মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন যুদ্ধ ও চাপ সৃষ্টি করে বিশ্ব রাজনীতির কেন্দ্র ওয়াশিংটনমুখী করার চেষ্টা করছেন, তখন চীন, রাশিয়া, ভারত, ইরানসহ অন্যান্য দেশের শীর্ষ নেতৃত্ব সোমবার মধ্য এশিয়ায় কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে ১০ দেশের ‘সাংহাই কোঅপারেশন ওর্গানাইজেশন (এসসিও)’-এর বৈঠকে সমবেত হওয়ার মধ্য দিয়ে বিশ্বে  চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের প্রভাব আরো স্পষ্ট করে তুলেছেন।

একই সময়ে এটি এমন দেশগুলোর পাশে চীনের অবস্থান ধরে রাখার সক্ষমতাকে তুলে ধরে, যারা ওয়াশিংটনের চাপের মুখে রয়েছে। রাশিয়া ও ইরানে দুটি যুদ্ধ বিশ^জুড়ে ভূরাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা বাড়িয়েছে, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হ্রাস করেছে এবং মূল্যস্ফীতি বাড়িয়ে দিয়েছে। এই সংকটগুলো শিকে যে অতিরিক্ত প্রভাব বিস্তারের সুযোগ করে দিয়েছে, বিশকেকের বৈঠক তা পরিষ্কারভাবে তুলে ধরেছে।রাশিয়া ও ইরানকে টিকিয়ে রাখতে চীন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

বিশ্বের সবচেয়ে বড় অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানিকারক এবং ভোগ্যপণ্য রপ্তানিকারক হিসেবে নিজের অবস্থান কাজে লাগিয়ে বেইজিং মস্কো ও তেহরানের ওপর আমেরিকা ও তার মিত্রদের অর্থনৈতিক চাপের প্রচেষ্টা দুর্বল করেছে। গত মাসে শি তেহরানকে সহায়তা দেওয়া দেশগুলোর বিরুদ্ধে ট্রাম্পের ‘অর্থনৈতিক ডি-ডে’ ঘটানোর হুমকি প্রত্যাখ্যান করেন।

ট্রাম্প রুশ তেল ক্রয়কারীদের বিরুদ্ধেও একই ধরনের হুমকি দিয়েছিলেন, কিন্তু বেইজিংয়ের বিরুদ্ধে উল্লেখযেযাগ্য কোনো পদক্ষেপ নেননি।

বাইডেন প্রশাসনের সময় চীন ও তাইওয়ানবিষয়ক জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সাবেক উর্ধ্বতন পরিচালক জুলিয়ান গেওয়ার্তজ বলেন, “গত এক বছরের পর ট্রাম্পের সঙ্গে শির একটি মৌলিক বিশ্বাসযোগ্যতার সমস্যা তৈরি হয়েছে।

তার হুমকি ও আশ্বাস দুটিই বেইজিংয়ের কাছে অন্য এক বিশ্বনেতার ভাষায় ‘পেন্সিলে লেখা’ বলে মনে হচ্ছে। শি নিজেকে পশ্চিমা বিশ্বের বাইরের দেশগুলোর নেতা হিসেবে তুলে ধরার ভাবমূর্তি শক্তিশালী করতে এবং তিনি যাকে মার্কিন আধিপত্য বলেন, তাকে চ্যালেঞ্জ করতে চেয়েছেন।

ওয়াশিংটন যখন ঠিক এমন এক সময়ে তার অনেক মিত্রকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে, তখন চীন যে বিশ্বজুড়ে বন্ধু ও বিকল্পÑদুটিই রাখে, তা তুলে ধরার সুযোগ শি দেখতে পাচ্ছেন বলে মনে হচ্ছে।”সম্মেলনটি আমেরিকার নেতৃত্বাধীন যুদ্ধনীতির সীমাবদ্ধতাও প্রকাশ করেছে, যেখানে চীনের মিত্র রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান পশ্চিমা বিচ্ছিন্নতা মোকাবিলার লক্ষ্য নিয়ে সম্মেলনে যোগ দেন।

এর আগে, ২০২৩ সালে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থায় যোগ দেওয়া ইরান কিংবা রাশিয়াকে সামরিকভাবে রক্ষায় চীন তার সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। পরিবর্তে বেইজিং সংলাপের আহ্বান জানিয়েছে।

একই সঙ্গে চীন বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহারের উপযোগী প্রযুক্তি সরবরাহে আগ্রহী রয়েছে। চলতি বছরে আগস্টের মাঝামাঝি একটি চীনা কনটেইনার জাহাজ প্রথমবার নির্ধারিত যাত্রায় উত্তর সাগরপথ অতিক্রম করার পর শি ও পুতিন দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, ভিসামুক্ত যাতায়াত এবং আর্কটিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করেন।

২০১৭ সালে এসসিও সম্প্রসারিত হয়ে ভারত ও পাকিস্তানকে অন্তর্ভুক্ত করে। পরে পশ্চিমা নেতৃত্বাধীন জোটগুলোর পাল্টা ভারসাম্য হিসেবে বেলারুশ ও ইরানকেও যুক্ত করা হয়। এবং বর্তমানে রাশিয়া ও ইরানের অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের সবচেয়ে বড় আমদানিকারক চীন। পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার ফলে বেইজিং মূল্যছাড়ে রুশ তেলের মজুত বাড়ানোর সুযোগও পেয়েছে। শি কিরগিজ প্রেসিডেন্ট সাদির জাপারভকে বলেছেন, দুই দেশের সম্পর্ক ‘এক লাফে এগিয়ে গেছে’ এবং সহযোগিতা সব ক্ষেত্রেই সমৃদ্ধ হচ্ছে। এদিকে, শি যখন তার নির্ধারিত আমেরিকা সফরে যাবেন, তখন ট্রাম্প ইরান ও উত্তর কোরিয়ার বিষয়ে চীনের সহযোগিতা চাইতে পারেন। ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টি এবং চীনের মধ্যস্থতায় বজায় রাখা যুদ্ধবিরতির মধ্যে ট্রাম্প প্রশাসনের টানাপোড়েনের কথা উল্লেখ কওে গেওয়ার্তজ বলেন, “ট্রাম্প নিজেকে সিজেই কোণঠাসা করে দিয়েছেন।” 



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews