অনেক নারীই অভিযোগ করেন—হঠাৎ করেই নিতম্ব বা গ্লুট অংশে মেদ জমে যাচ্ছে, যা পোশাক পরতে অস্বস্তি তৈরি করে এবং আত্মবিশ্বাসেও প্রভাব ফেলে। বাস্তবে এটি “হঠাৎ” ঘটে না; বরং শরীরের স্বাভাবিক হরমোন, জীবনযাপন, খাদ্যাভ্যাস এবং জেনেটিক প্রবণতার ফলেই এই পরিবর্তন দেখা যায়।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নারীদের শরীরে স্বাভাবিকভাবেই নিতম্ব ও উরুতে চর্বি জমার প্রবণতা বেশি থাকে। এটি মূলত হরমোনজনিত কারণে ঘটে এবং অনেক ক্ষেত্রে এটি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর নয়। তবে অতিরিক্ত মেদ হলে তা কমানোর জন্য নিয়মিত জীবনযাপনে কিছু পরিবর্তন আনা জরুরি।
নারীদের শরীরে ইস্ট্রোজেন হরমোনের কারণে নিতম্ব, উরু এবং কোমরে চর্বি জমা বেশি হয়। এছাড়া দীর্ঘ সময় বসে থাকা, কম শারীরিক পরিশ্রম, অতিরিক্ত ক্যালোরিযুক্ত খাবার এবং অনিয়মিত ঘুম—এসবই মেদ জমার প্রধান কারণ। অনেক সময় জেনেটিক কারণেও এই অংশে ফ্যাট বেশি দেখা যায়।
ফিটনেস বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীরের নির্দিষ্ট একটি অংশের মেদ আলাদাভাবে কমানো সম্ভব নয়। অর্থাৎ শুধুমাত্র গ্লুট কমাতে চাইলে পুরো শরীরের ফ্যাট কমানোর দিকে মনোযোগ দিতে হবে। তবে কিছু ব্যায়াম এই অংশকে টোনড ও ফার্ম করতে সাহায্য করে।
হাঁটা (Walking): প্রতিদিন ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট দ্রুত হাঁটা শরীরের অতিরিক্ত ক্যালোরি বার্ন করে এবং ধীরে ধীরে মেদ কমাতে সাহায্য করে।
স্কোয়াট (Squat): স্কোয়াট গ্লুট এবং উরুর জন্য কার্যকর একটি ব্যায়াম। প্রতিদিন ১০–১৫ বার করে ২–৩ সেট দিয়ে শুরু করা যেতে পারে।
লাঞ্জ (Lunges): এই ব্যায়াম নিতম্ব ও পায়ের পেশিকে শক্তিশালী করে এবং ফ্যাট কমাতে সহায়ক।
গ্লুট ব্রিজ (Glute Bridge): মেঝেতে শুয়ে এই ব্যায়ামটি করলে নিতম্বের পেশি টোনড হয়।
স্টেপ-আপ (Step-up): সিঁড়ি ব্যবহার করে এই ব্যায়াম করলে ক্যালোরি বার্ন বাড়ে এবং গ্লুট অংশে কাজ করে।
খাদ্যাভ্যাসে কী পরিবর্তন আনবেন১. ক্যালোরি নিয়ন্ত্রণ: অতিরিক্ত ক্যালোরিযুক্ত খাবার কমিয়ে দিন। বিশেষ করে ভাজাপোড়া, ফাস্টফুড এবং মিষ্টি খাবার এড়িয়ে চলুন। ২. প্রোটিন বাড়ান: ডিম, মাছ, মুরগি, ডাল—এসব প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার পেশি গঠনে সাহায্য করে এবং দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখে। ৩. ফাইবারযুক্ত খাবার খান: শাকসবজি, ফলমূল ও সম্পূর্ণ শস্য হজম ভালো রাখে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক। ৪. পানি বেশি পান করুন: পর্যাপ্ত পানি শরীরের মেটাবলিজম বাড়ায় এবং টক্সিন দূর করতে সাহায্য করে। ৫. চিনি ও প্রসেসড খাবার কমান: কার্বনেটেড ড্রিংকস, প্যাকেটজাত খাবার ও অতিরিক্ত চিনি দ্রুত ফ্যাট বাড়ায়।
নিয়মিত ঘুম, মানসিক চাপ কমানো এবং দীর্ঘ সময় বসে না থাকা—এই অভ্যাসগুলোও ওজন নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রতিদিন অন্তত ৭–৮ ঘণ্টা ঘুমানোর চেষ্টা করুন এবং কাজের মাঝে মাঝে উঠে নড়াচড়া করুন।