প্রচণ্ড গরমে মানুষ সাধারণত শরীর সুস্থ রাখার উপায় খোঁজে এবং বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ মেনে চলার চেষ্টা করে। তবে অনেকেই জানেন না যে অতিরিক্ত তাপমাত্রা মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। গরমের কারণে মেজাজের পরিবর্তন, বিরক্তি, উদ্বেগ, বিষন্নতা এমনকি গুরুতর মানসিক সমস্যাও দেখা দিতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত তাপের প্রভাব ধাপে ধাপে বাড়তে থাকে। প্রথমে তাপজনিত অস্বস্তি ও ক্লান্তি দেখা দেয়, যা পরে হিট স্ট্রোক পর্যন্ত গড়াতে পারে। শরীরের তাপমাত্রা দীর্ঘ সময় ধরে বাড়তে থাকলে তা জীবনহানিকর অবস্থারও সৃষ্টি করতে পারে। তাপের মাত্রা এবং কতক্ষণ একজন ব্যক্তি এর সংস্পর্শে থাকছেন, তার ওপর মস্তিষ্কের প্রভাব নির্ভর করে।
শরীর যখন স্বাভাবিক তাপমাত্রা বজায় রাখতে হিমশিম খায়, তখন মস্তিষ্কের ওপরও অতিরিক্ত চাপ পড়ে। এর ফলে শারীরিক ও মানসিক অবসাদ তৈরি হয়, মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে যায় এবং স্মৃতিশক্তিতেও সাময়িক সমস্যা দেখা দিতে পারে। এমন অবস্থায় দৈনন্দিন কাজকর্ম সঠিকভাবে সম্পন্ন করাও কঠিন হয়ে পড়ে।
গবেষণায় দেখা গেছে, তাপপ্রবাহ মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যক্রমে পরিবর্তন আনতে পারে। ২০২৩ সালে প্রকাশিত এক গবেষণা অনুযায়ী, অতিরিক্ত গরম সেরোটোনিনের মাত্রা কমিয়ে দিতে পারে। মেজাজ ও আচরণ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ এই হরমোনের ঘাটতি মানুষের মধ্যে খিটখিটে ভাব, অধৈর্যতা এবং আবেগগত সংবেদনশীলতা বাড়িয়ে তুলতে পারে। ফলে সামাজিক সম্পর্ক ও চাপ মোকাবিলার ক্ষমতাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
এ ছাড়া গরম আবহাওয়ার একটি বড় প্রভাব পড়ে ঘুমের ওপর। রাতে স্বাভাবিকভাবে ঘুমানো কঠিন হয়ে যায় এবং ঘন ঘন ঘুম ভেঙে যেতে পারে। পর্যাপ্ত বিশ্রামের অভাবে উদ্বেগ, বিষন্নতা ও মানসিক অস্থিরতা আরও বৃদ্ধি পায়। বিশেষ করে যাদের আগে থেকেই মানসিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত সমস্যা রয়েছে, তাদের জন্য অতিরিক্ত গরম পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।