সিপিসি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯২১ সালে মাত্র ১৩ জন সদস্য নিয়ে। ক্ষমতা দখল করে ১৯৪৯ সালে। সে সময় চীন ছিল কৃষিনির্ভর অনুন্নত এক দেশ। ৭৭ বছর শেষে আজ দেশটি বিশ্বের দ্বিতীয় শক্তিশালী অর্থনীতি। ১৫১টি দেশের প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদার তারা। কেবল এই তথ্যটুকু জানাচ্ছে চীনের লংমার্চের ধারাবাহিকতা কী তীব্রতায় নিজেকে প্রধান পরাশক্তি ঘোষণা করতে চাইছে। ১৯৪৯ সালে বিপ্লবের বছর চীনের জিডিপির আকার ছিল ১৪ বিলিয়ন ডলার। এখন সেটি ১৯ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে; যা ১৩০০–১৪০০ গুণ বড়!
চীনের বিপ্লবের ২৬ মাস আগে আমরা পূর্ববাংলার মানুষ ব্রিটিশ উপনিবেশমুক্ত হই। সমাজতান্ত্রিক চীনকে স্বীকৃতি দেওয়া প্রথম মুসলিমপ্রধান দেশ ছিল পাকিস্তান। উভয় দেশের জিডিপির ব্যবধান ছিল তখন সামান্য। পরের তিন দশক পাকিস্তানই গতানুগতিক উন্নয়ন সূচকে এগিয়ে ছিল; কিন্তু ১৯৮০–এর দশক থেকে পরিস্থিতি আর তুলনাযোগ্য নেই! দেংয়ের আমল থেকে ৯-১০ শতাংশ হারে জিডিপির প্রবৃদ্ধি ঘটতে শুরু করে চীনে। বাংলাদেশে যা ঘটে গড়ে ৫ শতাংশ হারে। পাকিস্তানে আরও কম।
ব্যবধানের বড় দিক কেবল জিডিপির হিসাবে বোঝা যায় না। গত চার দশকে চীন ভারী শিল্প ও মেগা অবকাঠামোতে চোখধাঁধানো অগ্রগতি সাধন করেছে। এখন তারা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নেতা। অন্যদিকে বাংলাদেশের ভরসা আগের সেই তৈরি পোশাক খাত ও প্রবাসী আয়ে। পাকিস্তানের নির্ভরতা টেক্সটাইলে। এই উভয় দেশে দারিদ্র্যের হার এখনো অনেক উচ্চ।