বিশ্বকাপে অংশ নিতে মেক্সিকোয় পৌঁছেছে ইরানের ফুটবল দল। রোববার টিজুয়ানায় পৌঁছানোর পর যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নিয়ে দলের ডিফেন্ডার এহসান হাজসাফি ফিফার প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
তিনি বলেন, “প্রথমেই আমরা খুশি যে দল অবশেষে এসে পৌঁছেছে। আল্লাহর রহমতে দলের অবস্থা ভালো। তবে আমার অভিযোগ হলো—কেন এত দেরি হলো? যতদূর জানি, শুধু খেলোয়াড় আর কয়েকজন কোচিং স্টাফকে ভিসা দেওয়া হয়েছে।”
ইরান ফুটবল ফেডারেশনের মহাসচিব হেদায়াত মোমবেনি এবং সহ-সভাপতি মেহদি মোহাম্মদ নাবি এখনো যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পাননি।
দলের ম্যানেজার, নির্বাহী পরিচালক ও মিডিয়া পরিচালকসহ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাও যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি পাননি। এ বিষয়ে ফিফাকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন হাজসাফি।
গত তিন সপ্তাহ ধরে তুরস্কে অনুশীলন করছিল ইরান দল। যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের জন্য ভিসা পাওয়া যাবে কি না, সেই অনিশ্চয়তার কারণে ইরানের ফুটবল ফেডারেশন শেষ মুহূর্তে দলের বেইস ক্যাম্প অ্যারিজোনা থেকে সরিয়ে নেয় মেক্সিকোর টিহুয়ানায়।
স্থানীয় সময় ভোর ৫টা ৫ মিনিটে বিমান অবতরণের পর খেলোয়াড়রা নীল ব্লেজার ও সাদা টি-শার্ট পরে বাসে ওঠেন।
বিমানবন্দরের বাইরে প্রায় ২০ জন মত সমর্থক পতাকা নাড়িয়ে দলকে স্বাগত জানান।
মার্কিন কর্মকর্তারা অবশ্য বছলেন, সব খেলোয়াড় ভিসা পেয়েছেন। কোচ, ট্রেইনার ও কিছু সহায়ক কর্মীও অনুমোদন পেয়েছেন। তবে কয়েকজন আবেদনকারীকে “ভুল তথ্য দিয়ে ভিসা চাওয়ার” অভিযোগে বাতিল করা হয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, খেলোয়াড় ও স্টাফদের নিয়ে সমস্যা নেই, তবে আইআরজিসি-সংশ্লিষ্ট কাউকে দলের সঙ্গে ঢুকতে দেওয়া হবে না।
১৯৩০ সালে বিশ্বকাপের যাত্রা শুরুর পর এই প্রথম এমন একটি আসর হতে হচ্ছে, যেখানে আয়োজক দেশ এমন এক দেশকে আতিথ্য দিতে যাচ্ছে, যাদের সঙ্গে তাদের যুদ্ধ চলছে।
ইরানের ক্লাব ফুটবল গত ফেব্রুয়ারি থেকে যুদ্ধের কারণে স্থগিত রয়েছে। সোমবার চূড়ান্ত দল ঘোষণা করা হয়েছে, যেখানে ১৭ জন দেশীয় খেলোয়াড় রয়েছেন।
এই পরিস্থিতি আবারও দেখাচ্ছে কিভাবে আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশ্বকাপের মতো বড় ক্রীড়া আসরকে প্রভাবিত করছে।
আগামী ১৫ জুন ক্যালিফোর্নিয়ায় নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে ইরান। একই মাঠে ২১ জুন তাদের প্রতিপক্ষ বেলজিয়াম। সিয়াটলে ২৬ জুন গ্রুপ পর্বে তারা শেষ ম্যাচ খেলবে মিশরের বিপক্ষে।
হোয়াইট হাউজ বলেছে, ম্যাচ শেষ করে সেই দিনই যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করতে হবে ইরান দলকে, পরের ম্যাচের দিন ফিরতে হবে আবার। এভাবেই খেলতে হবে তাদের।
নকআউট রাউন্ডের প্রথমেই মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা আছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের, যদি উভয় দল গ্রুপে দ্বিতীয় হয়।