বিএনপির জন্মলগ্ন থেকে এ পর্যন্ত ইতিহাস পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায়, দলটির কোনো মিত্র নেই। না রাজনৈতিক, না বৈদেশিক, না মিডিয়া, না প্রভাবশালী বুদ্ধিজীবীÑ কেউই তার মিত্র হয়নি। তাকে নিজ বলে বলিয়ান হয়েই চলতে হয়েছে এবং হচ্ছে। আমরা জানি, পতিত ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়া আওয়ামী লীগের উল্লেখিত তিন মিত্রই প্রবলভাবে বিদ্যমান ছিল, এখনো আছে। দলটির রাজনৈতিক মিত্রের মধ্যে ডান-বাম ধারার রাজনৈতিক দল, বৈদেশিক মিত্রের মধ্যে ভারত, আর মিডিয়া ও প্রভাবশালী বুদ্ধিজীবী সবসময়ই তার পক্ষে থাকে। জামায়াতে ইসলামীরও রাজনৈতিক মিত্র থেকে শুরু করে প্রভাবশালী মিডিয়া রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দলটির একচ্ছত্র আধিপত্য। কেবল বিএনপিরই এ ধরনের মিত্র নেই। এক সময় জামায়াতে ইসলামী বিএনপির ঘনিষ্ট রাজনৈতিক মিত্র ছিল। এ মিত্রতা মূলত তার স্বার্থ এবং অস্তিত্ব রক্ষার বর্ম ছিল। ইতিহাস পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায়, জামায়াত তার সুবিধা অনুযায়ী, বিএনপির সাথে মিশেছে, আবার বের হয়ে গেছে। ১৯৮৬ সালে এরশাদ যখন প্রহসনের নির্বাচনের আয়োজন করেছিল, তখন আন্দোলনের মাঠ ছেড়ে আওয়ামী লীগ ও জামায়াত নির্বাচনে চলে গিয়েছিল। আন্দোলনের মাঠে ‘লোন সোলজার’ বা একা সৈনিক হিসেবে আপোসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি একাই এরশাদবিরোধী আন্দোলনে লড়ে গিয়েছে। গণঅভ্যুত্থানে এরশাদের পতনের পর একান্নবই সালের নির্বাচনে জনগণ বিএনপিকে বিজয়ী করেছিল। তখন বোঝা গিয়েছিল, বিএনপির একমাত্র মিত্র জনগণ। সরকার গঠনের মতো আসন না পেলেও বিএনপি সরকার গঠন করেছিল জামায়াতের সমর্থনে। ’৯৬ সালে বিএনপি সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান না থাকায়, তার অধীনে নির্বাচন করতে চাইলে, জামায়াত আওয়ামী লীগের সাথে মিলে বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে সাংবাধানিক রূপ দেয়ার জন্য বিএনপিকে বাধ্য হয়ে ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন করতে হয়। মাত্র দেড় মাসের সংসদে তত্ত্বাবধায়ক সরকার সংবিধানে সংযোজন করে নির্বাচন দলটি নির্বাচন দেয়। সেই নির্বাচনে বিএনপি হেরে যায়। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে এবং জামায়াত মাত্র ৩টি আসন পায়। অবস্থা বেগতিক দেখে জামায়াত আবার বিএনপির সাথে জোট বাঁধে এবং ২০০১ সালে এই জোট দুই-তৃতীয়াংশ আসন নিয়ে ক্ষমতায় আসে। জামায়াতের তৎকালীন আমির ও সাধারণ সম্পাদক মন্ত্রীত্ব পায়। ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা নিয়ে বিতর্কের জেরে আওয়ামী লীগ আন্দোলন করে এবং ২২ জানুয়ারি নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে ১১ জানুয়ারি তা প্রত্যাহার করে। এতে মইন উদ্দিন-ফখরুদ্দিনের তথাকথিত ওয়ান-ইলেভেন সরকার গঠিত হয়। প্রায় দুই বছর এ সরকার ক্ষমতায় থেকে ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করে। বলা হয়ে থাকে, সেই নির্বাচনে বেগম খালেদা জিয়া যেতে চাননি। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, এটি একটি সাজানো নির্বাচন হতে যাচ্ছে এবং বিএনপিকে হারানোর সব বন্দোবস্ত পাকাপোক্ত করা হয়েছে। তবে জামায়াতের আমীরসহ দলটির কয়েকজন নেতা বেগম খালেদা জিয়াকে বোঝাতে সক্ষম হন, বিএনপিই ক্ষমতায় আসবে। জামায়াতের নেতৃবৃন্দের কথায় বিশ্বাস রেখে তিনি রাজী হন। বিএনপির এই সংক্ষিপ্ত ইতিহাস পর্যালোচনা করলে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া যায়, বিএনপির কোনো মিত্র নেই। সে একা।
দুই.
