নুরুল আমিন মিন্টু, চট্টগ্রাম ব্যুরো : পবিত্র ঈদুল আযহার দীর্ঘ ছুটিকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামের বিভিন্ন পর্যটন ও বিনোদনকেন্দ্রে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। ঈদের দিন থেকে শুরু করে ছুটির শেষ দিন পর্যন্ত নগরী ও আশপাশের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে হাজারো মানুষের উপস্থিতিতে মুখর হয়ে ওঠে পর্যটন এলাকা। বিশেষ করে পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত, ফয়’জ লেক, চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা, পারকি সৈকত, ডিসি পার্ক ও কর্ণফুলী টানেল সংলগ্ন এলাকায় দর্শনার্থীদের ব্যাপক সমাগম দেখা যায়।

ঈদের ব্যস্ততা ও কুরবানির আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে পরিবার-পরিজন, আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুদের নিয়ে বিনোদনের উদ্দেশ্যে ঘর থেকে বের হন বিভিন্ন বয়সী মানুষ। নগরীর পাশাপাশি জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকেও দর্শনার্থীরা এসব পর্যটনকেন্দ্রে ভিড় জমান। ফলে ঈদের ছুটির পুরো সময়জুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করে পর্যটন স্পটগুলোতে।

সবচেয়ে বেশি ভিড় দেখা যায় নগরীর অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতে। সমুদ্রের ঢেউ, শীতল বাতাস ও সূর্যাস্তের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য উপভোগ করতে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ সেখানে ভিড় করেন। সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। শিশুদের আনন্দ, তরুণদের আড্ডা এবং পরিবারগুলোর অবকাশযাপনে প্রাণ ফিরে পায় সৈকত এলাকা। সৈকতসংলগ্ন খাবারের দোকান, ফুচকা-চটপটি ও ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীদেরও ছিল ব্যাপক বেচাকেনা।

ঈদের ছুটিতে দর্শনার্থীদের অন্যতম গন্তব্য ছিল ফয়’জ লেক। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, লেকের মনোরম পরিবেশ এবং বিনোদনমূলক রাইড উপভোগ করতে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। শিশু-কিশোরদের পাশাপাশি বয়স্করাও পরিবার নিয়ে সময় কাটাতে সেখানে যান। বিভিন্ন রাইড, নৌভ্রমণ এবং সবুজ পাহাড়ঘেরা পরিবেশ দর্শনার্থীদের বাড়তি আকর্ষণ যোগ করে।

চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানাতেও ছিল দর্শনার্থীদের ব্যাপক ভিড়। ঈদের ছুটিতে শিশুদের নিয়ে অনেক পরিবার চিড়িয়াখানায় ঘুরতে আসেন। বাঘ, সিংহ, হরিণ, বানর, বিভিন্ন প্রজাতির পাখিসহ নানা প্রাণী দেখতে শিশুদের মধ্যে ছিল বিশেষ আগ্রহ। চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে অতিরিক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। টিকিট কাউন্টার ও প্রবেশপথে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও দর্শনার্থীদের উৎসাহে কোনো ভাটা দেখা যায়নি।

নগরী থেকে কিছুটা দূরে অবস্থিত পারকি সমুদ্রসৈকতেও ঈদের ছুটিতে ছিল মানুষের ঢল। কর্ণফুলী নদী পেরিয়ে সমুদ্রের কাছাকাছি অবস্থিত এই সৈকতে প্রতিদিন হাজারো দর্শনার্থী ভিড় করেন। সমুদ্রের বিশাল জলরাশি, সৈকতের নীরব পরিবেশ এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে পরিবার ও বন্ধুদের নিয়ে সেখানে ছুটে যান ভ্রমণপিপাসুরা। সৈকতজুড়ে ছিল আনন্দ-উৎসবের আমেজ।

এছাড়া ডিসি পার্ক, ভাটিয়ারি সানসেট পয়েন্ট, কর্ণফুলী টানেল এলাকা, বাটালি হিল, নেভাল সি-বিচসহ নগরীর অন্যান্য বিনোদনকেন্দ্রেও দর্শনার্থীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। বিশেষ করে কর্ণফুলী নদীর তলদেশ দিয়ে নির্মিত টানেল দেখতে এবং টানেল সংলগ্ন এলাকায় ঘুরতে অনেক মানুষ ভিড় করেন।

পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে দর্শনার্থীদের ভিড়কে কেন্দ্র করে ব্যবসায়ীদের মধ্যেও ছিল বাড়তি উৎসাহ। খাবারের দোকান, রেস্টুরেন্ট, পরিবহন খাত, ফটোগ্রাফি ও বিভিন্ন ক্ষুদ্র ব্যবসার সঙ্গে জড়িতরা ভালো ব্যবসার আশা পূরণ হয়েছে বলে জানিয়েছেন। অনেক ব্যবসায়ী জানান, ঈদের ছুটিতে বছরের অন্যান্য সময়ের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি বিক্রি হয়েছে।

তবে অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে কিছু এলাকায় যানজট ও পার্কিং সংকটেরও সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে পতেঙ্গা ও ফয়’জ লেক এলাকায় যানবাহনের চাপ বেড়ে যাওয়ায় দর্শনার্থীদের কিছুটা ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, ট্রাফিক পুলিশ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তৎপর থাকতে দেখা গেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চট্টগ্রামে পর্যটন ও বিনোদনের সুযোগ দিন দিন বাড়ছে। সমুদ্র, পাহাড়, লেক এবং আধুনিক বিনোদনকেন্দ্রের সমন্বয়ে দেশের অন্যতম পর্যটন নগরী হিসেবে চট্টগ্রামের আকর্ষণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ঈদুল আযহার ছুটিতে পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে মানুষের উপচে পড়া ভিড় সেই জনপ্রিয়তারই প্রমাণ। পরিবার ও প্রিয়জনদের সঙ্গে আনন্দঘন সময় কাটিয়ে অনেকেই স্মরণীয় ঈদ উদযাপনের সুযোগ পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন।



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews