আশিক চৌধুরীর মন্তব্য হুবহু তুলে ধরা হলো। তিনি লিখেছেন:
‘অন্তত প্রথম সারির সংবাদমাধ্যমগুলো বিভ্রান্তিমূলক সংবাদ ছাপাবে না, এতটুকু প্রত্যাশা তো আমরা করতেই পারি। কিন্তু প্রথম আলোর এই ফটোকার্ডটা দেখে খুব হতাশ হলাম। বিনিয়োগে চমক দেখাতে না পারার তকমায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে ভূষিত করেছেন উনারা। তাই প্রকাশিত প্রতিবেদনের উত্তর না দেবার আমার যে রীতি, তার বাইরে গিয়ে কয়টা কথা লিখছি।
১. তথ্যপ্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে জুলাই ২০২৪ থেকে জুন ২০২৫ সময়সীমার ডেটা। সেলুকাস! এই সরকার শুরুই করলো অগাস্ট থেকে (বিডার কার্যক্রম অক্টোবর থেকে)। জুলাই-অগাস্টে বিনিয়োগ না আসার দোষ নাকি আমাদের। সাইকোলজিতে ডেটা নিয়ে এই ধরনের দুষ্টামিকে ‘ফ্রেমিং ইফেক্ট’ বলে।
২. মজার ব্যাপার হচ্ছে, উনারা চাইলেই যথাযথ একটা সময়সীমা নিয়ে বিশ্লেষণ করতে পারতেন। যেমন জানুয়ারী ২০২৫ থেকে শুরু করে জুন ২০২৫ বা অক্টোবর ২০২৫–এর বিনিয়োগের আগের বছরের সাথে তুলনা করা যেতো। এই সময়সীমা ইন্টেরিমের জন্য আরও যুক্তিযুক্ত উইন্ডো। বাংলাদেশ ব্যাংকের ত্রৈমাসিক ডেটা কিন্তু আছে। এবং ডেটা বলছে বিনিয়োগ ২০২৫-এর প্রথম নয় মাসে বেড়েছে ৮০%। শ্রীলঙ্কা বা সুদানের মতো বাংলাদেশে গণ–অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে বিদেশী বিনিয়োগ নেট নেগেটিভ হয়ে যায়নি (তথ্যসূত্র: বিশ্বব্যাংক)—এই তথ্যটাও দেয়া যেতো। বিনিয়োগে যতটুকু অর্জন তার সিংহভাগ কৃতিত্ব দেশের প্রাইভেট সেক্টর ও সাধারণ মানুষের। তাদেরকে স্বীকৃতিটা দিলে কি ক্ষতি হতো?
৩. ‘নিবন্ধনে ধস’ এই তথ্য সঠিক কিন্তু বিশ্লেষণ ভুল। আগের সরকারের আমলে উন্নয়নের জোয়ারের যে ন্যারেটিভ ছিলো তার হাত ধরে যথেচ্ছ নিবন্ধন হতো। প্রতিবছর নিবন্ধন বৃদ্ধি পেতো, কিন্তু একচুয়াল বিনিয়োগ আগের জায়গায়। আমরা এসব ভুয়া নিবন্ধন বন্ধ করে দিয়েছি। তাই নিবন্ধন কমেছে। আলহামদুলিল্লাহ।
প্রথম আলোকে বলছি, আপনাদের তো সেকেন্ড ক্লাস পত্রিকার মতো ক্লিকবেইট প্রকাশের দরকার নাই। দয়া করে বস্তুনিষ্ঠ খবর প্রকাশ করুন।’