নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলনের সময় ভারতের সংবিধানের মুখবন্ধ আবৃত্তি করে দেশজুড়ে আলোচনায় আসা তরুণ মোহাম্মদ ইরফানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন ভারতের বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী।
সাক্ষাতের ছবি প্রকাশ করে তিনি বলেছেন, সংবিধান সম্পর্কে ইরফানের উপলব্ধি এবং শেখার আগ্রহ ভারতের তরুণ প্রজন্মের শক্তি ও সম্ভাবনার প্রতীক।
যন্তর মন্তরে অনুষ্ঠিত নিট আন্দোলনের সময় হাজারো শিক্ষার্থীর সামনে সংবিধানের মুখবন্ধ আবৃত্তি করে মুহূর্তেই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেন মোহাম্মদ ইরফান। আন্দোলনের নানা ছবি ও ভিডিওর মধ্যে ইরফানের সেই আবৃত্তিই সবচেয়ে বেশি মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
সোমবার (২৭ জুলাই) রাহুল গান্ধী ইরফানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। পরে নিজের সামাজিক মাধ্যমে কয়েকটি ছবি প্রকাশ করে তিনি লেখেন, ইরফানের মতো লাখো তরুণই ভারতের প্রকৃত আশা। তারা শুধু নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা করে না, দেশের সংবিধান, নাগরিক অধিকার এবং দায়িত্ব সম্পর্কেও সচেতন। এই সচেতনতাই আগামী ভারতের শক্তি হয়ে উঠতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
রাহুল গান্ধীর ভাষ্য অনুযায়ী, ইরফানের মধ্যে তিনি এমন এক তরুণকে দেখেছেন, যার শেখার আগ্রহ প্রবল এবং যে দেশের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে গুরুত্ব দেয়। তিনি বলেন, সংবিধানকে জানার এবং তা ধারণ করার মধ্য দিয়েই দেশের ভবিষ্যৎ আরও শক্তিশালী হতে পারে।
সম্প্রতি নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ শুরু হয়। রাজধানী নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে অনুষ্ঠিত আন্দোলনে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী অংশ নেন। আন্দোলনের মূল দাবি ছিল পরীক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম ঠেকাতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ।
আন্দোলনের একপর্যায়ে মঞ্চে উঠে ভারতের সংবিধানের মুখবন্ধ আবৃত্তি করেন মোহাম্মদ ইরফান। সেখানে উপস্থিত শিক্ষার্থীরা তার সঙ্গে কণ্ঠ মিলিয়ে মুখবন্ধ পাঠ করেন। সেই দৃশ্যের ভিডিও দ্রুত সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং দেশজুড়ে আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাহুল গান্ধীর এই সাক্ষাৎ কেবল একজন আলোচিত তরুণকে উৎসাহ দেওয়ার ঘটনা নয়। এর মাধ্যমে তিনি ছাত্রসমাজের সঙ্গে সংযোগ আরও দৃঢ় করার বার্তাও দিয়েছেন। বিশেষ করে শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং সাংবিধানিক অধিকার নিয়ে তরুণদের উদ্বেগের বিষয়গুলো সামনে আনতেই তিনি এই উদ্যোগ নিয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের রাজনীতিতে তরুণদের অংশগ্রহণ এবং সাংবিধানিক মূল্যবোধ নিয়ে আলোচনার প্রবণতা বেড়েছে। বিভিন্ন সামাজিক ও শিক্ষাবিষয়ক আন্দোলনে তরুণদের সক্রিয় উপস্থিতি সেই বাস্তবতারই প্রতিফলন।