ঘুমের মধ্যে স্বপ্ন দেখার অভিজ্ঞতা সবার আছে। আপনি নিশ্চয় জানেন যে, বেশিরভাগ সময় ভালো স্বপ্ন মনে থাকে না, কিন্তু ভয়ংকর বা খারাপ স্বপ্ন অনেক সময় ঘুম ভেঙে দেয় এবং সারাদিন মানসিক অস্থিরতা তৈরি করে। মানুষ স্বপ্ন কেন দেখে—তার সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা এখনও বিজ্ঞান পুরোপুরি দিতে পারেনি। তবে ভয়ানক স্বপ্ন দেখার পেছনে কয়েকটি সাধারণ কারণ চিহ্নিত করা গেছে।

১. মানসিক চাপ
কাজ, পড়াশোনা, সম্পর্ক বা পারিবারিক সমস্যা নিয়ে অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা মানসিক চাপ তৈরি করে। এই চাপ ঘুমের মধ্যেও কাজ করে এবং দুঃস্বপ্নের কারণ হতে পারে। প্রিয়জনের মৃত্যু বা দূরে চলে যাওয়ার মতো ঘটনাও এমন স্বপ্ন ডেকে আনতে পারে।

- Advertisement -

২. মানসিক আঘাত
হঠাৎ কোনো দুর্ঘটনা, শারীরিক বা যৌন নির্যাতন, ধর্ষণ বা ভয়াবহ অভিজ্ঞতা মনের ওপর গভীর প্রভাব ফেলে। এ ধরনের ট্রমার ফলে অনেকের মধ্যে Post-Traumatic Stress Disorder (PTSD) দেখা দিতে পারে, যার একটি লক্ষণ হলো বারবার দুঃস্বপ্ন দেখা।

মানসিক রোগ
কিছু মানসিক অসুস্থতা দুঃস্বপ্নের ঝুঁকি বাড়ায়। যেমন— Bipolar Disorder, Depression এবং Schizophrenia. এ ছাড়া বারবার প্যানিক অ্যাটাকের সমস্যাও ভয়ংকর স্বপ্নের কারণ হতে পারে।

কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
অ্যান্টিডিপ্রেস্যান্ট, রক্তচাপের ওষুধ বা পার্কিনসন্স রোগের ওষুধ খাওয়ার ফলে অনেক সময় তীব্র স্বপ্ন দেখা যায়। আবার হঠাৎ ওষুধ বন্ধ করলেও এমন সমস্যা হতে পারে।

ঘুমের অনিয়ম
পর্যাপ্ত ও গভীর ঘুম না হলে বা ঘুমের সময়ের পরিবর্তন হলে দুঃস্বপ্নের প্রবণতা বাড়ে। অনিয়মিত জীবনযাপন এর একটি বড় কারণ।

শোয়ার ঠিক আগে খাওয়া
ঘুমানোর ঠিক আগে ভারী খাবার খেলে শরীরের বিপাকক্রিয়া (মেটাবলিজম) বেড়ে যায় এবং মস্তিষ্ক বেশি সক্রিয় হয়ে ওঠে। ফলে স্বপ্ন তীব্র হতে পারে।

স্লিপ অ্যাপনিয়া
যাদের Sleep Apnea রয়েছে, তাদের ঘুমের মধ্যে শ্বাসপ্রশ্বাসে ব্যাঘাত ঘটে। এর প্রভাবে ঘন ঘন ঘুম ভাঙা এবং দুঃস্বপ্ন দেখা স্বাভাবিক।

ভয়ের বই, সিনেমা বা ভিডিও গেম
ঘুমানোর আগে ভৌতিক বই পড়া, সিনেমা দেখা বা উত্তেজনাপূর্ণ ভিডিও গেম খেলা মস্তিষ্কে গভীর প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে শোয়ার ঠিক আগে এসব করলে তার প্রভাব বেশি থাকে।

কী করবেন?
ভয়ংকর স্বপ্ন কমাতে কিছু অভ্যাস বদলানো জরুরি— প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমাতে যাওয়া ও ঘুম থেকে ওঠা, অ্যালকোহল, সিগারেট ও অতিরিক্ত ক্যাফেইন এড়িয়ে চলার অভ্যাস গড়ে তুলতে পারলে ভয়ংকর স্বপ্ন দেখার প্রবণতা কমতে পারে। এ ছাড়া দিনের শুরুতে হালকা ব্যায়াম করা, ঘুমের আগে টিভি, মোবাইল বা ভিডিও গেম ব্যবহার না করা এবং শোয়ার অন্তত ২–৩ ঘণ্টা আগে রাতের খাবার শেষ করার অভ্যাস গড়ে তোলাও প্রয়োজন।

এসব নিয়ম মেনে চলার পরও যদি দুঃস্বপ্ন নিয়মিত হতে থাকে বা মানসিক অস্থিরতা বাড়ে, তবে অবশ্যই একজন চিকিৎসক বা মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

- Advertisement -



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews