রাজধানীর বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের দামে ঊর্ধ্বগতি চলছেই। মাছ ও গরুর মাংসের দাম আগেই সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে। এর মধ্যে প্রোটিনের সহজ উৎস হিসেবে পরিচিত পোল্ট্রি মুরগি ও ডিমের দামও বেড়ে যাওয়ায় নতুন করে চাপে পড়েছেন ক্রেতারা। পাশাপাশি ঈদকে সামনে রেখে কাঁচাবাজারে সবজির দামও বাড়তে শুরু করেছে।

শনিবার (১৪ মার্চ) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। বাজারে এসে অনেক ক্রেতাই বাড়তি দামে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

বাজার ঘুরে জানা যায়, কয়েকদিন আগেও প্রতি কেজি পোল্ট্রি মুরগি ১৭০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই দাম বেড়ে এখন অনেক বাজারে ১৯০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কোথাও কোথাও এর চেয়েও বেশি দাম নেওয়ার অভিযোগ করেছেন ক্রেতারা।

একই সঙ্গে বেড়েছে ডিমের দামও। ফার্মের লাল ডিম গত সপ্তাহে প্রতি ডজন ৯০ টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে তা ১০০ থেকে ১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কিছু বাজারে আরও বেশি দাম চাওয়া হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন ক্রেতারা।

অন্যদিকে মাছ ও গরুর মাংসের বাজারে আগেই চড়া দামের চাপ রয়েছে। বাজারে মাঝারি আকারের অনেক মাছই ৩০০ থেকে ৫০০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। পছন্দের তালিকায় থাকা মাছগুলোর দাম আরও বেশি। ফলে অনেক নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের পক্ষে নিয়মিত মাছ কেনাও কঠিন হয়ে পড়েছে।

গরুর মাংসের দামও সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে বর্তমানে প্রতি কেজি গরুর মাংস ৭৫০ থেকে ৮৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এমন দামে অনেক পরিবার মাসে একবারও গরুর মাংস কিনতে পারছে না বলে জানান ক্রেতারা।

রাজধানীর এক বাজারে পোল্ট্রি মুরগি কিনতে আসা ক্রেতা মোহাম্মদ সোহেল বলেন, মাছ আর গরুর মাংস তো অনেক আগেই আমাদের নাগালের বাইরে চলে গেছে। তাই পরিবারের জন্য মাঝে মাঝে পোল্ট্রি মুরগি কিনতাম। এখন সেটার দামও বেড়ে যাচ্ছে। এতে আমাদের মতো মানুষের জন্য সংসার চালানো আরও কঠিন হয়ে পড়ছে।

তিনি বলেন, বাজারে প্রায় সব খাবারের দামই বাড়ছে। সামনে ঈদ থাকায় খরচ আরও বেড়ে যাবে- এ নিয়ে অনেকেই দুশ্চিন্তায় আছেন।

এদিকে ঈদকে সামনে রেখে রাজধানীর কাঁচাবাজারগুলোতেও সবজির দামে ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। কয়েকদিন আগেও তুলনামূলক কম দামে পাওয়া গেলেও এখন অনেক সবজির দাম বেড়েছে।

বাজারে গিয়ে দেখা যায়, করলা, চিচিঙ্গা ও ধুন্দল প্রতি কেজি ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। একই দামে বিক্রি হচ্ছে সিমের বিচি ও গোল বেগুন। লম্বা বেগুন ও শসা তুলনামূলক কিছুটা কম দামে, কেজি ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে টমেটো কেজি ৫০ থেকে ৬০ টাকা, জালি কুমড়া ৬০ টাকা, বড় কুমড়া ৪০ থেকে ৫০ টাকা এবং পেঁপে ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

বাজারে সবজি কিনতে আসা ক্রেতা নুরুল ইসলাম বলেন, ঈদ সামনে এলেই বাজারে প্রায় সব কিছুর দাম বেড়ে যায়। কয়েকদিন আগেও যেসব সবজি ৬০-৭০ টাকায় পাওয়া যেত, এখন সেগুলো ১০০ টাকার ওপরে চলে গেছে। এতে সাধারণ মানুষের জন্য বাজার করা কঠিন হয়ে যাচ্ছে।

আরেক ক্রেতা রুবিনা আক্তার বলেন, মাছ-মাংসের দাম বেশি হওয়ায় আমরা বেশি করে সবজি কিনে রান্না করি। কিন্তু এখন সবজির দামও অনেক বেড়ে গেছে। এতে সংসার চালাতে খুব কষ্ট হচ্ছে।

বিক্রেতারা বলছেন, খামার পর্যায়ে উৎপাদন খরচ বাড়া, সরবরাহ কিছুটা কমে যাওয়া এবং পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে বাজারে দামের প্রভাব পড়ছে।

একজন পোল্ট্রি বিক্রেতা বলেন, পাইকারি বাজার থেকেই বেশি দামে মুরগি কিনতে হচ্ছে। তাই বাধ্য হয়েই খুচরা বাজারে একটু বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।

একই কথা জানিয়েছেন সবজি বিক্রেতারাও। রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর এক সবজি বিক্রেতা বলেন, ঈদের আগে বাজারে চাহিদা বাড়ে। পাশাপাশি গ্রাম থেকে সবজি আনা-নেওয়ার খরচও আগের তুলনায় বেড়েছে। এর প্রভাব বাজারে পড়ছে।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, অনেক ক্রেতাই আগের চেয়ে নিত্যপণ্যের কেনাকাটা কমিয়েছেন। কেউ এক কেজির বদলে আধা কেজি করে সবজি নিচ্ছেন, আবার কেউ ডজনের বদলে অর্ধডজন ডিম কিনছেন।



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews