চরম অর্থসংকটে বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন (বিওএ)। সরকারের কাছ থেকে প্রত্যাশিত অর্থ না পেলেও আইচি-নাগোয়া এশিয়ান গেমসে ভ্রমণবিলাসে ভাটা পড়েনি। এবার ২২টি ডিসিপ্লিনে অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশ। সব মিলিয়ে জাপানে দেশের প্রতিনিধিত্ব করবে ২৬০ সদস্যের একটি কন্টিনজেন্ট। এর মধ্যে পুরুষ খেলোয়াড় ৯০ জন ও নারী খেলোয়াড় ৯৭ জন রয়েছেন। সঙ্গে থাকছেন ৬১ জন পুরুষ ও ১২ জন নারী কর্মকর্তা। এর বাইরেও আইচি-নাগোয়া এশিয়ান গেমসে যাচ্ছেন বিভিন্ন পরিচয়ে আরও অর্ধশতাধিক ব্যক্তি। যদিও বিওএর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বাকিরা যাচ্ছেন নিজেদের অর্থায়নে। আসন্ন এশিয়ান গেমসে পদকের প্রত্যাশা নিয়ে নানা প্রশ্ন থাকলেও বিওএর দাবি, শুধু পদক জয় নয়, বড় আসরে অংশগ্রহণ, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা অর্জন এবং ভবিষ্যতের জন্য ক্রীড়াবিদ তৈরি করাও এবারের অন্যতম লক্ষ্য। তারপরও আরচ্যারি, ক্রিকেট, শুটিং ও কাবাডিতে পদক জয়ের আশা করছেন বিওএ কর্মকর্তারা।
এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় দলগুলোর একটি যাচ্ছে ক্রিকেট ও হকি থেকে। ক্রিকেটে পুরুষ ও নারী মিলিয়ে ৩০ খেলোয়াড়ের সঙ্গে থাকছেন ১১ কর্মকর্তা। হকিতে পুরুষ ও নারী দলের ৩৬ খেলোয়াড়ের সঙ্গে রয়েছেন ৯ কর্মকর্তা। নারী ফুটবল দলে থাকছেন ২৩ খেলোয়াড় এবং সাত কর্মকর্তা। কাবাডিতে পুরুষ ও নারী মিলিয়ে ২৪ খেলোয়াড়, সঙ্গে ছয় কর্মকর্তা। আরচ্যারিতে ১২ খেলোয়াড় ও চার কর্মকর্তা নিয়ে ১৬ সদস্যের দল যাচ্ছে। শুটিংয়ে ১২ খেলোয়াড়ের সঙ্গে চার কর্মকর্তা, ব্যাডমিন্টনে পাঁচ খেলোয়াড় ও দুই কর্মকর্তা, টেবিল টেনিসে ছয় খেলোয়াড় ও দুই কর্মকর্তা, ভারোত্তোলনে চার খেলোয়াড় ও তিন কর্মকর্তা এবং উশুতে চার খেলোয়াড় ও দুই কর্মকর্তা থাকছেন। সার্ফিংয়ে পুরুষ ও নারী একজন করে খেলোয়াড়ের সঙ্গে একজন কর্মকর্তা থাকছেন। সাঁতারে দুই খেলোয়াড় ও দুই কর্মকর্তা, অ্যাথলেটিক্সে দুই খেলোয়াড় ও দুই কর্মকর্তা এবং বক্সিংয়ে দুই খেলোয়াড়ের সঙ্গে তিন কর্মকর্তা যাচ্ছেন।
এশিয়ান গেমসের এবারের আসরে বাংলাদেশের আটটি ডিসিপ্লিনের আবাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে একটি ক্রুজ শিপে। আরচ্যারি, জিমন্যাস্টিক্স, জুডো, কাবাডি, ভারোত্তোলন, রেসলিং, টেবিল টেনিস ও উশুর খেলোয়াড় ও কর্মকর্তারা সেখানে থাকবেন। অন্য ডিসিপ্লিনগুলোর আবাসন করা হয়েছে বিভিন্ন হোটেল বা রিসোর্টে। তবে কোন দল কোথায় থাকবে, তার বিস্তারিত চিত্র বাংলাদেশ দল সেখানে পৌঁছানোর পরই পুরোপুরি নিশ্চিত হবে। গতকাল বিকালে অলিম্পিক ভবনের ডাচ-বাংলা ব্যাংক মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান বিওএর সহ-সভাপতি মেজর (অব.) ইমরোজ আহমেদ। এসময় উপস্থিত ছিলেন মহাসচিব মো. জোবায়েদুর রহমান রানা।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সর্বোচ্চ ৬৫ জন কর্মকর্তা ও অফিসিয়াল অংশ নিতে পারবেন। সমাপনী অনুষ্ঠানের জন্য বরাদ্দ ৪৫ জন অ্যাথলেট ও কর্মকর্তা। যাদের পরদিন খেলা রয়েছে, তাদের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে না নেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে। কারণ প্রতিযোগিতার প্রস্তুতিকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। উদ্বোধনী মার্চপাস্টে লাল-সবুজের পতাকা থাকবে শুটার আবদুল্লাহ হেল বাকী ও কারাতেকা হুমায়রা আক্তার অন্তরার হাতে। বাংলাদেশের দু’টি ডিসিপ্লিন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আগেই মাঠে গড়াবে। নারী ফুটবল দলের খেলা রয়েছে ১৪ ও ১৭ সেপ্টেম্বর। সে কারণে দলটি আগেই জাপানে পৌঁছানোর পরিকল্পনা করেছে। নারী ফুটবল দল ইতোমধ্যে চীনে প্রস্তুতি নিচ্ছে। নারী ক্রিকেট দল এশিয়া কাপে অংশ নিচ্ছে, আর পুরুষ ক্রিকেটাররাও রয়েছেন প্রস্তুতির মধ্যে। পুরুষ ও নারী হকি দলও চীনে অবস্থান করে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলছে। কন্টিনজেন্ট ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিওএর সহ-সভাপতি মেজর (অব.) ইমরোজ আহমেদ বলেন, ‘দলগুলোর প্রস্তুতি ও ট্রেনিং পর্যবেক্ষণে আলাদা মনিটরিং কমিটি কাজ করছে। একই সঙ্গে অ্যাথলেটদের জন্য অ্যান্টি-ডোপিং, সেফগার্ডিং এবং কম্পিটিশন ম্যানিপুলেশন বিষয়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রমও করা হয়েছে। খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের কোথায় কীভাবে থাকতে হবে, কী করা যাবে বা যাবে না, এসব বিষয়েও দেওয়া হয়েছে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা।’
তবে বড় কন্টিনজেন্ট নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েই উঠেছে প্রশ্ন। বিশেষ করে পদকের সম্ভাবনা সীমিত হলে এত বড় বহর কেন? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ইমরোজ বলেন, ‘সব দেশ শুধু পদকের আশায় এশিয়ান গেমসে যায় না। অংশগ্রহণের মাধ্যমে ক্রীড়াবিদদের আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ তৈরি হয়। অনেক ডিসিপ্লিনে সুযোগ-সুবিধার সীমাবদ্ধতা থাকলেও ক্রীড়াবিদদের বড় মঞ্চে নিজেদের সামর্থ্য যাচাইয়ের সুযোগ দিতে চায় বাংলাদেশ।’ পদকের সম্ভাবনা নিয়ে বিওএর প্রত্যাশা সবচেয়ে বেশি কাবাডি, ক্রিকেট, শুটিং ও আরচ্যারিকে ঘিরে। পাশাপাশি উশু, জুডো ও কারাতেতেও ভালো ফলের আশা রয়েছে। বিওএ সহ-সভাপতির ভাষ্য, ‘এশিয়ান গেমসে প্রতিদিনের পারফরম্যান্সই শেষ কথা; সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে প্রত্যাশার চেয়েও ভালো ফল আসতে পারে।’
অন্যদিকে কর্মকর্তা নির্বাচন নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। বিওএর ব্যাখ্যা, কোচ ও ম্যানেজারসহ কর্মকর্তাদের মনোনয়ন দিয়েছে সংশ্লিষ্ট ফেডারেশন। বিওএ শুধু ন্যূনতম যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার বিষয়টি নিশ্চিত করার চেষ্টা করেছে। অতীতের বিভিন্ন গেমসে ব্যবস্থাপনার ঘাটতি থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হয়েছে বলেও জানানো হয়।