এশিয়ান গেমসের সময় যত ঘনিয়ে আসছে, আয়োজক দেশ জাপানের আবাসন ব্যবস্থা ও অবকাঠামোগত নানা অব্যবস্থাপনা নিয়ে বিতর্ক তত জোরালো হচ্ছে। আয়োজন নিয়ে নানা অপ্রতুলতার চিত্র সামনে আসলেও বিষয়টি নিয়ে একেবারেই বিচলিত নন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সিনিয়র সহকারী কোচ মোহাম্মদ সালাহউদ্দীন। তার স্পষ্ট কথা- থাকার পরিবেশ বা সুযোগ-সুবিধা যা-ই হোক না কেন, মাঠের পারফর্ম্যান্সই এখানে আসল কথা। জাপানে খেলোয়াড়দের ছোট কক্ষের আবাসন সংকট, অস্থায়ী ড্রেসিংরুম ও ভেন্যুর অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা নিয়ে বিভিন্ন মহল থেকে কথা উঠেছে। তবে সালাহউদ্দীন মনে করেন, দেশকে প্রতিনিধিত্ব করার সময় এগুলোকে মুখ্য বাহানা বানানো ঠিক হবে না। গতকাল সংবাদ মাধ্যমকে সালাহউদ্দীন বলেন, ‘সবকিছুরই চ্যালেঞ্জ আছে। থাকার বিষয়টি আমার কাছে খুব বড় কোনো ফ্যাক্টর নয়। আমরা দেশকে প্রতিনিধিত্ব করতে যাচ্ছি, আমাদের লক্ষ্য ভালো খেলা। চ্যালেঞ্জ থাকবেই।’
বিদেশে খেলতে গিয়ে অনেক সময় বিশ্বমানের সুযোগ-সুবিধা পেয়েও আশানুরূপ ফল না পাওয়ার স্মৃতি মনে করিয়ে দিয়ে জাতীয় দলের এই সহকারী কোচ যোগ করেন, ‘আমরা সাধারণত অন্য জায়গায় খেলতে গেলে অনেক ফ্যাসিলিটি পাই, কিন্তু সেখানেও সবসময় ভালো ফল করি না। তাই থাকার বিষয়টি আমার কাছে মুখ্য নয়। মুখ্য বিষয় হলো, আমরা একটি জায়গায় খেলতে যাচ্ছি, একটি দেশের প্রতিনিধিত্ব করছি। দেশের সবাই আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে। তাই আমাদের মনোযোগ শুধু খেলায় থাকা উচিত।’ এশিয়ান গেমসে এবার বাংলাদেশ অংশ নেবে মোট ২২টি ডিসিপ্লিনে। এর মধ্যে ক্রিকেটকে নিয়েই বড় আশা বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের। গেমসে বাংলাদেশের পদক খরা কাটাতে ক্রিকেট দলের ওপরই সব সময়ের মতো এবারও ভক্তদের প্রত্যাশার চাপও বেশি। সালাহউদ্দীন জানান, পুরো দেশ তাদের দিকে তাকিয়ে আছে জেনে তারা ট্রফি জয়ের লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামবেন, ‘যেহেতু আমরা খেলতে এসেছি, তাই চ্যাম্পিয়ন হওয়ার লক্ষ্য ছাড়া আমাদের সামনে অন্য কোনো বিকল্প নেই। আমরা আশা করব, ছেলে ও মেয়েরা ভালো করবে এবং দেশকে ভালো কিছু উপহার দেবে।’
