গোবিপ্রবি প্রতিনিধি

গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গোবিপ্রবি) আর্কিটেকচার বিভাগে শিক্ষক সঙ্কট নিরসনের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন বিভাগের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। পর্যাপ্ত শিক্ষক না থাকায় নিয়মিত ক্লাস-পরীক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি অধিকাংশ ব্যাচ সেশনজটে পড়েছে বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের। আন্দোলনের একপর্যায়ে

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. মো: সোহেল হাসানকে তার দফতরে অবরুদ্ধ করে রাখেন শিক্ষার্থীরা। রাত ৮টা পর্যন্ত সাত ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে তিনি অবরুদ্ধ থাকেন।

সোমবার সকাল থেকে শিক্ষক সঙ্কট নিরসনের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন আর্কিটেকচার বিভাগের শিক্ষার্থীরা। দিনভর আন্দোলন চলার পর সন্ধ্যার পরও ভিসির দফতরের সামনে তাদের অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত থাকে।

শিক্ষার্থীদের দাবি, আর্কিটেকচার বিভাগে বর্তমানে মাত্র তিনজন শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন। এ অল্পসংখ্যক শিক্ষক দিয়ে বিভাগের একাধিক ব্যাচের নিয়মিত ক্লাস, পরীক্ষা, পরীক্ষা মূল্যায়নসহ অন্যান্য একাডেমিক কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে দীর্ঘদিন ধরে একাডেমিক কার্যক্রমে স্থবিরতা তৈরি হয়েছে এবং অধিকাংশ ব্যাচ সেশনজটে পড়েছে।

শিক্ষার্থীরা জানান, শিক্ষক সঙ্কট নিরসনের জন্য তারা দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়ে আসছেন। তবে কার্যকর কোনো সমাধান না হওয়ায় বাধ্য হয়ে তারা আন্দোলনে নেমেছেন। বিভাগে একাডেমিক কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে মোট ১৬ জন শিক্ষক নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন তারা।

আন্দোলনের একপর্যায়ে শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের দফতরের সামনে গিয়ে অবস্থান নেন। পরে তারা ভিসি দফতরের দরজায় তালা ঝুলিয়ে দেন। দুপুর ১২টা থেকে ভিসিকে তার দফতরে অবরুদ্ধ করে রাখেন তারা। এরপর দিনভর বিভিন্ন সময়ে দফায় দফায় শিক্ষার্থীদের সাথে আলোচনা করেন ভিসি। তবে আলোচনায় কোনো সমাধান না হওয়ায় শিক্ষার্থীরা তাদের অবস্থান থেকে সরে আসেননি এবং ভিসিকে অবরুদ্ধ করে রাখেন।

আন্দোলন চলাকালে কয়েকজন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাদেরকে চিকিৎসার জন্য গোপালগঞ্জ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় বলে জানা গেছে।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মধ্যে একজন বলেন, ‘আমরা দীর্ঘদিন ধরে বারবার ভিসি দফতরে আসছি এবং আমাদের দাবির কথা জানাচ্ছি। কিন্তু প্রতিবারই আশ্বাস নিয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে। আমাদের পর্যাপ্ত ক্লাসরুম নেই, পাশাপাশি শিক্ষক সঙ্কটও রয়েছে। আপাতত ক্লাসরুম সঙ্কট নিরসন সম্ভব না হলেও জরুরি ভিত্তিতে আমাদের ১৬ জন শিক্ষক প্রয়োজন। এ মাসের মধ্যে স্থায়ী ও অস্থায়ী মিলিয়ে ১৬ জন শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করে লিখিত দিলে আমরা আন্দোলন থেকে সরে যাব।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. মো: সোহেল হাসান বলেন, ‘আমি ভিসি হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছি মাত্র দুই সপ্তাহ হলো। আমি জানি, ২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এ বিভাগ থেকে এখনো কোনো ব্যাচ বের হতে পারেনি, বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। পাশাপাশি তোমাদের ক্লাসরুমেরও সঙ্কট রয়েছে। এসব বিষয় নিয়ে তোমাদের চেয়ারম্যান ম্যামসহ অন্যান্য শিক্ষকদের সাথে আমার কথা হয়েছে। এ মাসের মধ্যে ইউজিসির অনুমতি পাওয়া গেলে সবার আগে তোমাদের বিভাগে শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হবে। পাশাপাশি অতিরিক্ত শিক্ষক হিসেবে অস্থায়ী শিক্ষকও নিয়োগ দেয়া হবে।’



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews