যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অবনতি ও বাণিজ্য যুদ্ধের উত্তাপ এবার ছড়িয়ে পড়েছে দুই দেশের ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক নামকরণে। কানাডার সাথে বাণিজ্য বিরোধ ও অচলাবস্থার জেরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্বাহী আদেশ জারি করে দুই দেশের সীমান্তে অবস্থিত ঐতিহাসিক 'লেক অন্টারিও'-র নাম পরিবর্তন করে 'লেক আমেরিকা' রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। এর পাল্টা জবাব হিসেবে কানাডার রাজধানী অটোয়ার সিটি কাউন্সিল শহরের 'ট্রাম্প এভিনিউ' নামক সড়কটির নাম পরিবর্তনের প্রক্রিয়া শুরু করতে সর্বসম্মতিক্রমে ভোট দিয়েছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর প্রতিবেদনে জানানো হয়, সম্প্রতি কানাডার সাথে বাণিজ্যিক আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর অটোয়ার প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে ট্রাম্প বিতর্কিত এই নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন। মার্কিন প্রশাসনকে এখন থেকে 'লেক অন্টারিও'-কে 'লেক আমেরিকা' হিসেবে উল্লেখ করতে বলা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মন্তব্য করেন, বাণিজ্য যুদ্ধে কানাডার অবস্থান অগ্রহণযোগ্য এবং তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ভৌগোলিক প্রভাব তুলে ধরতেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই পদক্ষেপের পর কানাডাজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অটোয়া সিটি কাউন্সিলের কাউন্সিলররা জানিয়েছেন, জাতীয় রাজধানীতে মার্কিন প্রেসিডেন্টের নামে কোনো সড়ক থাকা তারা আর সমীচীন মনে করছেন না। প্রায় ২৫ বছর ধরে সেন্ট্রাল পার্ক এলাকায় অবস্থিত 'ট্রাম্প এভিনিউ' নামটির পরিবর্তে নতুন নামের প্রস্তাব করছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও কাউন্সিলররা।
প্রস্তাবিত নতুন নামগুলোর তালিকায় স্থান পেয়েছে ‘ওবামা এভিনিউ’, ‘পেলোসি এভিনিউ’, ‘কানাডা এভিনিউ’ এবং ‘টাকো এভিনিউ (Taco Avenue)’—যা মূলত "Trump Always Chickens Out" বাক্যাংশটির একটি ব্যাঙ্গাত্মক সংক্ষিপ্ত রূপ।
তবে অটোয়া শহরের নিয়ম অনুযায়ী, নাম পরিবর্তনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য সংশ্লিষ্ট সড়কের অন্তত ৫০ শতাংশের বেশি বাড়ির মালিকের সম্মতি প্রয়োজন। ইতিপূর্বে ২০২১ সালেও সড়কটির নাম পরিবর্তনের একটি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, তবে বাসিন্দাদের মতভেদের কারণে তা বাস্তবায়িত হয়নি। সিএনএন জানিয়েছে, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের পর সাধারণ মানুষের মতামত গ্রহণের মাধ্যমে এই বিষয়ে চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের এই রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক দ্বন্দ্ব কেবল শুল্ক বা বাণিজ্যে সীমাবদ্ধ নেই; বরং তা এখন ভৌগোলিক ও সাংকেতিক প্রতিবাদের রূপ নিয়েছে।