বেনাপোল স্থলবন্দরে পণ্য ওঠানামার কাজে গতি বাড়াতে নতুন ক্রেন ও আধুনিক সরঞ্জাম যুক্ত করেছে নতুন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এভারেস্ট পোর্ট সার্ভিসেস লিমিটেড। একই সঙ্গে হ্যান্ডলিং শ্রমিকদের টনপ্রতি মজুরি ১৬ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তার জন্য শ্রমিকদের মধ্যে হেলমেট ও গ্লাভসও বিতরণ করা হয়েছে।

সোমবার বেনাপোল স্থলবন্দরের কাঁচামাল মাঠে স্থলবন্দর হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়ন (৮৯১)-এর সভাপতি মাকসুদুর রহমান রিন্টুর সভাপতিত্বে এবং (৯২৫) ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. সহিদ আলীর সঞ্চালনায় এ উপলক্ষে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন নতুন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এভারেস্ট পোর্ট সার্ভিসেস লিমিটেডের পরিচালক মো. শহীদ হোসেন। পরে শ্রমিকদের মধ্যে নিরাপত্তা সামগ্রী বিতরণ করা হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. শহীদ হোসেন বলেন, ‘শ্রমিক বাঁচলে আমরা বাঁচব, আর আমরা বাঁচলে শ্রমিক বাঁচবে। শ্রমিকরা শুধু কর্মী নন, তারা বন্দরের কাজের মূল চালিকাশক্তি। শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও কল্যাণকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করা হবে।’

তিনি বলেন, ‘বন্দরের কাজের গতি বাড়াতে নতুন ক্রেন ও প্রয়োজনীয় আধুনিক সরঞ্জাম আনা হয়েছে। ভবিষ্যতে আরও উন্নত যন্ত্রপাতি যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।’

শহীদ হোসেন আরও বলেন, শ্রমিকদের যেকোনো সমস্যা ও প্রয়োজনের সময়ে পাশে থাকার চেষ্টা করবেন। নিয়মিত নিরাপত্তা সরঞ্জাম সরবরাহ এবং শ্রমিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের মাধ্যমে কাজের পরিবেশ উন্নত করা হবে।

বেনাপোল স্থলবন্দর হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা জানান, দীর্ঘদিনের দাবির পর শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি ও নিরাপত্তা সরঞ্জাম প্রদান ইতিবাচক উদ্যোগ। কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনা প্রতিরোধে নিরাপত্তা সরঞ্জাম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নতুন ঠিকাদার দায়িত্ব নেওয়ার পর শ্রমিকদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলা এবং তাদের নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়ায় তারা আশাবাদী। এতে শ্রমিকদের মধ্যে সন্তোষ দেখা দিয়েছে।

৯২৫ ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. সহিদ আলী বলেন, ‘শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার ও মজুরি নিশ্চিত করতে আমি দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছি। বেনাপোল স্থলবন্দরে কাজের গতি আরও বাড়ুক এবং শ্রমিকরা তাদের পরিশ্রমের ন্যায্য মূল্য পান। শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি আমাদের দীর্ঘদিনের দাবির একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল।’

তিনি আরও বলেন, ‘আজ টনপ্রতি মজুরি ১৬ টাকা থেকে ২০ টাকা হওয়ায় শ্রমিকরা উপকৃত হবেন। অতীতে বন্দরে কাজের সংকট ছিল, শ্রমিকদের আয়-রোজগারও ছিল অনিশ্চিত। শ্রমিকরা যাতে তাদের শ্রমের ন্যায্য মূল্য পান, সেটিই আমাদের মূল লক্ষ্য।’

শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি ও নিরাপত্তা সরঞ্জাম দেওয়ায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

৯২৫ ইউনিয়নের সভাপতি মো. তবিবুর রহমান তবি বলেন, ‘শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত হলে বন্দরের কাজ আরও গতিশীল হবে।’ নতুন ঠিকাদারের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে বেনাপোল স্থলবন্দরের সহকারী পরিচালক মো. হান্নান, শ্রমিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ, বন্দরের কর্মকর্তা, শ্রমিক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

এইচএসএস



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews