গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলায় সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, তরুণ সমাজকে মাদকমুক্ত রাখা এবং বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের লক্ষ্যে বসুন্ধরা শুভসংঘের আয়োজনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবারপল্লী অগ্রগতি সংস্থার হলরুমে ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ ও বাল্যবিবাহ রোধে করণীয়’ শীর্ষক এই আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
বসুন্ধরা শুভসংঘ পলাশবাড়ী উপজেলা শাখার সভাপতি সুরুজ হক লিটনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন বসুন্ধরা শুভসংঘ পলাশবাড়ী উপজেলা শাখার সহ-সভাপতি সাংবাদিক নুরুল ইসলাম, ফজলুল হক দুদু, খবরবাড়ি টুয়েন্টিফোর ডটকমের সম্পাদক মুশফিকুর রহমান মিলটন, শিক্ষক আতোয়ার রহমান, শিক্ষিকা সাবিনা ইয়াসমিন, ফারজানা আক্তার, শিক্ষার্থী আফসানা খাতুন, ফারজানা আক্তার, পল্লী অগ্রগতি সংস্থার প্রোগ্রাম ম্যানেজার লিপি খাতুন, সাংবাদিক আমিরুল ইসলাম কবির, আরিফ উদ্দিন সহ বিভিন্ন বিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষার্থী, বসুন্ধরা শুভসংঘের সদস্যরা, অভিভাবক এবং স্থানীয় বাসিন্দারা।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, 'মাদকদ্রব্য আজ সমাজের জন্য এক ভয়াবহ ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে কিশোর-কিশোরী ও তরুণদের মধ্যে মাদকের বিস্তার উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। মাদকাসক্তি শুধু একজন ব্যক্তির জীবনই নয়, একটি পরিবার ও সমাজকেও ধ্বংস করে দেয়। বক্তারা মাদক ব্যবসায়ী ও সরবরাহকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।'
বক্তারা আরও বলেন, 'মাদক প্রতিরোধে পরিবারই প্রথম ও প্রধান ভূমিকা রাখতে পারে। সন্তানদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা, তাদের বন্ধু-বান্ধব ও চলাফেরার প্রতি নজর দেওয়া এবং নৈতিক শিক্ষার চর্চা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত সচেতনতামূলক সভা, সাংস্কৃতিক কার্যক্রম ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ইতিবাচক কাজে সম্পৃক্ত রাখার আহ্বান জানানো হয়।'
বাল্যবিবাহ প্রসঙ্গে আলোচনায় উঠে আসে, আইনগতভাবে বাল্যবিবাহ দণ্ডনীয় অপরাধ হলেও কিছু ক্ষেত্রে সামাজিক ও অর্থনৈতিক কারণে এখনো গোপনে বাল্যবিবাহ সংঘটিত হচ্ছে। বক্তারা বলেন, বাল্যবিবাহের ফলে মেয়েদের শিক্ষাজীবন বাধাগ্রস্ত হয়, অল্প বয়সে মাতৃত্বের কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ে এবং অনেক সময় পারিবারিক সহিংসতা ও সামাজিক অস্থিরতার সৃষ্টি হয়।
উপস্থিত বক্তারা মেয়েদের শিক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে বলেন, একটি মেয়ে শিক্ষিত হলে একটি পরিবার শিক্ষিত হয়। তাই কন্যাশিশুকে বিদ্যালয়ে ধরে রাখা, ঝরে পড়া রোধ এবং অভিভাবকদের মানসিকতার পরিবর্তন অত্যন্ত প্রয়োজন। প্রশাসনের পাশাপাশি সমাজের সচেতন মহল, জনপ্রতিনিধি ও ধর্মীয় নেতৃবৃন্দকে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।
এসময় বক্তারা বসুন্ধরা শুভসংঘের এ উদ্যোগকে সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় বলে উল্লেখ করেন। তারা বলেন, ‘তরুণ সমাজকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে এবং একটি সুস্থ-সবল সমাজ গঠনে এ ধরনের কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’
বসুন্ধরা শুভসংঘ পলাশবাড়ী উপজেলা শাখার সভাপতি সুরুজ হক লিটন বলেন, ‘পলাশবাড়ী উপজেলায় মাদক ও বাল্যবিবাহ নির্মূলে ধারাবাহিকভাবে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। স্কুল-কলেজভিত্তিক সেমিনার, লিফলেট বিতরণ, র্যালি ও উঠান বৈঠকের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মাঝে সচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।’
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, ‘এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে পলাশবাড়ী উপজেলাকে মাদক ও বাল্যবিবাহমুক্ত একটি মডেল উপজেলায় পরিণত করা সম্ভব হবে।’
বিডি-প্রতিদিন/তানিয়া