সেল্টা ভিগোর বিপক্ষে ১-০ গোলের জয়ে লা লিগার শীর্ষস্থানে ব্যবধান বাড়ালো বার্সেলোনা। পেনাল্টি থেকে জয়সূচক একমাত্র গোলটি করেন লামিন ইয়ামাল। তবে ক্যাম্প ন্যু’র গ্যালারি এরপরই যেন থমথমে হয়ে গেল। স্পটকিক নেয়ার পরপরই মাঠেই শুয়ে পড়লেন ইয়ামাল। ক্লাবের একটি সূত্র ইএসপিএনকে জানিয়েছে, প্রাথমিক লক্ষণ দেখে মনে হয়েছে স্প্যানিশ তারকার হ্যামস্ট্রিং পেশি ছিঁড়ে গেছে। ইয়ামালের চোট কতোটা গুরুতর অথবা কতোদিন তাকে মাঠের বাইরে থাকতে হবে, তা স্ক্যানের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে। সাধারণত ফোলা না কমা পর্যন্ত এ স্ক্যান করা যায় না। এখন বার্সার জন্য চিন্তার কারণ আসন্ন ১০ই মে-র এল ক্লাসিকো। অন্যদিকে, কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে স্পেনেরও। বিশ্বকাপ শুরু হতে বাকি মাত্র ৫০ দিন। ইয়ামালের চোট গুরুতর হলে কেবল বার্সার ঘরোয়া মৌসুমই নয়, তার বিশ্বমঞ্চে খেলার স্বপ্নও ধূলিসাৎ হতে পারে। কোচ হান্সি ফ্লিক বলেন, ‘সে বিনা কারণে মাঠ ছাড়ার ছেলে নয়। আমরা রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করছি।’ ম্যাচের শুরু থেকেই দাপট দেখানোর চেষ্টা করে কাতালানরা। যদিও গোলকিপার হোয়ান গার্সিয়া দুর্দান্ত কিছু সেভ না করলে ম্যাচের গল্পটা অন্যরকম হতে পারতো। ম্যাচের ৩৯তম মিনিটে পেনাল্টি থেকে একমাত্র গোলটি করেন ১৮ বছর বয়সী ইয়ামাল। স্পটকিক নেয়ার পরপরই মাঠে শুয়ে পড়েন এই তরুণ তারকা। হ্যামস্ট্রিংয়ের তীব্র ব্যথায় শেষ পর্যন্ত তাকে খুঁড়িয়ে মাঠ ছাড়তে হয়।
ইয়ামালের চোটের রেশ না কাটতেই গ্যালারিতে তৈরি হয় আরেক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতি। এক দর্শক কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট-এ আক্রান্ত হলে প্রায় ২০ মিনিট খেলা বন্ধ রাখেন রেফারি। জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত হওয়ার পর পুনরায় মাঠে গড়ায় খেলা। বিরতির পর ফেরান তোরেস জালে বল জড়ালেও অফসাইডের কারণে বাতিল হয় সেটি। শেষ পর্যন্ত ১-০ গোলের কষ্টের জয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয় ফ্লিকের শিষ্যদের।
এ জয়ে রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে ফের পয়েন্ট ব্যবধান বাড়িয়ে ৯-এ নিয়ে গেল বার্সা। ৩২ ম্যাচে ৮২ পয়েন্ট নিয়ে চূড়ায় কাতালানরা। সমানসংখ্যক ম্যাচে ৭৩ পয়েন্টে দুইয়ে রিয়াল। আগামী ১০ই মে একে অপরের বিপক্ষে মুখোমুখি হবে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দল দুটি। শিরোপার স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখতে হলে সেই ম্যাচে জয়ের বিকল্প নেই অল হোয়াইটদের।