ধ্বংসের হাত থেকে ইসলামী ব্যাংক রক্ষায় সাত দফা দাবিতে গভর্নরের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেছে ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুরে ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরামের নেতৃবৃন্দ বাংলাদেশ ব্যাংকে গিয়ে গভর্নরের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন। এসময় ইসলামী ব্যাংকের ভুক্তভোগী শেয়ারহোল্ডার ও গ্রাহকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে বেরিয়ে ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরামের আহ্বায়ক অধ্যাপক নুর নবী মানিক সাংবাদিকদের জানান, “ অবিলম্বে অংশীজনদের সাথে আলোচনার ভিত্তিতে সৎ, যোগ্য, অভিজ্ঞ ও পেশাদার ব্যক্তিদের সমন্বয়ে ইসলামী ব্যাংকের একটি পূর্ণাঙ্গ ও স্বাধীন পরিচালনা পর্ষদ গঠন’, ‘২০১৭ সালে গায়ের জোরে ও রাষ্ট্রীয় শক্তি ব্যবহার করে ইসলামী ব্যাংকের যেসকল শেয়ারহোল্ডারদের থেকে বৈধ মালিকানা কেড়ে নেওয়া হয়েছিল, তাদের মালিকানা ফিরিয়ে দেওয়া’, ‘ব্যাংক লুটেরাদের বিচারের জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন এবং এস আলম সহ যারা ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা লুট করেছে, তাদের দ্রুত বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা’, ‘ইসলামী ব্যাংকগুলোতে বিরাজমান আতঙ্ক দূর করা এবং ব্যাংকিং খাতে স্থিতিশীলতা আনয়নের লক্ষ্যে যেকোনো বিতর্কিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক ও সরকারকে বিরত থাকা’, ‘ব্যাংকের লুণ্ঠিত অর্থ উদ্ধার ও এস আলমের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা’, ‘ব্যাংক কোম্পানি আইনের ১৮/ক ধারা সংশোধনের মাধ্যমে লুটেরাদের পুনরায় ব্যাংকে পুনর্বাসনের যে ছদ্মবেশী সুযোগ রাখা হয়েছে, তা অবিলম্বে বাতিল করা’, ‘জাতীয় সংসদে ইসলামী ব্যাংক নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অসত্য বক্তব্য এবং ডাকাত এস আলমের হাতে পুনরায় ব্যাংক তুলে দেওয়ার যে প্রচ্ছন্ন আভাস দেওয়া হয়েছে, তা অনতিবিলম্বে প্রত্যাহার”- করার সাত দাবিতে গভর্নরের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। এসময় তিনি আরও বলেন, ইসলামী ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডার ও গ্রাহকদের সাত দফা দাবি মেনে নেওয়া হলে ইসলামী ব্যাংকে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে এবং গ্রাহকদের আস্থা বৃদ্ধি পাবে।

তিনি বলেন, ১৯৮৩ সালে ইসলামী ব্যাংক প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর সময়ের ব্যবধানে এটি এশিয়ার অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও আদর্শ ব্যাংক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছিল। ব্যাংকের ডিপোজিট, বিনিয়োগ, বৈদেশিক বাণিজ্য, সিএসআর এবং মুনাফা দেশের অন্য যেকোনো ১০টি ব্যাংকের সম্মিলিত অর্জনের চেয়েও বেশি ছিল। দেশের মোট রেমিট্যান্সের ৩ ভাগের ১ ভাগ ইসলামী ব্যাংক একাই সংগ্রহ করত। গ্রাহকদের আস্থা ও বিশ্বাস এমন এক উচ্চতায় পৌঁছেছিল যে, স্বাভাবিক বিনিয়োগের পরেও ব্যাংকে বিপুল উদ্বৃত্ত তহবিল জমা থাকত। সেই ধারাবাহিকতা ফিরিয়ে আনতে হলে ব্যাংকের প্রকৃত মালিকদের মালিকানা ফিরিয়ে দিয়ে মালিকদের সমন্বয়ে ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ গঠন করা জরুরি।



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews