দীর্ঘদিন ধরে হোয়াটসঅ্যাপ শুধু ফোন নম্বরে চললেও, এবার আসছে বড় পরিবর্তন। ফোন নম্বরের বদলে এখন থেকে ‘ইউজারনেম’ ব্যবহার করেই মেসেজ পাঠানো যাবে। এতে মানুষের গোপনীয়তা বাড়বে ঠিকই, কিন্তু সাইবার বিশেষজ্ঞরা বলছেন— এটি স্ক্যামারদের জন্য নতুন হাতিয়ার হতে পারে।
বিশেষজ্ঞের মতে এই ৬টি বড় ঝুঁকি তৈরি হতে পারে:
ভুয়া ইউজারনেম দিয়ে প্রতারণা: আপনার ব্যাংক, অফিস বা পরিচিত বন্ধুর নামের সাথে সামান্য মিল রেখে ভুয়া ইউজারনেম খুলতে পারে স্ক্যামাররা। একটি মাত্র অক্ষর কম-বেশি করে তারা আপনাকে ধোঁকায় ফেলতে পারে।
ভয়ংকর ফিশিং মেসেজ: পরিচিত কারো রূপ ধরে প্রতারকরা মেসেজ দিতে পারে। তারা আপনাকে ক্ষতিকর লিংকে ক্লিক করতে বা ওটিপি ও পাসওয়ার্ড দিতে ফাঁদে ফেলতে পারে।
ভুয়া ব্র্যান্ড বা কাস্টমার কেয়ার: আসল নম্বর দেখা যাবে না বলে প্রতারকরা খুব সহজেই ব্যাংক বা ই-কমার্স কোম্পানির মতো ভুয়া অ্যাকাউন্ট খুলে আপনার গোপন তথ্য হাতিয়ে নিতে পারে।
এআই (AI)-এর ফাঁদ: এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে প্রতারকরা আত্মীয় বা সহকর্মীর মতো নকল কণ্ঠ ও মেসেজ তৈরি করতে পারে, যা একদম আসল মনে হবে।
অপরাধী ধরা কঠিন হবে: ফোন নম্বর লুকিয়ে রাখার কারণে মানুষের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বাড়বে। কিন্তু কেউ প্রতারণা করলে তাকে সহজে চেনা বা ধরা অনেক কঠিন হয়ে পড়বে।
দ্রুত ছড়াবে জালিয়াতির জাল: প্রতারক চক্র খুব সহজেই একসঙ্গে অসংখ্য ভুয়া ইউজারনেম তৈরি করতে পারবে। ফলে বড় পরিসরে সাধারণ মানুষকে ফাঁদে ফেলা তাদের জন্য আরও সোজা হবে।
হোয়াটসঅ্যাপ বলছে ফিচারটি নিরাপদ। তবে প্রযুক্তি কর্মকর্তা কনিষ্ক আগরওয়াল সতর্ক করে বলেন, শুধু প্রযুক্তির ওপর ভরসা করলে হবে না। সুবিধার জন্য যেন আমাদের নিরাপত্তা নষ্ট না হয়, সেদিকে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।
বিডিপ্রতিদিন/কেকে