শীতকালকে জীবনের বেশির ভাগ সময়ই আমি এমন একটি ঋতু হিসেবে দেখেছি, যেটা কোনোভাবে কম্বল, ওভারকোট, সোয়েটারে চেপে পার করে দিতে হয়। যতটা সম্ভব ঘরের ভেতরে থেকে, জানালাটা খুলে কেবল বাইরে একটু উঁকি দিয়ে দেখে, আবার চট করে জানালা লাগিয়ে দিয়ে।
অপেক্ষা করতাম প্রথম ড্যাফোডিল ফুল ফোটার, যে সময় ঠান্ডা জ্বরের মৌসুম কমে আসে, দিন বড় হতে শুরু করে, আর আমিও যেন নিজস্ব ‘শীতনিদ্রা’ থেকে ধীরে ধীরে বেরিয়ে আসতে পারি। কিন্তু এখন শীত পার হওয়ার জন্য অপেক্ষা করি না; বরং শীত আমার কাছে হয়ে উঠেছে আশা পুনর্গঠনের ঋতু।
সম্প্রতি এক বন্ধুর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের শেনানডোয়া ন্যাশনাল পার্কে হাঁটতে গিয়ে বিষয়টি নতুন করে উপলব্ধি করলাম। তীব্র ঠান্ডার মধ্যেও চারপাশের প্রকৃতি ছিল বিস্ময়কর সুন্দর। বরফে জমে থাকা ঝরনা, গাছের নিচে বরফের সূক্ষ্ম নকশা, শত শত বছরের পুরোনো গাছ, অরণ্যের মাটিতে জন্মানো ছোট ছোট উদ্ভিদ—সবকিছু যেন প্রকৃতির নিজস্ব এক গল্প বলছিল।