১৩ হাজার ৪৪৫ কোটি ৪১ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৪টি প্রকল্প জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ৮ হাজার ৮৯ কোটি ৫৬ লাখ, প্রকল্প ঋণ ৫ হাজার ৩৪০ কোটি ২৬ লাখ এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ১৫ কোটি ৫৯ লাখ টাকা থাকবে।
গতকাল সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে এসব প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে পাঁচটি নতুন, পাঁচটি সংশোধিত এবং চারটি মেয়াদ বাড়ানো প্রকল্প রয়েছে।
সভায় অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির, সড়ক পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি উপস্থিত ছিলেন। সভা শেষে প্রকল্পে ব্যয় সাশ্রয় ও যৌক্তিকতা নিশ্চিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার কথা জানিয়ে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘প্রকল্প নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশটা খুব স্পষ্ট। সেটা হচ্ছে, আমাদের সাশ্রয়ী হতে হবে, ব্যয়ের দিক থেকে। এ ছাড়া ব্যয়গুলো কোন কোন খাতে হচ্ছে, সেগুলো যৌক্তিকতা যাচাইবাছাই করা। যে যে প্রকল্প নেওয়া হয়েছে, সেগুলো আসলে কতটা সামগ্রিকভাবে আমাদের জনগণের জীবনে উন্নতি চিন্তা করা হয়েছে, বর্তমান সরকারকে তার যে নির্বাচনি ইশতেহার পরিকল্পনা সবগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্য কি না? এসব দিকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার জন্য তিনি নির্দেশনা দিয়েছেন।’
পরিকল্পনা কমিশনের তথ্যানুযায়ী, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ‘শহরাঞ্চলের জনগণের জন্য সমন্বিত স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ’ প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে, যা নগরবাসীর স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করতে সহায়ক হবে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের ‘শুল্ক আধুনিকায়ন ও অবকাঠামো উন্নয়ন (১ম সংশোধন)’ প্রকল্প রাজস্ব ব্যবস্থার দক্ষতা বাড়াবে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ‘পিপিআর রোগ নির্মূল এবং ক্ষুরা রোগ নিয়ন্ত্রণ (৩য় সংশোধন)’ প্রকল্প প্রাণিসম্পদ খাতে রোগ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের অধীনে অনুমোদিত চারটি প্রকল্প হলো- জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো নির্মাণ ও ঝুঁকি হ্রাস (নদীভিত্তিক) প্রকল্প (১ম সংশোধন), চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের আওতাধীন পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিবাস নির্মাণ (১ম সংশোধিত), ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়ন (২য় সংশোধিত) এবং ঢাকা শহরে জরুরি পানি সরবরাহ প্রকল্প। এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে নগর অবকাঠামো উন্নয়ন ও নাগরিক সেবার মান বাড়বে। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের অধীনে পাঁচটি প্রকল্প হলো- ময়মনসিংহ বিভাগে পাঁচটি জলবায়ু সহনশীল সেতু নির্মাণ, পার্বত্য চট্টগ্রামের সীমান্ত সড়ক নির্মাণ (২য় পর্যায়), বৈরাগীরপুল (বরিশাল)-টুমচর-বাউফল (পটুয়াখালী) জেলা মহাসড়ক (জেড-৮৯১০) উন্নয়ন (১ম সংশোধিত), বরিশাল-ভোলা-লক্ষ্মীপুর জাতীয় মহাসড়ক (এন-১৮০৯) উন্নয়ন (১ম সংশোধিত) এবং বরিশাল (দিনারেরপুল)-লক্ষ্মীপাশা-দুমকী সড়কের ১৪তম কিলোমিটারে গোমা সেতু নির্মাণ (১ম সংশোধিত)। এসব প্রকল্প দেশের দক্ষিণাঞ্চল ও পার্বত্য অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে। তবে সড়ক খাতের তিনটি প্রকল্প, বৈরাগীরপুল-টুমচর-বাউফল সড়ক উন্নয়ন, বরিশাল-ভোলা-লক্ষ্মীপুর মহাসড়ক উন্নয়ন এবং গোমা সেতু নির্মাণ-বারবার মেয়াদ বৃদ্ধি পাওয়ায় এর কারণ অনুসন্ধানে মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে আহ্বায়ক করে একটি তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অধীনে অনুমোদিত দুটি প্রকল্প হলো-বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলের রেলপথ রক্ষণাবেক্ষণ ও পুনর্বাসন (১ম পর্যায়) এবং মধুখালী থেকে কামারখালী হয়ে মাগুরা শহর পর্যন্ত ব্রডগেজ রেলপথ নির্মাণ (১ম সংশোধন)। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে রেল যোগাযোগব্যবস্থার সক্ষমতা ও নিরাপত্তা বাড়বে।