দেশীয় সেমিকন্ডাক্টর চিপ ডিজাইনের ক্ষেত্রে নতুন মাইলফলক অর্জন করেছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)। বিশ্ববিদ্যালয়টির তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল (ইইই) বিভাগ শতভাগ উন্মুক্ত প্রযুক্তিনির্ভর ৩২-বিট ‘প্রগতি ভি১’ প্রসেসরের সফল নকশা সম্পন্ন করেছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ নিজস্ব সেমিকন্ডাক্টর চিপ ডিজাইনের যুগে প্রবেশ করল বলে জানিয়েছে বুয়েট।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বুয়েটের তথ্য ও প্রকাশনা শাখা থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘প্রগতি ভি১’ দেশের জাতীয় সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের ভিত্তি গড়ে তোলার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। এ উপলক্ষে বুয়েটের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবদুল হাসিব চৌধুরীর কাছে প্রস্তুতকৃত চিপের একটি স্মারক হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রকল্পের তত্ত্বাবধায়ক অধ্যাপক ড. এ বি এম হারুন-উর-রশীদ, ইইই বিভাগের প্রধান অধ্যাপক মোমিনুজ্জামান, নিউরাল সেমিকন্ডাক্টর লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাখাওয়াত হোসেন, আইটেস্টের পরিচালক সৈয়দ মুনির, আইটেস্ট বাংলাদেশের প্রকৌশল প্রধান মো. মাশরুর সালেহীন এবং গবেষণা দলের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রকল্পটির নেতৃত্ব দেন অধ্যাপক ড. এ বি এম হারুন-উর-রশীদ। প্রযুক্তিগত কাজ সম্পন্ন করেন বুয়েটের স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থী খালিদ হোসেন ও শেখ তারিফুল ইসলাম। এ কাজে কারিগরি সহায়তা দেয় নিউরাল সেমিকন্ডাক্টর লিমিটেড।
বুয়েটের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘প্রগতি ভি১’ মূলত স্মার্ট এয়ার কন্ডিশনার, স্মার্ট রেফ্রিজারেটর এবং বিভিন্ন স্মার্ট যন্ত্র ও ইন্টারনেটভিত্তিক ডিভাইসে ব্যবহারের জন্য তৈরি করা হয়েছে।
এই প্রসেসরটি সম্পূর্ণ উন্মুক্ত সফটওয়্যারভিত্তিক নকশা প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে। জার্মানির একটি শীর্ষ মাইক্রোইলেকট্রনিক্স গবেষণা প্রতিষ্ঠান তাদের উন্মুক্ত চিপ উৎপাদন কর্মসূচির আওতায় বিনামূল্যে এটি তৈরি করেছে। চিপটি ইতোমধ্যে বুয়েটে পৌঁছেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ সাফল্য বাংলাদেশের সেমিকন্ডাক্টর গবেষণা, উদ্ভাবন ও উচ্চপ্রযুক্তি শিল্পের বিকাশে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে দেশীয় চিপ ডিজাইন ও উৎপাদনের সক্ষমতা বাড়াতেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।