চলতি বছরের প্রথম চার মাসেই ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি আয় কমেছে প্রায় ২০ শতাংশ। শুধু রপ্তানির পরিমাণই নয়, বাংলাদেশি কাপড়ের গড় মূল্যও কমেছে। এটা দেশের রপ্তানি বাণিজ্যের জন্য অশনিসংকেত। কারণ ইইউর বাজারে মন্দার প্রভাবে চীন, তুরস্ক, ভারত, ভিয়েতনামের মতো প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোও নেতিবাচকতার মুখে পড়েছে সত্যি। কিন্তু তাদের তুলনায় বাংলাদেশের পিছিয়ে পড়ার হার উদ্বেগজনকভাবে বেশি। ইইউর পরিসংখ্যান সংস্থা ইউরোস্ট্যাটের সাম্প্রতিক তথ্য-বিশ্লেষণে এই হতোদ্দশা প্রকাশ পেয়েছে। গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট এবং উৎপাদন খরচ বৃদ্ধির কারণে দেশের তৈরি পোশাক খাত যখন এমনিতেই যথেষ্ট চাপে রয়েছে, তখন বিশ্বে আমাদের অন্যতম প্রধান বাজারে অব্যাহত পতন, নতুন করে উদ্বেগ আরও গভীর করেছে। এ অবস্থায় বাজার ধরে রাখতে বাংলাদেশ পোশাকের দাম কমাতে বাধ্য হচ্ছে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, তাতে কি দেশের পোশাকশিল্প অস্তিত্ব ধরে রাখতে পারবে? বিশেষজ্ঞরা আঙুল তুলছেন সামগ্রিক পরিস্থিতির সংকট ও অসংগতিগুলোর দিকে। বলছেন বৈশ্বিক অর্থনীতির ধীরগতি, ক্রেতাদের সতর্ক ক্রয়নীতি, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, জ্বালানিসংকট ও প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর আগ্রাসি বাজারকৌশল এবং বিশেষত আমাদের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে সিদ্ধান্তে ধীরগতির কারণে পোশাক খাত এ গভীর সমস্যায় পড়ছে। পৌঁছেছে পতনের খাদের কিনারে। তবে হোক পরিস্থিতি ঘোর প্রতিকূল। হতোদ্যম হলে চলবে না। বৈশ্বিক বাজারে টিকে থাকার অতি সাম্প্রতিক চ্যালেঞ্জ যতই গুরুভার হোক না কেন, বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের সম্ভাবনা এখনো শক্তিশালী। শুধু কম দামে উৎপাদনের ওপর নির্ভর না করে, উচ্চমূল্যের পণ্য, প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদন, কৃত্রিম তন্তুভিত্তিক পোশাক এবং নতুন নতুন বাজারে প্রবেশের মাধ্যমে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা বাড়াতে হবে। কেউ আমাদের কোনো ছাড় দেবে না। কেউ কোনো ত্রুটিবিচ্যুতিও মেনে নেবে না। ফলে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক রপ্তানি বাণিজ্যের রীতিনীতি, নিয়ম কাঠামো ষোলো আনা প্রতিপালন করেই এগোতে হবে। এ ক্ষেত্রে উদ্যোক্তাদের সচেতন হতে হবে। সহায়তার হাত বাড়াতে হবে সরকার এবং অংশীজনদের। প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতা, এমনকি প্রণোদনা দিয়ে টিকিয়ে রাখাই শুধু নয়-ঋদ্ধ করতে হবে শ্রমঘন বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী খাতটিকে।