মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের ১৪তম দিনে যুদ্ধের ধরণ নিয়ে নতুন বিশ্লেষণ সামনে এসেছে। সুফান গ্রুপের সিনিয়র ফেলো কেনেথ কাটজম্যান মনে করেন, সামরিক শক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের সমকক্ষ না হওয়ায় ইরান এমন কৌশল ব্যবহার করছে যা অনেকটা ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময় ভিয়েত কংয়ের ব্যবহৃত কৌশলের সঙ্গে মিল রয়েছে।
ফ্লোরিডা থেকে আল-জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ইরানের মূল লক্ষ্য হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে জনসমর্থন কমিয়ে দেওয়া, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে রাজনৈতিকভাবে বিব্রত করা এবং যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব ও হতাহতের খবর দিয়ে মার্কিন জনগণের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ানো।
তার মতে, ইরান এই ধরনের কৌশল ব্যবহার করে চাপ তৈরি করছে এবং এটি আংশিকভাবে কাজও করছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী নিয়ে তৈরি হওয়া সংকট যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।
হরমুজ প্রণালী প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই পথটি চালু রাখা এখন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। তবে বিষয়টি নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের ভেতরেও ভিন্ন মত দেখা যাচ্ছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প গ্যাসের দাম নিয়ে কিছুটা ইতিবাচক অবস্থান দেখালেও ট্রেজারি সেক্রেটারি বলেছেন যে যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজনে জাহাজ চলাচলে সহায়তা করতে পারে। অন্যদিকে জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইট জানিয়েছেন, নৌবাহিনী এখনো এই ধরনের পাহারা মিশনের জন্য প্রস্তুত নয় এবং মাসের শেষের আগে তা সম্ভব হবে না।
কাটজম্যান বলেন, এসকর্ট মিশন ছাড়া হরমুজ প্রণালী চালু করার অন্য উপায়ও রয়েছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, বন্দরগুলো বা যেসব নৌকা প্রণালীতে হুমকি তৈরি করছে সেগুলোর ওপর বিমান হামলা বাড়ানো যেতে পারে। উপকূল বরাবর থাকা ক্রুজ মিসাইল ব্যাটারি বা উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর হামলা চালিয়েও পরিস্থিতি বদলানো সম্ভব।
তার মতে, যদিও এসকর্ট মিশন না করেও কিছু অগ্রগতি সম্ভব, তবে শিপিং কোম্পানিগুলোকে আত্মবিশ্বাস দিতে শেষ পর্যন্ত এমন পাহারা মিশনের প্রয়োজন হতে পারে।
ইরান সাম্প্রতিক সময়ে পানির নিচে ড্রোন এবং টর্পেডো প্রযুক্তি ব্যবহারের দাবি করলেও কাটজম্যান এসব দাবি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। তার মতে, ইরান অতীতেও হাইপারসনিক মিসাইল থাকার মতো দাবি করেছে, যা পরে বাস্তবে প্রমাণিত হয়নি।
বিডি প্রতিদিন/আশিক