’২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার দেড় দশকের শাসনামলের অবসান হয়। বিএনপি সেই ওয়ান-ইলেভেন থেকে শুরু করে হাসিনার শাসনামল পর্যন্ত দীর্ঘ দেড় যুগ গুম, খুন, জেল-জুলুম, হামলা-মামলার শিকার হয়ে আন্দোলন চালিয়ে যায়। অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে গত বছরের ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপি এককভাবেই দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসন পেয়ে নির্বাচিত হয় এবং দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে এখন সরকার পরিচালনা করছে। গত ১৮ এপ্রিল এই সরকারের দুই মাস পূর্ণ হয়েছে। নির্বাচনের আগে তারেক রহমান যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, এই দুই মাসে তা পূরণ করা শুরু করেন। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, ইমাম-মুয়াজ্জিন ও অন্যধর্মের পুরোহিতদের মাসে পাঁচ হাজার ও তিন হাজর টাকা করে মাসিক ভাতা প্রদান, দশ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষক ঋণ মওকুফ করেছেন। খাল কাটা কর্মসূচি শুরু করেছেন। বাংলাদেশের ইতিহাসে কোনো সরকারকেই দুই মাসের মধ্যে নির্বাচনের প্রধান প্রতিশ্রুতিগুলো পূরণ করতে দেখা যায়নি। ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা ও অন্তর্বর্তী সরকারের শাসনামলের উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া চরম আর্থনৈতিক সংকটের মধ্যেই বিএনপি তার এই প্রতিশ্রুতি পূরণ শুরু করেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন কম, শোনেন বেশি। কাজের মধ্যেই ডুবে থাকেন। বিস্ময়ের ব্যাপার হচ্ছে, নির্বাচনের প্রধান প্রধান প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন করা শুরু করলেও এ নিয়ে মিডিয়ায় তেমন কোনো আলোচনা নেই। এসব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে জনগণ কীভাবে উপকৃত হচ্ছে, তা নিয়ে কোনো বিশ্লেষণ নেই। তথাকথিত বুদ্বিজীবীরাও চুপ। হাসিনার শাসনামল দুই মাসের এই সাফল্য নিয়ে মিডিয়া থেকে শুরু করে সব বুদ্ধিজীবী হাসিনাকে তেলের সাগরে ভাসিয়ে দিতেন। সরকার মহাসমারোহে আতশবাজির উৎসব করত। পত্রপত্রিকা থেকে শুরু করে টেলিভিশন চ্যানেল ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সব প্ল্যাটফর্মে মহাসাফল্যের বাজনা বাজত। পত্রপত্রিকাগুলোতে ক্রোড়পত্র বের হতো। টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে লাগাতার টকশোতে আলোচকরা প্রশংসা করতে করতে মুখে ফেনা তুলে ফেলতেন। সর্বত্র এই সাফল্য নিয়ে দিনের পর দিন আলোচনা হতো। অথচ বিএনপির দুই মাসের সাফল্য নিয়ে কোথাও কোনো আওয়াজ নেই। সব নিশ্চুপ। এ থেকে বুঝতে অসুবিধা হয় না, মিডিয়া এবং বুদ্ধিজীবী মহলে বিএনপির বন্ধু বলতে কিছু নেই। উল্টো জুলাই সনদ নিয়ে তারা কথা বলছে। টিভি চ্যানেলগুলো টকশোর আয়োজন করছে। অন্যদিকে, এই দুই