপপ্রচার চালানো হয়। সবচেয়ে মারাত্মক রূপ নেয় গ্যালারি থেকে চুরি করা ছবি নিয়ে। গ্রাহকের সাধারণ ছবিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ‘এআই’ প্রযুক্তির সাহায্যে এডিট করে আপত্তিকর বা নগ্ন ছবিতে রূপান্তর করা হয়। এরপর সেই ছবি গ্রাহকের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে পাঠিয়ে হুমকি দিয়ে বলা হয়, ‘টাকা না দিলে এই ছবি তোমার বাবা, মা, সন্তান এবং ফেসবুক বন্ধুদের পাঠিয়ে দেয়া হবে’। সামাজিক মর্যাদার ভয়ে সাধারণ মানুষ তখন নিজের শেষ সম্বল বিক্রি করে কিংবা সুদের ওপর আরো লোন নিয়ে এই চক্রকে টাকা দিতে বাধ্য হন। কিন্তু এখানেই শেষ হয় না; একবার টাকা দিলে আরো বড় অঙ্কের ডিমান্ড বা দাবি ছুড়ে দেয় এই সাইবার অপরাধীরা।
নেপথ্যে আন্তর্জাতিক চক্র ও অর্থপাচারের গোপন রুট : গোয়েন্দা পুলিশ ও সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন বিভাগের একাধিক অভিযানে বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। এই অ্যাপভিত্তিক লোন সিন্ডিকেটের মূল হোতারা মূলত চীন, নাইজেরিয়া এবং পার্শ্ববর্তী দেশের নাগরিক। তারা বাংলাদেশে স্থানীয় কিছু আইটি ও কল সেন্টারের তরুণ-তারুণীদের চড়া বেতনে চাকরি দিয়ে এই কল সেন্টারগুলো পরিচালনা করে। অর্থপাচারের জন্য তারা অত্যন্ত জটিল ও আধুনিক রুট ব্যবহার করে। দেশের ভেতরে টাকা লেনদেনের জন্য তারা ব্যবহার করে সাধারণ ও প্রান্তিক মানুষের নামে টাকার বিনিময়ে খুলে নেয়া বেনামী বিকাশ, নগদ বা রকেট অ্যাকাউন্ট। এই এমএফএস অ্যাকাউন্টগুলোতে জমা হওয়া টাকা প্রথমে বিভিন্ন লেয়ার বা স্তরে ভাগ করা হয়। এরপর স্থানীয় এজেন্টদের মাধ্যমে সেই টাকা ডলারে রূপান্তর করে ক্রিপ্টোকারেন্সি (ইউএসডিটি: বা বাইনান্সের পিটুপি) মার্কেটের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ওয়ালেটে পাচার করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে সীমান্ত এলাকার হুন্ডি চক্রের মাধ্যমেও এই টাকা সরাসরি প্রতিবেশী দেশগুলোতে চলে যাচ্ছে। প্রতিদিন কোটি কোটি টাকা এভাবে অবৈধ উপায়ে বিদেশে পাচার হয়ে যাওয়ায় দেশের অর্থনীতি যেমন বড় রাজস্ব হারাচ্ছে, তেমনি দেশের কোটি কোটি মানুষের ব্যক্তিগত ও জাতীয় ডাটা চলে যাচ্ছে বিদেশী হ্যাকারদের সার্ভারে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযান ও বক্তব্য : সম্প্রতি এই চক্রের দেশীয় এজেন্ট ও কল সেন্টারগুলোর বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযানে নেমেছে পুলিশ। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি), পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) এবং অ্যান্টি-টেরোরিজম ইউনিট (এটিইউ) রাজধানীর উত্তরা, মিরপুর ও ধানমন্ডির বেশ কয়েকটি অবৈধ ডাটা সেন্টার ও কল সেন্টারে অভিযান চালিয়ে চক্রের পরিচালক, টিম লিডার ও আইটি বিশেষজ্ঞসহ বিপুলসংখ্যক দেশীয় এজেন্টকে গ্রেফতার করেছে। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ব্ল্যাকমেইলের কাজে ব্যবহৃত ল্যাপটপ, শত শত সিমকার্ড এবং বিপুল পরিমাণ টাকা পাচারের হিসাব।
