মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলায় নির্মাণাধীন একটি কালভার্ট ব্রিজের কাজের অনিয়মের ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে আনন্দ টিভির স্থানীয় প্রতিনিধি মো: ওবায়দুর রহমানের ওপর হামলা, মারধর করে নগদ টাকা এবং ক্যামেরা ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে।
মঙ্গলবার (২৬ মে) রাতে এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগের পর পুলিশ তদন্ত শুরু করে। এর আগে বিকেলে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্র ও অভিযোগপত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার কলিয়া ইউনিয়নের উলাইল বাজার এলাকায় নির্মাণাধীন একটি কালভার্ট ব্রিজে অনিয়ম ও নিম্নমানের কাজ চলছে—এমন তথ্য পেয়ে ঘটনাস্থলে যান সাংবাদিক ওবায়দুর রহমান। সেখানে গিয়ে তিনি ব্রিজের একটি অংশ ভেঙে পড়ার দৃশ্য দেখতে পান এবং বিষয়টি ভিডিও ধারণ করেন।
ভিডিও ধারণের পর তিনি সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল একজন ব্যক্তির সাথে কথা বলে তথ্য সংগ্রহ করেন। পরে মোটরসাইকেলে করে স্থান ত্যাগ করার সময় ঠিকাদার মো: সোহেলসহ কয়েকজন তার পথরোধ করেন। সাংবাদিক পরিচয় দেয়ার পরও তাকে মোটরসাইকেল থেকে ফেলে দেয়, এরপর তাকে টেনে হিঁচড়ে পাশের একটি বাঁশঝাড়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কাঠের বাটাম, লোহার রড ও বাঁশের লাঠি দিয়ে মারধর করা হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। একপর্যায়ে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগে বলা হয়।
এ সময় তার সাথে থাকা কোরবানির গরু কেনার জন্য হাটে যাবার জন্য নগদেএক লাখ ২০ হাজার টাকা এবং একটি ক্যানন ব্র্যান্ডের ডিএসএলআর ক্যামেরা ছিনিয়ে নেয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় এবং যাওয়ার সময় তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেয় বলেও দাবি করা হয়।
ঘটনার বিষয়ে জানতে ঠিকাদার সোহেলকে একাধিকবার মোবাইল ফোনে কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
এদিকে ঘটনাস্থলের প্রত্যক্ষদর্শী একাধিক শ্রমিক, নাম প্রকাশ না করার শর্তে, মারধরের ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন।
পরে সহকর্মী ও স্থানীয়দের সহায়তায় আহত সাংবাদিককে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ বিষয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) স্বপন কুমার সরকার জানান, এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ঘটনার পর স্থানীয় সাংবাদিক মহল ও বিভিন্ন মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে এবং হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি উঠেছে।