ইরানপন্থী ইরাকের প্রতিরোধ আন্দোলনের লড়াই এখন আর শুধু খোলা ময়দানে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা মাটির নিচে এক বিশাল ও দুর্ভেদ্য সামরিক সাম্রাজ্যে রূপ নিয়েছে যা সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিচ্ছে আধুনিক যুদ্ধকৌশলকে।
তাসনিম নিউজ অ্যাজেন্সির ওয়ার কমেন্টারি গ্রুপের ১০৩ নম্বর রিপোর্টে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে যে, ইরাকি প্রতিরোধ বাহিনী তাদের মিসাইল এবং ড্রোন ইউনিটকে পুরোপুরি মাটির নিচে নিয়ে গিয়ে এক গোপন আন্ডারগ্রাউন্ড নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে।
মাটির গভীর থেকে প্রাণঘাতী ড্রোন উৎক্ষেপণ
তথ্য অনুযায়ী, ইরাকি যোদ্ধারা মাটির গভীর থেকে সরাসরি লক্ষ্যবস্তুর দিকে ধেয়ে যেতে সক্ষমঅত্যন্ত আধুনিক ‘সুইসাইড বা আত্মঘাতী ড্রোন’ উৎক্ষেপণ। এই ড্রোনগুলো মূলত এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যেন এগুলো দীর্ঘ সময় মাটির নিচে লুকিয়ে রাখা যায় এবং প্রয়োজনের সময় চোখের পলকে আকাশে উড়াল দিতে পারে। তাসনিন নিউজ অ্যাজেন্সির প্রকাশ করা একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, ভূগর্ভস্থা ঘাঁটি বা আন্ডারগ্রাউন্ড বেস থেকে ড্রোনগুলো নিখুঁতভাবে টেক-অফ করছে। সাধারণত এই ড্রোনগুলো কয়েক শ’ কিলোমিটার পর্যন্ত উড়ে গিয়ে দুশমনের রাডার ফাঁকি দিয়ে আঘাত হানতে সক্ষম।
দীর্ঘ যুদ্ধের অভিজ্ঞতা ও সামরিক মডেল
এই পুরো মডেলটি মূলত ইরান-ইরাক যুদ্ধের পরবর্তী সময়ে সামরিক অবকাঠামো রক্ষা করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থেকে নেয়া হয়েছে, যেখানে আকাশপথের বোমাবর্ষণ থেকে বাঁচতে অস্ত্রশস্ত্র নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেয়া হতো। বর্তমান সময়ে এই কৌশলটি ইরাকি যোদ্ধাদের জন্য এক বিশাল রক্ষাকবচ হয়ে দাঁড়িয়েছে কারণ শত্রুপক্ষ আকাশপথে শক্তিশালী হলেও মাটির নিচের এই শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করা প্রায় অসম্ভব। এই ঘাঁটিগুলো মাটির কয়েক ডজন মিটার গভীরে অবস্থিত হওয়ায় এগুলো বাঙ্কার-বাস্টার বোমা দিয়েও সহজে ধ্বংস করা যায় না।
হিজবুল্লাহর কৌশল ও আঞ্চলিক প্রভাব
লেবাননের হিজবুল্লাহর লড়াইয়ের ধরনের সাথে এই কৌশলের হুবহু মিল পাওয়া যায় যা প্রমাণ করে যে ইরানপন্থি এবং মার্কিন বিরোধী পুরো প্রতিরোধ ফ্রন্ট এখন একই ছাতার নিচে কাজ করছে। এই গোপন আন্ডারগ্রাউন্ড দুর্গগুলো থেকে যে কোনো মুহূর্তে ইসরাইল বা মধ্যপ্রাচ্যের শত্রু ঘাঁটিগুলোর ওপর বড় ধরনের হামলা চালানো সম্ভব। এই সক্ষমতা ওই অঞ্চলের সামরিক ভারসাম্যকে পুরোপুরি বদলে দিচ্ছে। ড্রোন এবং মিসাইল প্রযুক্তিকে এভাবে মাটির নিচে সুরক্ষিত করার ফলে শত্রুর রাডার বা স্যাটেলাইট একে সহজে শনাক্ত করতে পারছে না।
রাডার ফাঁকি ও কমান্ড সেন্টারের ক্ষমতা
এই প্রতিরোধ অ্যাজেন্সিগুলোকে যুদ্ধের ময়দানে এক বিশেষ সুবিধা দিচ্ছে তাদের গোপন সুড়ঙ্গগুলো। এই ভূগর্ভস্থা ঘাটিগুলো শুধু যে গুদাম হিসেবে কাজ করছে না বরং এগুলো একেকটি পূর্ণাঙ্গ কমান্ড সেন্টার হিসেবেও ব্যবহৃত হচ্ছে। এই সব কমান্ড সেন্টার থেকে নিখুঁত নিশানায় আক্রমণ পরিচালনা করা যায়। সাধারণত কয়েক শ’ মিটার লম্বা রানওয়ে বা স্লাইডিং রেলের মাধ্যমে ড্রোনগুলো উৎক্ষেপণ করা হয়। শত্রুর অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান বা বোমারু ড্রোন যখন আকাশে টহল দেয়, তখন এই গোপন সুড়ঙ্গগুলোই হয়ে ওঠে ইরাকি যোদ্ধাদের প্রধান শক্তি এবং রণকৌশলের মূল কেন্দ্রবিন্দু।