এ বিষয়ে সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নয়া দিগন্তকে বলেন, ‘এই চক্রগুলো সম্পূর্ণ অবৈধ ও লাইসেন্সবিহীনভাবে অ্যাপের মাধ্যমে সুদের ব্যবসা ও ব্ল্যাকমেইলিং চালাচ্ছিল। আমরা এর মধ্যেই বেশ কয়েকজন মাস্টারমাইন্ড ও তাদের দেশীয় সহযোগীদের গ্রেফতার করেছি। তবে মূল হোতারা দেশের বাইরে থাকায় তাদের ধরতে ইন্টারপোলের সহায়তা নেয়া হচ্ছে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে সচেতন হতে হবে, কোনো অপরিচিত অ্যাপকে নিজের ফোনের গ্যালারি বা কন্টাক্ট লিস্টের অ্যাক্সেস দেয়া যাবে না।’ অন্যদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকেও স্পষ্ট জানিয়ে দেয়া হয়েছে যে, লাইসেন্সহীনভাবে মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে এভাবে ক্ষুদ্র ঋণ দেয়া সম্পূর্ণ বেআইনি এবং আর্থিক অপরাধ।
এ প্রসঙ্গে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) মো: জসীম উদ্দিন খান নয়া দিগন্তকে বলেন, অনলাইন জুয়া ও সংশ্লিষ্ট অবৈধ আর্থিক কার্যক্রম প্রতিরোধে সিআইডির এ ধরনের সাইবার মনিটরিং কার্যক্রম নিয়মিত পরিচালিত হচ্ছে। অপরাধের পূর্ণাঙ্গ তথ্য উদঘাটন, অজ্ঞাত অপর সদস্যদের শনাক্তকরণ ও অন্যান্য আইনানুগ প্রক্রিয়ার স্বার্থে সিআইডির তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
সিআইডির তথ্য বলছে শুধু গত মাসে জুয়ার সাথে জড়িত ওয়েবসাইট শনাক্ত করে ডাউন করার জন্য বিটিআরসিতে অবৈধ লেনদেনের সাথে সংশ্লিষ্ট বিএফআইইউতে পাঠানো এমএফএস হিসাবের সংখ্যা ৯ শতাধিক তার মধ্যে অবৈধ লেনদেনের সাথে সংশ্লিষ্ট বিএফআইইউতে পাঠানো ব্যাংক হিসাবের সংখ্যাই রয়েছে অর্ধশতাধিক।
এ ছাড়াও পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারে সিআইডি বিএফআইইউ ও আন্তর্জাতিক আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সাথে সমন্বয় করে কাজ করছে। গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে চক্রটির আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক ও সংশ্লিষ্ট ক্রিপ্টো ওয়ালেট শনাক্তের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এর আগে সিআইডি ‘এমটিএফই’ পনজি স্কিমে পাচার হওয়া প্রায় ৪৪ কোটি টাকা দেশে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছিল।
আইনগত শূন্যতা ও নজরদারির অভাব : বাংলাদেশ ব্যাংক ও বিটিআরসি মাঝে মধ্যে কিছু অবৈধ অ্যাপ ব্লক করলেও এই অপরাধ পুরোপুরি দমানো যাচ্ছে না। প্লে স্টোর থেকে একটি অ্যাপ বন্ধ হলে, পরের দিনই ভিন্ন নামে আরেকটি অ্যাপ চলে আসছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশে সাইবার নিরাপত্তা আইন থাকলেও অ্যাপভিত্তিক এই সুনির্দিষ্ট প্রতারণা ও অতি ক্ষুদ্রঋণের লাইসেন্সহীন ব্যবসার বিরুদ্ধে কঠোর এবং সমন্বিত কোনো তদারকি সেল নেই। বিটিআরসি, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যৌথ সমন্বয়ের অভাবকে কাজে লাগিয়ে পার পেয়ে যাচ্ছে এই অপরাধী চক্র।