প্রস্তাবিত বাজেটে নিকোটিন পাউচ ও হিটেড টোব্যাকো (ই-সিগারেট, ভেপসহ) বৈধকরণ এবং তামাকজাত দ্রব্যের নামমাত্র মূল্য বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত জনস্বাস্থ্যকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোট (বাটা) ও বাংলাদেশ নেটওয়ার্ক ফর টোব্যাকো ট্যাক্স পলিসি (বিএনটিটিপি)।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠন দুটি বলেছে, প্রস্তাবিত বাজেটে তামাকজাত পণ্যের দাম কাঙ্ক্ষিত হারে না বাড়িয়ে বরং নতুন দুই ধরনের তামাক পণ্যকে করের আওতায় এনে কার্যত বৈধতা দেওয়া হয়েছে, যা জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতির জন্য উদ্বেগজনক।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রথমে আইন থেকে নিকোটিন পাউচ ও হিটেড টোব্যাকো নিষিদ্ধের বিধান বাদ দেওয়া হয়েছে। এরপর জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের আপত্তি উপেক্ষা করে এসব পণ্যকে করের আওতায় এনে বৈধতা দেওয়া হয়েছে। এতে করে কোটি কিশোর-তরুণ নতুন ধরনের নেশার ঝুঁকিতে পড়বে এবং জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতির অবনতি ঘটবে।
সংগঠন দুটি অভিযোগ করে, রাজস্ব বৃদ্ধির দৃষ্টিকোণ থেকে ক্ষতিকর পণ্যকে বৈধতা দেওয়া হয়েছে, যা জনস্বাস্থ্য নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এতে ভবিষ্যতে ধূমপান ও নিকোটিন আসক্তি আরও বাড়বে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়।
তারা আরও জানায়, বাজেটে সিগারেটের দাম খুব সামান্য বাড়ানো হয়েছে। ১০ শলাকার নিম্ন স্তরের সিগারেটের দাম ৬০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬২ টাকা, মধ্যম স্তরে ৮০ টাকা থেকে ৯২ টাকা, উচ্চ স্তরে ১৪০ টাকা থেকে ১৬০ টাকা এবং অতিউচ্চ স্তরে ১৮৫ টাকা থেকে ২১০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বাটা ও বিএনটিটিপি’র মতে, বাজারে প্রায় ৭৫ শতাংশ সিগারেটই নিম্ন স্তরের হওয়ায় মাত্র ২ টাকা বা ৩.৩ শতাংশ মূল্য বৃদ্ধি ধূমপান কমানোর জন্য যথেষ্ট নয়, বরং এটি নিম্নস্তরের সিগারেটকে আরও সহজলভ্য করবে। দেশে মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের ওপরে থাকায় এই মূল্যবৃদ্ধি কার্যত তেমন কোনো প্রভাব ফেলবে না বলেও তারা মন্তব্য করে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, নিম্ন স্তরের সিগারেটের নামমাত্র মূল্য বৃদ্ধি, ই-সিগারেট ও নিকোটিন পাউচকে বৈধতা দেওয়া এবং বিড়ি, জর্দা ও গুলের দাম না বাড়ানো জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার ক্ষেত্রে “পেছনের দিকে যাত্রা” হিসেবে বিবেচিত হবে।
তারা দাবি করে, সুনির্দিষ্ট কর (specific tax) আরোপ না করায় তামাক কোম্পানির মুনাফা বাড়বে এবং কর ফাঁকির সুযোগও থেকে যাবে। পাশাপাশি বাজেট প্রস্তাবে ‘ও তদূর্ধ্ব’ শব্দটি বাতিল না করায় মূল্য কারসাজির মাধ্যমে রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে।
সংগঠন দুটি সতর্ক করে জানায়, এসব নীতি বাস্তবায়িত হলে ধূমপানের হার বাড়তে পারে এবং নিম্ন স্তরের সিগারেটের দিকে ভোক্তাদের ঝোঁক বৃদ্ধি পাবে, যা দীর্ঘমেয়াদে জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করবে।
তবে বাজেটে কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপেরও প্রশংসা করেছে সংগঠন দুটি। এর মধ্যে রয়েছে সিগারেটের ট্যাক্স স্ট্যাম্পে কিউআর কোড ব্যবহার, ডিজিটাল ট্র্যাক অ্যান্ড ট্রেস ব্যবস্থা চালু এবং কাগজ ব্যবসা নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ।
তারা মনে করে, এসব পদক্ষেপ অবৈধ সিগারেট বাণিজ্য রোধ এবং রাজস্ব ফাঁকি কমাতে সহায়ক হবে।
শেষে সংগঠন দুটি এনবিআরকে তামাক নিয়ন্ত্রণ বিশেষজ্ঞদের সুপারিশ অনুযায়ী বাজেট সংশোধনের আহ্বান জানিয়ে বলেছে, জনস্বাস্থ্যকে অগ্রাধিকার দিয়ে নীতিমালা গ্রহণ করা না হলে ভবিষ্যতে এর নেতিবাচক প্রভাব ভয়াবহ হবে।