২০১০ সালে গুয়াংজু এশিয়ান গেমসে অন্তর্ভুক্ত হয় ক্রিকেট। সেবারই তারা পায় স্বর্ণপদক। ২০১৪ ও ২০২৩ সালে পরের দুবার তারা পায় ব্রোঞ্জ, মাঝে ২০১৮ সালে ক্রিকেট ইভেন্ট ছিল না। ২০১০ ও ২০১৪ সালে রৌপ্য জেতা মেয়েদের ক্রিকেট দল ২০২৩ সালে জেতে ব্রোঞ্জ। এবার সব দলই মূল দল নিয়ে গেমসে যাওয়ায় চ্যালেঞ্জ বেশি দেখছেন সালাহউদ্দীন। তবে জাপানের চ্যালেঞ্জ জয়ের পাশাপাশি মাঠের ক্রিকেটেও বাংলাদেশের সামনে অপেক্ষা করছে বড় পরীক্ষা। গত কয়েক মাসে জাতীয় দল টেস্ট ও ওয়ানডে নিয়ে ব্যস্ত থাকলেও কোনো টি-টোয়েন্টি খেলেনি। ফলে এশিয়ান গেমসে দলগুলোর পূর্ণাঙ্গ শক্তি পাঠানোর সিদ্ধান্তের মাঝে টি-টোয়েন্টির মেজাজে মানিয়ে নেওয়াটাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তার কথা, ‘কয়েকটি সিরিজ ধরে আমরা টি-টোয়েন্টি খেলছিলাম না। টি-টোয়েন্টির সঙ্গে কত তাড়াতাড়ি মানিয়ে নিতে পারি, ছন্দটা আমরা কত তাড়াতাড়ি ফিরিয়ে আনতে পারি— ছেলেদের এই একটাই বড় চ্যালেঞ্জ আছে।’
এবার এশিয়ান গেমস হবে জাপানের আইচি নাগোয়ায়। অন্য টেস্ট খেলুড়ে দেশগুলোর মতো বাংলাদেশও নিয়মিত অধিনায়ক লিটন দাসের নেতৃত্বে মূল দল নিয়েই যাচ্ছে এশিয়ান গেমস টি-টোয়েন্টি খেলতে। কিন্তু জাপানের উইকেট সম্পর্কে কতটা ধারণা আছে তাঁদের? এ প্রশ্নের উত্তরে একটু রসিকতাই করলেন সালাহউদ্দীন, ‘উইকেট নিয়ে কোনো ধারণা নেই, কিন্তু কে বানিয়েছে জানি।’ আইচি নাগোয়ার যে মাঠে ক্রিকেট খেলা হবে, সেই কো রোগি স্পোর্টস পার্কের কিউরেটরের দায়িত্বে আছেন গামিনি ডি সিলভা। প্রায় দেড় দশক মিরপুরের শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের কিউরেটর ছিলেন এই শ্রীলঙ্কান, সালাহউদ্দীনের রসিকতা সেটা মনে করিয়ে দিয়েই। আইচি নাগোয়ার অস্থায়ী সুযোগ-সুবিধার ক্রিকেট মাঠে তৈরি করা হয়েছে হাইব্রিড পিচ। কৃত্রিম ও প্রাকৃতিক ঘাসের মিশ্রণে এ ধরনের উইকেট তৈরি করা হয়। সালাহউদ্দীনের কথার জবাবে পাল্টা প্রশ্ন- যেহেতু উইকেটটা গামিনি বানাচ্ছেন বাংলাদেশও কি সেখানে ঘরের মাঠের সুবিধা পাবে? এবার কিছুটা সিরিয়াস এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশ দলের কোচ, ‘একেক দেশের আবহাওয়া একেক রকম। আবহাওয়ার ওপর নির্ভর করবে আসলে উইকেটটা কী রকম হবে। গামিনিকে দোষ দিয়ে তো লাভ নেই। আমরা আসলে নিজেরাই বানাতে বলতাম এই ধরনের উইকেট।’
এশিয়ান গেমস ক্রিকেটে ১০ দল অংশ নিলেও বাংলাদেশ সরাসরি কোয়ার্টার ফাইনালে খেলবে। ২৮ সেপ্টেম্বর বেলা ১১টায় কোয়ার্টার ফাইনালে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ কারা হবে, তা ঠিক হবে প্রথম পর্ব শেষে। কোয়ার্টার ফাইনালে জিতলে ১ অক্টোবর সকাল ৯টায় প্রথম সেমিফাইনালে খেলবে বাংলাদেশ দল।