এখন আবহাওয়ার মন বোঝা রীতিমত প্রেমিকার মন বোঝার চেয়েও কঠিন। সকালে ঠান্ডা লাগলে দুপুরে কড়া রোদে গরম লাগছে সন্ধ্যার পর আবার ঠান্ডা, রাতে ঘুমাতে হচ্ছে পাতলা কম্বল গায়ে দিয়ে। আবহাওয়ার এই অদ্ভুত আচরণ এখন অনেকেরই পরিচিত দিনে অসহ্য গরম, আর রাতে হালকা ঠান্ডা। ফলে এসি চালু রাখলেও আরাম পাচ্ছেন না অনেকেই।

কখনো বেশি ঠান্ডা লাগছে, কখনো আবার ঘাম ঝরছে। আসলে সঠিক তাপমাত্রা নির্ধারণই পারে আপনাকে আরাম, স্বাস্থ্য ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের মধ্যে ভারসাম্য এনে দিতে। তাই প্রশ্নটা গুরুত্বপূর্ণ দিনে আর রাতে এসির তাপমাত্রা কত রাখা উচিত?

দিনে কত ডিগ্রি রাখা ভালো?
দিনের বেলায় বাইরের তাপমাত্রা সাধারণত বেশি থাকে। ফলে ঘরের ভেতর আরামদায়ক পরিবেশ বজায় রাখতে এসি সাধারণত ২৪-২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে সেট করা উত্তম।

২৪ ডিগ্রি তাপমাত্রা বেশিরভাগ মানুষের জন্য আরামদায়ক এবং শরীরের সঙ্গে বাইরের তাপমাত্রার পার্থক্যও অতিরিক্ত হয় না। এতে ঘরে ঢোকা-বেড়ানোর সময় হঠাৎ তাপমাত্রা পরিবর্তনের ধাক্কা লাগে না।

২৬ ডিগ্রি তাপমাত্রা বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য আরও কার্যকর। গবেষণায় দেখা গেছে, এসির তাপমাত্রা প্রতি ১ ডিগ্রি বাড়ালে বিদ্যুৎ খরচ প্রায় ৫-৬ শতাংশ কমতে পারে। তাই দিনের বেলায় খুব প্রয়োজন না হলে ২৪ ডিগ্রির নিচে নামানো ঠিক নয়।

রাতে কত ডিগ্রি রাখা উচিত?
রাতে স্বাভাবিকভাবেই বাইরের তাপমাত্রা কমে আসে। ফলে একই তাপমাত্রায় এসি চালালে অনেকের ঠান্ডা লাগতে পারে। বিশেষজ্ঞরা রাতে ২৬-২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে এসি সেট করার পরামর্শ দেন।

ঘুমের সময় শরীরের মেটাবলিক রেট কমে যায় এবং শরীর তুলনামূলক ঠান্ডা অনুভব করে। তাই কম তাপমাত্রায় দীর্ঘসময় থাকলে সর্দি, গলা ব্যথা বা শরীর ব্যথার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। ২৭ বা ২৮ ডিগ্রি তাপমাত্রা ঘুমের জন্য আরামদায়ক এবং স্বাস্থ্যসম্মত। এছাড়া স্লিপ মোড ব্যবহার করলে এসি ধীরে ধীরে তাপমাত্রা সামান্য বাড়িয়ে দেয়, যা রাতের আরামের জন্য উপযোগী।

দিনে গরম, রাতে শীত কীভাবে ভারসাম্য রাখবেন?
দিন-রাতের তাপমাত্রার পার্থক্য থাকলে কয়েকটি বিষয় মাথায় রাখা জরুরি। প্রথমত, দিনের বেলায় ঘরের জানালা-দরজা ভালোভাবে বন্ধ রাখুন, যাতে বাইরের গরম বাতাস ঢুকতে না পারে। পর্দা টেনে রাখলে ঘর কম গরম হয়।

দ্বিতীয়ত, রাতে যদি ঠান্ডা বেশি লাগে, তাহলে সরাসরি শরীরের ওপর বাতাস না পড়ে এমনভাবে এসির ভেন্ট সেট করুন।তৃতীয়ত, টাইমার ব্যবহার করতে পারেন। ঘুমানোর দুই-তিন ঘণ্টা পর এসি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ বা তাপমাত্রা বাড়িয়ে দিলে অপ্রয়োজনীয় ঠান্ডা এড়ানো যায়।

কম তাপমাত্রা রাখলে কী সমস্যা হতে পারে? অনেকে মনে করেন ১৮-২০ ডিগ্রিতে এসি রাখলেই দ্রুত ঘর ঠান্ডা হবে। বাস্তবে এতে বিদ্যুৎ বিল বাড়ে, কম্প্রেসরের ওপর চাপ পড়ে এবং শরীরের জন্যও ক্ষতিকর হতে পারে। ঘরের তাপমাত্রা হঠাৎ খুব কমে গেলে মাথাব্যথা, ত্বকের শুষ্কতা এবং শ্বাসকষ্টের সমস্যা বাড়তে পারে।

সবচেয়ে বড় কথা, এসি যত কম ডিগ্রিতে চালাবেন, বিদ্যুৎ খরচ তত বেশি হবে। দীর্ঘমেয়াদে এটি অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত দুই দিক থেকেই ক্ষতিকর। সঠিক তাপমাত্রাই সেরা সমাধান। স্বাস্থ্য, আরাম এবং বিদ্যুৎ সাশ্রয় এই তিনটির ভারসাম্য বজায় রাখাই মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত। দিনে: ২৪-২৬° সেলসিয়াস, রাতে: ২৬-২৮° সেলসিয়াস, স্লিপ মোড ও টাইমার ব্যবহার করুন,
সরাসরি বাতাস শরীরে লাগা এড়িয়ে চলুন।

আবহাওয়ার পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এসির তাপমাত্রা সামান্য সামঞ্জস্য করলেই মিলবে আরামদায়ক ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ। সঠিক ব্যবহারে এসি যেমন দীর্ঘস্থায়ী হবে, তেমনি আপনার ঘুমও হবে নির্ভার।

আরও পড়ুন
গরমে এসি ঘামলে সতর্ক হওয়া জরুরি
বাড়িতে স্প্লিট এসি পরিষ্কার করবেন যেভাবে

কেএসকে



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews