জয় দিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের নতুন মৌসুম শুরু করেছে ম্যানচেস্টার সিটি ও রিয়াল মাদ্রিদ। পোর্তোর মাঠে ২-০ গোলের জয়ে সিটির নায়ক আর্লিং হালান্ড। অন্যদিকে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে ইন্টার মিলানকে ২-১ গোলে হারিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। তবে দুই ম্যাচেই জয়ের পথে বড় ভূমিকা রেখেছে গোলরক্ষকদের নৈপুণ্য।
পোর্তোর বিপক্ষে ম্যাচে শুরু থেকেই বল দখলে আধিপত্য বিস্তার করে সিটি। তবে প্রথমার্ধে বারবার তাদের আটকে দেন স্বাগতিক গোলরক্ষক দিয়োগো কস্তা। ২১ মিনিটে ফিল ফোডেনের ক্রস থেকে হালান্ডের শক্তিশালী হেড দুর্দান্তভাবে ঠেকান তিনি। ৩২ মিনিটে আবারও ডাবল সেভ করে সিটিকে হতাশ করেন কস্তা। প্রথমে হালান্ডের শট এবং পরে রায়ান শের্কির নিচু শট রুখে দেন তিনি। তবে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই আর আটকে রাখতে পারেননি পোর্তোর গোলরক্ষক। ৪৭ মিনিটে শের্কির কাটব্যাক থেকে এনজো ফার্নান্দেসের ক্রসে হালান্ডের হেড পোস্টে লেগে জালে জড়ায়। গোলের পর পোর্তো কয়েকবার সিটির রক্ষণে চাপ তৈরি করলেও সমতা ফেরাতে পারেনি। বরং যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে রায়ান আইত-নুরির পাস থেকে নিচু শটে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন হালান্ড। এই দুই গোলের মাধ্যমে সিটির জার্সিতে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে হালান্ডের গোলসংখ্যা দাঁড়াল ৩৬। ক্লাবটির হয়ে এই প্রতিযোগিতায় সর্বোচ্চ গোলদাতা সার্জিও আগুয়েরোর পাশে বসেছেন নরওয়ের এই তারকা। সব মিলিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ৫৯ ম্যাচে তার গোলও এখন ৫৯টি।
অন্যদিকে ইন্টার মিলানের বিপক্ষে শুরুতেই চাপে পড়েছিল রিয়াল। ম্যাচের তৃতীয় মিনিটেই রিয়ালের ডি-বক্সে ঢুকে পড়েছিল ইন্টার। মার্কাস থুরামের ভলি ও লাউতারো মার্তিনেসের শট দারুণভাবে ঠেকিয়ে স্বাগতিকদের রক্ষা করেন থিবো কোর্তোয়া। এরপর ইন্টারের ভুলের সুযোগ নিয়ে ১৪ মিনিটে রিয়ালকে এগিয়ে দেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। ব্রাহিম দিয়াসের থ্রু বল পেয়ে প্রথম ছোঁয়ার শটেই গোল করেন ফরাসি তারকা। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে এটি তার ৭১তম গোল। দুই মিনিট পর হাকান কালহানোগ্লুর শটও ঠেকান কোর্তোয়া।
২৩ মিনিটে ইন্টারের আরেকটি ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ফেদে ভালভার্দে। সতীর্থের ব্যাকপাস সামলাতে গিয়ে ভুল করেন ইন্টার গোলরক্ষক জোসেপ মার্তিনেস। দ্রুত ছুটে এসে বল কেড়ে নিয়ে জালে পাঠান রিয়ালের উরুগুইয়ান মিডফিল্ডার। দুই গোলে পিছিয়ে পড়েও হাল ছাড়েনি ইন্টার। দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের ঝড় তোলে ইতালিয়ান ক্লাবটি। রিয়ালের গোলরক্ষক কোর্তোয়া একের পর এক দুর্দান্ত সেভ করে দলকে এগিয়ে রাখেন। অন্যদিকে ইন্টার গোলরক্ষক মার্তিনেসও কয়েকটি অসাধারণ সেভে ব্যবধান বাড়তে দেননি। ৭৭ মিনিটে অবশেষে একটি গোল শোধ করে ইন্টার। লাউতারো মার্তিনেসের কাটব্যাক থেকে প্রথম ছোঁয়ায় জোরালো শটে গোল করেন কার্লোস অগুস্তো। এরপর সমতা ফেরানোর জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে ইন্টার। নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার আগমুহূর্তে মিখিতারিয়ানের শট সামান্য দিক পরিবর্তন করেও জালে ঢুকছিল, কিন্তু কোর্তোয়ার দুর্দান্ত সেভে রক্ষা পায় রিয়াল।
পুরো ম্যাচে ৬০ শতাংশের বেশি বল দখলে রেখে ২১টি শট নেয় ইন্টার, যার সাতটি ছিল লক্ষ্যে। রিয়ালের ১৬ শটের আটটি লক্ষ্যে ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত ইন্টারের আক্রমণ সামলে জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে রিয়াল। ফলে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে শুভ সূচনা হলো দুই ইউরোপীয় পরাশক্তির।