মাসে বিএনপিকে নিয়ে সংসদের বিরোধীদল কেবল বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা করে গেছে। সংসদের তারা দক্ষতার পরিচয় দিতে পারছে না। তারা জুলাই সনদে আটকা পড়ে গেছে। সংবিধান ছুঁড়ে ফেলে জুলাই সনদের আলোকে নতুন সংবিধান রচনা করার আন্দোলনে নেমেছে। অথচ দেশ যে চরম অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে নিপতিত, তা কীভাবে উদ্ধার করা যায়, তা নিয়ে কোনো কথা নেই। এই সময়ে জনগণ যে চরম দুঃখকষ্টের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, এ নিয়ে তাদের কোনো কর্মসূচি নেই। জনগণের দুঃসময়ে সরকারের কি করা দরকার, কি পদক্ষেপ নেয়া জরুরি, তা নিয়ে কথা বলছে না। উল্টো এক ধরনের অস্থিরতা তৈরির পাঁয়তারা করছে। বিরোধীদলের আচরণে অনেকের কাছে এটা মনে হতে পারে, নির্বাচনের আগে তাদের নিশ্চিত ক্ষমতায় চলে যাওয়ার যে আওয়াজ, নির্বাচনে তা প্রতিফলিত না হওয়ায় তারা অন্তর্জ্বালায় ভুগছে। পরাজয়ের বাস্তবতা সহজে মেনে নিতে পারছে না।
তিন.
ফ্যাসিস্ট হাসিনার পতনের পর মৃত গণতন্ত্র পুনরুজ্বীবিত হতে শুরু করেছে। দুই মাস বয়সী নির্বাচিত বিএনপি সরকারের সমালোচনায় বিরোধীদল থেকে শুরু করে বুদ্বিজীবী ও সুশীল শ্রেণীর কথার ফুলঝুরি চলছে। যে যেভাবে পারছে, তার মত ও বাকস্বাধীনতার প্রকাশ ঘটাচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কথার তুবড়ি বাজাচ্ছে। বিরোধীদলের কেউ কেউ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে এমনসব অশ্রাব্য ভাষায় সমালোচনা করছে, যা উচ্চারণযোগ্য নয়। এ ধরনের সভ্যতাবিবর্জিত সমালোচনা যদি হাসিনার শাসনের সময় তাকে কিংবা তার মৃত বাবা শেখ মুজিবকে নিয়ে করত, তাহলে কী হতো, তা বোধকরি বুঝিয়ে বলার অবকাশ নেই। মত ও বাকস্বাধীনতার ধরন যদি অসভ্যতা হয়, তাহলে ফ্রান্সের দার্শনিক ভলতেয়ার হয়ত এ কথা বলতেন না, ‘তোমার মতের সঙ্গে আমি হয়ত একমত নাও হতে পারি, তবে তোমার মতপ্রকাশের স্বাধীনতার জন্য আমি আমার জীবন পর্যন্ত উৎসর্গ করে যাব।’ এখন প্রশ্ন হচ্ছে, মতপ্রকাশের নামে আরেকজনকে অপমানজনক কথা বলা, গালিগালাজ করা কিংবা অশালীন ভাষার সমালোচনা প্রতিষ্ঠার জন্য কী জীবন উৎসর্গ করা সমীচীন? কিংবা গালিগালাজের সমালোচনা গালিগালাজ দিয়ে করা কি উচিৎ? গণতন্ত্র তো সভ্য ও সহিষ্ণু হওয়ার জন্য, যেখানে মতপার্থক্য থাকবে, কথায় যুক্তি থাকবে। যুক্তি মেনে অন্যের মতে সহমত পোষণ করা বা পাল্টা যুক্তি দিয়ে খ-ন করাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। বলা বাহুল্য, ৫ আগস্টের পর একটি শ্রেণী রাজনীতিতে এবং মিছিল-মিটিংয়ে লাগামহীনভাবে অশালীন শব্দের ব্যবহার শুরু করে। এই শ্রেণীতে কারা, তা সকলেরই জানা। তারা মনে করে, গালিতেই শক্তি, গালিতেই মুক্তি। শিষ্টাচার সমস্যার সমাধান করতে পারে না। অথচ গালিগালাজ করে কোনো কিছুর সমাধান হয়েছে, তার নজির নেই। গালি বাদ দিয়ে যু্িক্ততর্ক ও আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান হয়েছে। এখন অশালীন শব্দবোমা দিয়ে ওই শ্রেণীটি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ঘায়েল করার টার্গেট করেছে। তারা যুক্তির ধার ধারছে না। বোঝা যাচ্ছে, বাকস্বাধীনতার নামে এসব গালিসমৃদ্ধ সমালোচনার জবাব দেয়ার প্রয়োজনবোধ করছে না। বিএনপি হয়ত এড়িয়ে গিয়ে ‘আপনি আচরি ধর্ম শিখাও অপরে’ নীতি অবলম্বন করেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইতোমধ্যে মন্ত্রী-এমপিদের বক্তব্য দেয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তার এই নির্দেশ তারা মেনে চলছেন বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। কারণ, শুরুতে বেশ কয়েকজন মন্ত্রী বক্তব্য দিতে গিয়ে বেফাঁস ও বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন। এ নিয়ে তখন ব্যাপক সমালোচনা হয়। তার প্রেক্ষিতেই প্রধানমন্ত্রী এই নির্দেশ দিয়েছেন।
চার.
দেশের সংকটকালে যেকোনো সরকারকে জনগণের কাছে যাওয়া, তাদের সাথে সম্পৃক্ত হওয়ার বিকল্প নেই। কারণ, জনগণই তাকে নির্বাচিত করেছে। তারাই সরকারের অভিভাবক। তাদের কাছে গিয়ে সংকটের বাস্তব কারণ বুঝিয়ে বলতে হয়। যদি তাদের সাথে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, তাহলে তাদের মধ্যে ক্ষুব্ধতা বাড়তে থাকে। এই ক্ষুব্ধতা বিরোধীদল ও ষড়যন্ত্রকারিরা কাজে লাগিয়ে সরকারকে আরও বিপাকে ফেলে দেয়। সরকার পতনের আন্দোলন বেগবান করে। বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে এ ধরনের আলামত পরিদৃষ্ট হচ্ছে। এমন আওয়াজও তোলা হচ্ছে, এ সরকার ছয় মাসের বেশি টিকবে না, টিকলেও দুই বছর যেতে পারবে না। আর এজন্য ওঁত পেতে আছে, বিরোধীদল, পতিত আওয়ামী লীগ এবং ডিপ স্টেট নামে প্রভাবশালী চক্র। দেশের সিংহভাগ পত্রপত্রিকা ও টিভি চ্যানেলে এখনো পতিত আওয়ামী লীগের দোসররা ঘাঁপটি মেরে বসে আছে। তারা সরকারের বেকায়দায় পড়ার অপেক্ষায় আছে। সময় ও সুযোগ বুঝে, তারা যে সরকারের বারটা বাজিয়ে দেবে, তা বোঝা যাচ্ছে। আর তথাকথিত বুদ্ধিজীবীরা তো রয়েছেই। এর অর্থ হচ্ছে, বিএনপি সবসময়ের মতোই একা হয়ে আছে। যেহেতু তার রাজনৈতিক মিত্র নেই, বিদেশি প্রভু নেই, মিডিয়াও নেই, জনগণই তার একমাত্র মিত্র, তাই তার অভিভাবক জনগণের কাছেই যেতে হবে, তাদেরকে পাশে রাখতে হবে। তাদের সাথে যোগাযোগ বাড়াতে হবে। তাদেরকেই কদর করতে হবে। তারাই তার রক্ষাকবচ। আমরা দেখছি, সরকারের সাথে জনগণের দূরত্ব বাড়ছে। সরকারের মন্ত্রী-এমপিদের নিজ নিজ এলাকায় জনগণের সাথে মিলিত হতে দেখা যাচ্ছে না। জনগণ যে কষ্টে আছে, তা লাঘবে বা তাদেরকে বুঝিয়ে বলার কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না। সরকারে হোক কিংবা বিরোধীদলে হোক, যে জনগণই বিএনপির একমাত্র মিত্র, তাদের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হলে, দুর্গতির অন্ত থাকবে না।