বেশ কয়েক বছর ধরেই একটি বহুজাতিক কোম্পানিতে চাকরি করছেন তানভীর। কাজের প্রতি তাঁর নিবেদন নিয়ে প্রশ্ন করতে পারবেন না কেউ। হঠাৎ একদিন সহকর্মীদের সঙ্গে কথায় কথায় জানতে পারলেন, কিছুদিন আগেই অফিসে যোগ দেওয়া এক জুনিয়র কর্মীর বেতন তাঁর থেকেও অনেক বেশি।
এমন কথা জানতে পেরে তানভীর অনেকটাই ভেঙে পড়লেন। যে অফিসের জন্য এত কাজ করছেন, সময় দিচ্ছেন, সেখানেই কিনা পদমর্যাদায় নিচে থাকা একজনের বেতন তাঁর থেকেও বেশি! এমনটা মেনে নেওয়া যায় না। এত দিন নিজের বেতন নিয়ে মাথা না ঘামানো তানভীর জনে জনে জিজ্ঞাসা করতে থাকলেন, তাঁদের বেতন কত? কেউ কেউ হাসিমুখে জানিয়ে দিলেও বাকিরা তাঁর আচরণে বিরক্তই হলেন। এমন অস্বস্তিকর কথা বলতে আগ্রহী নন অনেকেই।
অনেকেই বলেন, মেয়েদের বয়স আর ছেলেদের বেতন কখনো জিজ্ঞাসা করতে হয় না। শুধু বাংলাদেশ নয়, পুরো বিশ্বেই কারও বেতন জিজ্ঞাসা করা যেন একটা ট্যাবু। সহকর্মীর সঙ্গে অনেক আলোচনাই করা যায়, কিন্তু বেতন নিয়ে আলোচনা করতে গেলেই যেন সবাই মুখে কুলুপ আঁটেন। অলিখিতভাবে সবাই ধরেই নিয়েছেন, বেতন নিয়ে কথা বললেই যেন নতুন করে সমস্যা তৈরি হবে।