আগ্রাসীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের মামলা দীর্ঘ সময় গড়ালেও ছাড় দেবে না ইরান। দেশটির আইনি ও আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপ পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, সাফল্য পেতে যত বছরই লাগুক না কেন, এই আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়া হবে।
ইরানের ইংরেজি চ্যানেল প্রেসটিভি জানিয়েছে, সোমবার এক বক্তব্যে কাজেম গরিবাবাদি জানান, ইরানের ওপর চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যেসব নৃশংসতা চালিয়েছে, সে বিষয়ে ইতোমধ্যে ১৪০০ পৃষ্ঠারও বেশি নথি, প্রতিবেদন ও চিঠিপত্র তৈরি করা হয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দায়িত্বশীল সংস্থাগুলো আন্তর্জাতিক আদালতের আইনি জটিলতা, একতিয়ারের সীমাবদ্ধতা এবং আর্থিক নানা বাধার কথা জানিয়েছিল। তবে ইসলামি বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি তাঁর সাম্প্রতিক বক্তব্যে পরিষ্কার করে দিয়েছেন যে, একটি আইনি মামলা সুরাহা হতে ১০ বা ১৫ বছর লাগলেও এর পেছনে লেগে থাকা অপরিহার্য দায়িত্ব। এটা কোনোভাবেই ছেড়ে দেয়া যাবে না।
ইসলামি প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক আগ্রাসনে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের কিছু আরব দেশের ভূমিকা নিয়েও আইনি পদক্ষেপ নিচ্ছে তেহরান। এ সংক্রান্ত ১২০টিরও বেশি কূটনৈতিক নথি তৈরি করে জাতিসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদে জমা দেয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ২০২৫ সালের জুনে ইরানের বিরুদ্ধে তাদের প্রথম অপরাধমূলক ১২ দিনের সামরিক হামলা চালায়। এরপর চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে তাদের দ্বিতীয় আক্রমণ শুরু হয়। প্রায় ৪০ দিন পর এপ্রিলের শুরুতে তা থামতে বাধ্য হয়। দুটি যুদ্ধেই ইরানের সাহসী প্রতিরোধ ও সফল পাল্টা জবাবের মুখে শত্রুরা যুদ্ধবিরতি মেনে নিতে বাধ্য হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র গত বছরের ১৭ জুন স্বাক্ষরিত ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক ভেঙে ফেলার পরই এই নতুন হামলা শুরু করে। প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের অবকাঠামো লক্ষ্য করে প্রাণঘাতী বিমান হামলা চালায়। জবাবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীও পশ্চিম এশিয়া জুড়ে থাকা মার্কিন কৌশলগত ঘাঁটিগুলোতে ভারী পাল্টা হামলা চালায়।
এদিকে ইরানের বিচার বিভাগের প্রধানও মার্কিন ও ইসরাইলি যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের মুখোমুখি করার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। গরিবাবাদি জানান, ৪০ দিনের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর দেশীয় বিশেষ আদালত গঠনের প্রস্তাব দিয়েছিল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মার্কিন অপরাধগুলোর বিচারে আন্তর্জাতিক আদালত, নিজ দেশের বিচারালয় এবং বৈশ্বিক এখতিয়ার থাকা অন্যান্য দেশের আদালতের পথ উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। এছাড়া শিকাগো কনভেনশনের সূত্র ধরে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে মামলা লড়তে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছে ইরান।