ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো রবিবার পুনর্নির্বাচনের জন্য নিজের ঘোষণাপত্র প্রকাশ করেছেন, যেখানে তিনি দরিদ্র ফুটবল জাতিগুলোর পক্ষের নেতা হিসেবে নিজেকে তুলে ধরেছেন। অন্যদিকে উয়েফা প্রধান আলেকসান্ডার সেফেরিন জানিয়েছেন তিনি প্রার্থী হচ্ছেন না, তবে মনে করেন ইনফান্তিনোর বিপক্ষে একজন প্রতিদ্বন্দ্বী আসবে।
প্রায় এক মাস আগে ইনফান্তিনো ফিফা টুর্নামেন্টের বাণিজ্যিক অধিকার বিক্রি করে ২০% শেয়ার বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের হাতে দেওয়ার প্রস্তাব করেছিলেন, যা এখন বাতিল হয়েছে। কিন্তু বিশ্ব ফুটবলের ভবিষ্যৎ শাসনব্যবস্থা নিয়ে লড়াই তীব্রতর হচ্ছে।
উয়েফা, এএফসি (এশিয়া) এবং কনকাকাফ (উত্তর ও মধ্য আমেরিকা ও ক্যারিবিয়ান) ইনফান্তিনোর বিরোধিতায় নেতৃত্ব দিচ্ছে।
সেফেরিন বলেছেন, ইনফান্তিনো হয় সমর্থন হারানোর বিষয়টি বুঝে সরে দাঁড়াবেন, নয়তো আগামী মার্চে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীর মুখোমুখি হবেন।
সূত্র জানিয়েছে, তিনটি মহাদেশীয় সংস্থা ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে অনাস্থা ভোটের কথাও ভাবছে।
সেফেরিন বলেছেন, ইনফান্তিনোর প্রস্তাব ইউরোপীয় সুপার লিগের চেয়েও বড় হুমকি। শুধু বড় দেশ নয়, ছোট দেশগুলোও বিরোধিতা করেছে। যেমন সান মারিনো, সাইপ্রাস, লিচটেনস্টাইন বলেছে, “আমরা বিক্রির জন্য নই।”
২০১৬ সাল থেকে সভাপতি থাকা ইনফান্তিনো স্পষ্ট করেছেন, তিনি দরিদ্র দেশগুলোর সমর্থন নিয়ে ২০৩১ সাল পর্যন্ত পুনর্নির্বাচিত হতে চান।
ডোমিনিকান রিপাবলিকে ক্যারিবিয়ান ফুটবল ইউনিয়নের সঙ্গে বৈঠকে তিনি বলেছেন, ফিফার কাজ হলো ধনী ও দরিদ্র দেশের মধ্যে ব্যবধান কমানো। আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকার সমর্থন তার পাশে রয়েছে।
ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড, নরওয়ে, সুইডেন ও ফারো দ্বীপপুঞ্জ হেলসিঙ্কিতে বৈঠক করে যৌথ বিবৃতিতে ইনফান্তিনোর পদত্যাগ দাবি করেছে।
ওদিকে সেফেরিন বলেছেন, ইউরোপকে অহংকারী হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। “কেউ যেন ভুলে না যায়, ইনফান্তিনো নিজেও ইউরোপীয় এবং তিনি প্রথমে উয়েফার সমর্থনেই সভাপতি হয়েছিলেন।”