উৎসব মানেই আনন্দ, উত্তেজনা আর প্রস্তুতির ব্যস্ততা। বিশেষ করে পহেলা বৈশাখ, ঈদ বা অন্য কোনো বিশেষ দিনে আগের রাতটা কেমন যেন অন্যরকম লাগে। নতুন পোশাক, পরিকল্পনা, কোথায় যাবেন, সবকিছু ভাবতে ভাবতেই অনেক সময় রাত জেগে যায়। কিন্তু ঠিকমতো ঘুম না হলে পরের দিনের আনন্দটাই মাটি হয়ে যেতে পারে। তাই উৎসবের আগের রাতে ভালো ঘুম খুবই জরুরি।
আসুন জেনে নেওযা যাক উৎসবের আগে ভালো ঘুমের জন্য কী করবেন-
প্রথমেই চেষ্টা করুন রাতের খাবারটা হালকা রাখার। ভারী বা অতিরিক্ত তেল-ঝাল খাবার খেলে হজমে সমস্যা হতে পারে, যা ঘুমে ব্যাঘাত ঘটায়। সহজপাচ্য খাবার যেমন ভাত, সবজি বা হালকা প্রোটিন জাতীয় খাবার খেলে শরীর আরাম পায় এবং দ্রুত ঘুম আসে।
একটি নির্দিষ্ট সময় ঠিক করে ঘুমাতে যাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। উৎসবের আগের দিন হলেও চেষ্টা করুন স্বাভাবিক রুটিন মেনে চলতে। এতে শরীরের বায়োলজিক্যাল ক্লক ঠিক থাকে এবং সহজেই ঘুম আসে।
ঘুমানোর আগে হালকা গরম পানি দিয়ে গোসল করতে পারেন। এটি শরীরের ক্লান্তি দূর করে এবং মনকে শান্ত করে। চাইলে একটি বই পড়তে পারেন বা হালকা সঙ্গীত শুনতে পারেন, যা মনকে রিল্যাক্স করে এবং ঘুম আনতে সাহায্য করে।
ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় যেমন চা বা কফি সন্ধ্যার পর এড়িয়ে চলা ভালো। এগুলো শরীরকে উত্তেজিত করে রাখে এবং ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায়। তার বদলে হালকা গরম দুধ বা হার্বাল চা পান করতে পারেন, যা ঘুমের জন্য সহায়ক।
ঘুমানোর পরিবেশটিও আরামদায়ক হওয়া জরুরি। ঘর যেন খুব গরম বা ঠান্ডা না হয়, বিছানা পরিষ্কার ও আরামদায়ক থাকে সে বিষয়গুলো খেয়াল রাখুন। হালকা আলো বা সম্পূর্ণ অন্ধকার পরিবেশ ঘুমের জন্য উপযোগী।
ঘুমানোর আগে মোবাইল ফোন বা অন্যান্য স্ক্রিন থেকে দূরে থাকাও খুব গুরুত্বপূর্ণ। ফোনে সোশ্যাল মিডিয়া স্ক্রল করতে করতে অনেক সময় কেটে যায়, আর মস্তিষ্ক তখনও সক্রিয় থাকে। এতে ঘুম আসতে দেরি হয়। তাই অন্তত ঘুমানোর ৩০ মিনিট আগে ফোন বা ল্যাপটপ ব্যবহার বন্ধ করুন।
মাথায় অতিরিক্ত চিন্তা না রাখার চেষ্টা করুন। আগামী দিনের পরিকল্পনা আগে থেকেই গুছিয়ে রাখলে মানসিক চাপ কমে যায়। এতে ঘুমও ভালো হয়।
সুস্থ শরীর ও সতেজ মন নিয়ে উৎসব উপভোগ করতে চাইলে আগের রাতে ভালো ঘুমের বিকল্প নেই। তাই একটু সচেতন থাকুন, নিয়ম মেনে চলুন এবং পরের দিনের আনন্দকে করুন আরও উপভোগ্য।
সূত্র: টাইম ফর স্লিপ, হিন্দুস্তান টাইমস, মায়ো ক্লিনিক
এসএকেওয়াই