মাত্র তিন কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা নিয়ে যুগের পর যুগ দুর্ভোগ পোহাচ্ছে সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার তিন গ্রামের মানুষ। দেশের বিভিন্ন এলাকায় গ্রামীণ কাঁচা রাস্তা পাকা হলেও, পাল্টায়নি উপজেলার নরসিংপুর ইউনিয়নের সারপিনপাড়া-পূর্ব সোনাপুর ও হাবিবনগর গ্রামের রাস্তাটির চিত্র।
শুকনো মৌসুমে ধুলো আর বর্ষা মৌসুমে কাঁদায় ভোগান্তি বেড়ে যায় কয়েক গুণ। একটু বৃষ্টিতে হাঁটু পরিমাণ কাদা মাড়িয়ে চলতে হয়।
একটি পাকা রাস্তার কারণে আর্থসামাজিক উন্নয়নেও পিছিয়ে পড়েছে এলাকাবাসী। এছাড়াও পাহাড়ি খরশ্রোতা চেলা নদীর ভয়াল থাবা থেকেও এলাকাটিকে রক্ষার বাঁধ হিসেবে দীর্ঘদিন ব্যবহৃত হয়ে আসছে সড়কটি।
সারাদেশে যখন গ্রামীণ সড়কে উন্নয়নের ছোঁয়া, কাঁচা রাস্তা খুঁজে পাওয়া দুষ্কর তখন দোয়ারাবাজার উপজেলার এই রাস্তাটি দেখে বোঝার উপায় নেই উন্নয়নে কতটা বঞ্চিত তৃণমূলের যোগাযোগ ব্যবস্থা। এখনো এভাবে কাদা মাড়িয়ে চলতে হয় অনেক গ্রামের মানুষকে।
সরেজমিনে গেলে স্থানীয়রা জানায়, নরসিংপুর ইউনিয়নের সারপিনপাড়া গ্রামের চেলা নদীর পাড় থেকে পূর্বসোনাপুর ভায়া হাবিবনগর গ্রাম পর্যন্ত কাঁচা রাস্তাটির দৈর্ঘ্য প্রায় তিন কিলোমিটার। এর মধ্যে রয়েছে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি মাদরাসা ও চারটি মসজিদসহ তিন গ্রামের কয়েক হাজার মানুষের বসতঘর।
স্থানীয় বাসিন্দা নজরুল ইসলাম, ফরিদ মিয়া, আবুল কালাম বলেন, শিশুদের লেখাপড়া, কৃষিকাজ, ফসল আনা-নেয়া, চিকিৎসার জন্য ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা শহরে যেতে নানাভাবে ভোগান্তিতে পড়তে হয় আমাদের। অসুস্থ মানুষকে হাসপাতালে নিতে কষ্টের আর সীমা থাকে না। বেশি দুর্ভোগে পড়েন জরুরি ডেলিভারি রোগীরা।
যোগাযোগের এই বেহাল অবস্থায় অনেক সময় সড়কেই সন্তান প্রস্রবের মতো ঘটনা ও দেখতে হয়। অনেক সময় এলাকাবাসী নিজেরাই বালু ফেলে চলাচলের সুবিধা করে।
একটি রাস্তার কারণে আর্থসামাজিক উন্নয়নে পিছিয়ে পড়েছে এ তিনটি গ্রামের মানুষ। রাস্তাটি পাকা করতে বারবার আশ্বাস দিলেও কথা রাখেননি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। তাই দ্রুত রাস্তাটি পাকা করে জনভোগান্তি নিরসনের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
এ বিষয়ে দোয়ারাবাজার উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল হামিদ বলেন, ‘গ্রামীণ কাঁচা রাস্তাগুলো উন্নয়ন প্রকল্পে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। প্রকল্প পাস হলে আর কোনো কাঁচা রাস্তা থাকবে না।’