জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের এক আতঙ্কের নাম ভুতুড়ে রেজাল্ট। ভালো পরীক্ষা দিয়েও খারাপ ফলাফল আসা যেন এখানে নিত্যদিনের ব্যাপার। কাজেই এবার সম্মান ৪র্থ বর্ষের ফলাফল বের হওয়ার পর যথারীতি পুনর্মূল্যায়নের আবেদন করবেন বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী। অথচ, তার ফি বিষয়প্রতি ১২০০ টাকা! বর্তমান ভিসি এই ব্যবস্থা চালুর সময় স্বীকার করেছিলেন যে, পুনর্মূল্যায়নের পর প্রচুর অকৃতকার্য শিক্ষার্থী পাস করে। অর্থাৎ, তারা আসলে খারাপ পরীক্ষা দেয়ার জন্য নয়, বরং শিক্ষকদের গাফিলতির জন্য খারাপ ফলাফল পান। এমতাবস্থায় বিষয়প্রতি পুনর্মূল্যায়ন ফি এতো বেশি নির্ধারণ করা একদিকে যেমন অযৌক্তিক, তেমনি অন্যায়। কারণ, এই বিশ্ববিদ্যালয়ে বহু দরিদ্র শিক্ষার্থী পড়েন। এতো ফি দিয়ে তাদের পক্ষে পুনর্মূল্যায়নের আবেদন করা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য। ফলে অনেকে ভালো পরীক্ষা দেয়া সত্ত্বেও খারাপ ফলাফলই মেনে নিতে বাধ্য হবেন, যা তাদের পরবর্তী জীবনকে প্রভাবিত করবে। আবার শিক্ষকের খাতা দেখার ত্রুটির জন্য যদি শিক্ষার্থীকেই বড় অঙ্কের ফি দিয়ে পুনর্মূল্যায়নের আবেদন করতে হয়, তবে তা কার্যত যার সাথে অন্যায় হয়েছে তাকেই জরিমানা করা। অথচ, জরিমানা করা দরকার ছিলো সেই শিক্ষকদের, যারা নিজেদের কর্তব্যে উদাসীনতা দেখিয়ে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি বাড়ান। শিক্ষকদের ব্যর্থতা যেখানে নিত্যদিনের ব্যাপার, পুনর্মূল্যায়ন সেখানে শিক্ষার্থীদের অধিকার। যেটা শিক্ষার্থীর প্রাপ্য, সেটার জন্য কেন তাকে গুণতে হবে প্রতি বিষয়ে ১২০০ টাকা? তাই অবিলম্বে পুনর্মূল্যায়ন ফি কমিয়ে শিক্ষার্থীদের উপরে এহেন অযৌক্তিক চাপ কমানো প্রয়োজন।
শামা মেহজাবিন
শিক্ষার্থী, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়