সান দিয়েগো এফসির বিপক্ষে জোড়া গোলের পাশাপাশি একটি অ্যাসিস্ট করে ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নের ৫-০ গোলের জয়ে বড় ভূমিকা রেখেছেন ১৬ বছর বয়সী বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কাভান সুলিভান।
বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কাভান সুলিভানের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে আবারও বড় জয় পেল ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়ন। ১৬ বছর বয়সী এই তরুণের জোড়া গোল ও এক অ্যাসিস্টে সান দিয়েগো এফসিকে ৫-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে তারা। এর ফলে মেজর লিগ সকারে টানা দুই ম্যাচে ৫-০ গোলের জয় পেল ফিলাডেলফিয়া।
স্ন্যাপড্রাগন স্টেডিয়ামে প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে সান দিয়েগোর ইয়ান মারফি সহিংস আচরণের দায়ে লাল কার্ড দেখলেও ভিডিও সহকারী রেফারির পর্যালোচনায় তা বাতিল হয়। কিন্তু একজন কমে না গেলেও বিরতির আগেই স্বাগতিকদের জালে বল পাঠায় ফিলাডেলফিয়া।
সেই গোলটি আসে কাভানের পা থেকে। ইন্ডিয়ানা ভাসিলেভের ক্রস পেয়ে দুর্দান্ত ব্যাকহিল শটে বল জালে পাঠান তিনি। প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে করা সেই গোলেই এগিয়ে যায় ফিলাডেলফিয়া।
দ্বিতীয়ার্ধের ৬০ মিনিট পেরোতেই আবার গোল করেন কাভান। এবারও তাঁকে গোলের সুযোগ তৈরি করে দেন ভাসিলেভ। বক্সের ডান দিক থেকে কঠিন কোণ থেকে নেওয়া শটে গোলরক্ষকের পায়ের ফাঁক দিয়ে বল জালে পাঠান কাভান।
এর ছয় মিনিট পর ফিলাডেলফিয়ার তৃতীয় গোলেও অবদান রাখেন কাভান। ব্রুনো দামিয়ানির গোলের সময় কাভান ও ফ্র্যাঙ্কি ওয়েস্টফিল্ডকে অ্যাসিস্টের কৃতিত্ব দেওয়া হয়। এরপর ৮৭ মিনিটে আনিবাল গোদয়ের আত্মঘাতী গোলে ব্যবধান ৪-০ হয়। যোগ করা সময়ে মালিক জাকুপোভিচ সহজ ট্যাপে পঞ্চম গোলটি করেন।
পুরো ম্যাচে ফিলাডেলফিয়ার আধিপত্যও ছিল স্পষ্ট। ২১টি শট থেকে তারা ২.৭৫ প্রত্যাশিত গোলের সুযোগ তৈরি করে। বিপরীতে সান দিয়েগোর ১০ শট থেকে প্রত্যাশিত গোল ছিল ১.২১।
বিশ্বকাপ বিরতির পর রায়ান রিখটারের অধীনে দুর্দান্ত ছন্দে আছে ফিলাডেলফিয়া। তাঁর অধীনে মেজর লিগ সকারে টানা ১০ ম্যাচ অপরাজিত দলটি—জিতেছে সাতটি, ড্র করেছে তিনটি। এই ধারায় পূর্বাঞ্চলের পয়েন্ট তালিকায় সপ্তম স্থানে উঠে এসেছে তারা।
এই সাফল্যে কাভানের অবদানও বড়। গত সাত ম্যাচে সরাসরি ১২টি গোলে অবদান রেখেছেন তিনি—পাঁচ গোল ও সাত অ্যাসিস্ট। একই সময়ে ফিলাডেলফিয়া টানা তিন ম্যাচে প্রতিপক্ষকে গোল করতে দেয়নি।
সান দিয়েগোর বিপক্ষে কাভান ছিলেন দলের আক্রমণের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু। ফিলাডেলফিয়ার হয়ে প্রতিপক্ষের বক্সে তাঁর স্পর্শ ছিল সর্বোচ্চ সাতটি। শেষ তৃতীয়াংশে পাসও দিয়েছেন সর্বোচ্চ ২০টি এবং পাঁচবার বল দখল করে নেওয়ার কৃতিত্বে ছিলেন দলের যৌথভাবে শীর্ষে।
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় দলে ডাক পাওয়ার লক্ষ্যে এগিয়ে চলা কাভানের জন্য তাই ম্যাচটি ছিল আরেকটি বড় বার্তা। মাত্র ১৬ বছর বয়সেই নিয়মিত গোল, অ্যাসিস্ট ও ম্যাচজয়ী পারফরম্যান্স দিয়ে মেজর লিগ সকারে নিজের প্রভাব ক্রমেই বাড়িয়ে চলেছেন এই বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তরুণ।