অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলেডে প্রবাসী বাঙালিদের উদ্যোগে খোলা আকাশের নিচে আনন্দঘন পরিবেশে উদযাপিত হলো বাংলা নববর্ষ পহেলা বৈশাখ। পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের অংশগ্রহণে এ আয়োজন রূপ নেয় এক প্রাণবন্ত মিলনমেলায়।
প্রতিবছরের মতো এবারও নববর্ষ উদযাপনের পরিকল্পনা থাকলেও, এবার সেটিকে ঘরোয়া পরিসরের বাইরে নিয়ে গিয়ে একটু বড় আয়োজনে করার সিদ্ধান্ত নেন আয়োজকরা। রঙিন পোশাক, বাংলা গান, নাচ আর ঐতিহ্যবাহী খাবারের মধ্য দিয়ে নতুন বছরকে বরণ করে নেওয়ার আয়োজন করা হয় খোলা মাঠে।
আয়োজনের শুরুতে আবহাওয়া নিয়ে কিছুটা শঙ্কা থাকলেও শেষ পর্যন্ত সেটি উদযাপনের আনন্দকে ব্যাহত করতে পারেনি। ১৪ এপ্রিল দুপুর ১টায় সবাই দল বেধে নির্ধারিত স্থানে পৌঁছে এবং নিজ বাসা থেকে আনা বিভিন্ন খাবার সাজিয়ে ফেলেন।
দুপুর গড়াতেই শুরু হয় খাওয়া-দাওয়া। খাবারে ছিল পান্তা-ইলিশ, বিভিন্ন ধরনের ভর্তা ও ভাজি। পাশাপাশি দেশিয় জল খাবারের মধ্যে ছিল মুড়ি-মোয়া ও ঝালমুড়ি। আয়োজনের ফাঁকে ফাঁকে চলে ছবি তোলা ও আড্ডা।
বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে ছিল লতা চক্রবর্তীর হাতে তৈরি রসগোল্লা এবং গরম চা উপস্থিত সবার মন জয় করে নেয়। দুপুরের পর্ব শেষে কিছু সময় বিশ্রাম নিয়ে শুরু হয় শিশুদের জন্য বিনোদনমূলক কার্যক্রম।
বাংলা গানের তালে নাচ, হাসি-আনন্দের পাশাপাশি আয়োজন করা হয় বিভিন্ন খেলাধুলার। আয়োজক আবু গালিবের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত খেলাগুলোর বিজয়ীদের জন্য পুরস্কারও রাখা হয়।
বিকেলের দিকে সূর্যের উঁকি পুরো আয়োজনকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে। শাড়ি-পাঞ্জাবি পরিহিত শিশুদের ছোটাছুটি এবং উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। আয়োজকদের মতে, এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য ছিল নতুন প্রজন্মের মধ্যে বাঙালি সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের পরিচয় তুলে ধরা।
বিকেল ৫টায় অনুষ্ঠান শেষে সবাই যখন গুছিয়ে বাড়ির পথে রওনা দেন, ঠিক তখনই নামে ঝুম বৃষ্টি-যেন প্রকৃতিও এই আনন্দঘন দিনের অংশ হয়ে বিদায় জানায়।
এটি ছিল আয়োজকদের প্রথম খোলা মাঠে পহেলা বৈশাখ উদযাপন। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে এমন আয়োজন করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন তারা।
বিডি-প্রতিদিন/টিএ