ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনাল সামনে রেখে মাঠের লড়াই শুরুর আগেই উত্তেজনার পারদ চড়িয়ে দিয়েছেন স্পেনের ডিফেন্ডার আয়মেরিক লাপোর্তে। আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে ‘নোংরা কৌশল’ বা ‘ডার্টি ট্রিকস’ ব্যবহারের অভিযোগ তুলে তিনি দাবি করেছেন, আলবিসেলেস্তেরা প্রায়ই মাঠে এমন কিছু সুবিধা পেয়ে থাকে, যা প্রতিপক্ষের জন্য অন্যায্য পরিস্থিতি তৈরি করে। 

রোববার (১৯ জুলাই) বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় বিশ্বকাপের শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে মুখোমুখি হবে স্পেন ও আর্জেন্টিনা। সেই মহারণের আগে লাপোর্তে বলেন, আর্জেন্টিনার বিপক্ষে খেলতে গেলে শুধু ফুটবল নয়, মানসিকভাবেও প্রস্তুত থাকতে হয়।

স্প্যানিশ এই ডিফেন্ডারের মতে, ম্যাচ নিয়ন্ত্রণে রাখতে রেফারিদের শুরু থেকেই কঠোর অবস্থান নেওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে ফাইনালের দায়িত্বে থাকা স্লোভেনিয়ার রেফারি স্লাভকো ভিনচিককে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শুরুতেই শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা না গেলে ম্যাচের পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে।

লাপোর্তের মন্তব্য ইতোমধ্যেই ফুটবল বিশ্বে নতুন আলোচনা সৃষ্টি করেছে। বিশ্বকাপের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে এমন বক্তব্য স্পেন-আর্জেন্টিনা দ্বৈরথে বাড়তি উত্তেজনা যোগ করেছে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

চলতি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়দের মেজাজ বিগড়ে দিতে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা নানা রকম উসকানি ও স্লেজিংয়ের আশ্রয় নিয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। এমনকি শেষ ষোলোর ম্যাচে আর্জেন্টিনার কাছে ৩-২ ব্যবধানে হেরে বিদায় নেওয়ার পর মিশরের কোচ হোসাম হাসানও সরাসরি রেফারিদের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছিলেন; তার অভিযোগ ছিল, অফিশিয়ালরা পরিষ্কারভাবে আর্জেন্টিনার পক্ষ নিচ্ছিলেন।

স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম ‘মার্কা’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে লাপোর্ত নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে বলেন, ‘ফুটবলের স্বাভাবিক নিয়মের মধ্যে যে আগ্রাসন বা শারীরিক লড়াই থাকে, তা নিয়ে আমি মোটেও চিন্তিত নই। খেলাটা যদি নিয়মের মধ্যে হয় এবং রেফারি তার কাজটা ঠিকঠাক করেন, তবে আমার কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু এটা সত্যি যে, সাম্প্রতিক ম্যাচগুলোতে (আর্জেন্টিনার) এমন কিছু কাণ্ড আমরা দেখেছি যা আমাদের সত্যিই অবাক করেছে—এমন সব কাণ্ড, যা রেফারিরা স্রেফ এড়িয়ে গেছেন বা দেখেও না দেখার ভান করেছেন।’

আর্জেন্টিনাকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে রদ্রি বলেন, ‘বিশেষ করে আর্জেন্টিনার কথা বলতেই হয়; ওরা এমন একটা দল যারা প্রতিপক্ষের ওপর (শারীরিক ও মানসিকভাবে) একটা নেতিবাচক ছাপ রেখে যেতে পছন্দ করে। ফুটবলে এই ধরনের নোংরা কৌশল বা উসকানি মোটেও প্রশ্রয় দেওয়া উচিত নয়—বিশেষ করে বিশ্বকাপের মতো বড় টুর্নামেন্টে তো একেবারেই না। কারণ, এসব কাণ্ড আপনার মনঃসংযোগ নষ্ট করে দিতে পারে এবং আপনাকে মাঠে ক্ষিপ্ত করে তুলতে পারে। পরিস্থিতি যেন একদম হাতের বাইরে চলে না যায়, সেটা শক্ত হাতে নিয়ন্ত্রণ করা রেফারিরই দায়িত্ব।’

স্পেনের এই মিডফিল্ডার আরও যোগ করেন, ‘যদি দুই-একজন খেলোয়াড়কে মাঠে এভাবে পার পেয়ে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়, তবে পুরো ম্যাচটাই নিয়ন্ত্রণে বাইরে চলে যাবে। টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই কিন্তু আমরা অত্যন্ত পরিচ্ছন্ন ফুটবল খেলে আসছি। আমরা এমন দল নই যারা প্রতিপক্ষকে অযথা আঘাত করে কিংবা মাঠে কাণ্ডজ্ঞানহীন ফাউল ছড়ায়। আমার মনে হয়, ফাইনালেও আমাদের এই ইতিবাচক মানসিকতা নিয়েই মাঠে নামা উচিত। তবে, অবশ্যই ম্যাচের অনেকখানি নির্ভর করবে রেফারিং কেমন হচ্ছে তার ওপর।’

এদিকে ফাইনালের আগে নিজের সতীর্থদের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানিয়েছেন রদ্রি। বিশ্বকাপের এই মহা-লড়াইয়ে আর্জেন্টিনা যদি কোনো ধরনের অনৈতিক চালবাজি বা উসকানি দেওয়ার চেষ্টাও করে, তবে সেসবে কান না দিয়ে সতীর্থদের স্রেফ নিজেদের স্বাভাবিক খেলাটা খেলে যাওয়ার তাগিদ দিয়েছেন তিনি।

এই মিডফিল্ডার জোর দিয়ে বলেন, আলবিসেলেস্তেরা যদি মাঠে স্লেজিং বা উসকানি দেয়ও, স্পেনের খেলোয়াড়দের কোনোভাবেই সেই ফাঁদে পা দিয়ে প্রতিক্রিয়া দেখানো চলবে না। একই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন, আর্জেন্টিনা যেন রবিবারের ফাইনালে ফুটবলের আসল স্পিরিট বা ‘ফেয়ার প্লে’ বজায় রেখেই লড়াইটা লড়ে।



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews