দীর্ঘ ১৩ বছর পর ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) যোগদান সংক্রান্ত আলোচনা নতুন করে শুরু করবে কি না—তা নির্ধারণে ঐতিহাসিক গণভোটে ভোট দিচ্ছেন আইসল্যান্ডের নাগরিকরা। উত্তর আটলান্টিক অঞ্চলের অর্থনৈতিক সংকট, মূল্যস্ফীতি এবং ভূ-রাজনৈতিক নিরাপত্তা অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড়িয়ে এ সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে দেশটি।
কেন এই সিদ্ধান্ত?
১৩ বছর আগে এক ইউরো-বিরোধী সরকারের অধীনে ইইউতে যোগ দেওয়ার আলোচনা স্থগিত করেছিল আইসল্যান্ড। তবে সাম্প্রতিক কিছু ঘটনা দেশটির অবস্থান বদলে দিয়েছে:
অর্থনৈতিক সংকট ও মুদ্রার অস্থিতিশীলতা: আইসল্যান্ডের বর্তমান জীবনযাত্রার ব্যয় ইউরোপের বহু দেশের তুলনায় অনেক বেশি (২০২৫ সালের তথ্যানুযায়ী ইইউ গড়ের চেয়ে ৮৭% বেশি)। দেশটির নিজস্ব মুদ্রা ‘ক্রোনা’র অস্থিতিশীলতার কারণে মূল্যস্ফীতি ও সুদের হার কমানোর লক্ষ্যে অনেকেই ইইউর একক মুদ্রা 'ইউরো' গ্রহণের পক্ষে মত দিচ্ছেন।
ভূ-রাজনৈতিক নিরাপত্তা ও সুমেরু সংকট: রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং সুমেরু (আর্কটিক) অঞ্চলে বড় শক্তিগুলোর তৎপরতা বৃদ্ধির কারণে আইসল্যান্ড নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত। নিজস্ব সেনাবাহিনী না থাকা দেশটি এতদিন যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোর ওপর নির্ভরশীল হলেও সাম্প্রতিক বিশ্ব রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ইউরোপীয় জোটের থেকে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ও কৌশলগত সুরক্ষা চাইছে।
ভোটের মতামত ও সমীকরণ
সাম্প্রতিক জরিপগুলোতে দেখা গেছে, ভোটারদের মতামত প্রায় সমান দুই ভাগে বিভক্ত:
হ্যাঁ-এর পক্ষে: প্রধানমন্ত্রী ক্রিষ্ট্রুন ফ্রস্টাডোটিরের নেতৃত্বাধীন ইউরোপ-পন্থী দলগুলো এই আলোচনার পক্ষে। তাঁদের মতে, ইইউ সদস্যপদ দেশটির অর্থনীতি স্থিতিশীল করবে।
না-এর পক্ষে: বিরোধীদের মূল উদ্বেগ আইসল্যান্ডের অর্থনীতি ও মৎস্য শিল্প নিয়ে। দেশের জিডিপির সিংহভাগ আসে মৎস্য খাত থেকে। ইইউর সার্বিক মৎস্য নীতি (Common Fisheries Policy) চালু হলে নিজেদের জলসীমায় নিয়ন্ত্রণ হারানোর আশঙ্কা করছেন বিরোধীরা।
আইসল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, জনগণ ‘হ্যাঁ’ ভোট দিলে ব্রাসেলসের সাথে পূর্ণাঙ্গ আলোচনার প্রক্রিয়া শুরু হবে এবং চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার পর আবারও দ্বিতীয় দফায় চূড়ান্ত সদস্যপদের জন্য গণভোট নেওয়া হবে।