নওগাঁয় ছোট যমুনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু তোলায় ভাঙন হুমকিতে পড়েছে ফসলি জমি ও আশ্রয়ণ প্রকল্পের শতাধিক বাসিন্দার ঘরবাড়ি। ভাঙন আতঙ্কে রাত কাটাচ্ছেন সেখানকার বাসিন্দারা। স্থানীয়রা জানান, জেলার বদলগাছীর নালুকাবাড়ী ও মানপুর আশ্রয়ণ প্রকল্পসংলগ্ন এলাকায় ছোট যমুনা নদী থেকে দিনে-রাতে চলছে অবৈধভাবে বালু তোলা। এ কারণে বর্ষা মৌসুমে যেকোনো মুহূর্তে নদীতে ধসে যেতে পারে আশ্রয়ণ প্রকল্পের শতাধিক পরিবারের ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালীদের আশ্রয়-প্রশ্রয়েই চলছে অবৈধভাবে এই বালু লুট। এর প্রতিবাদ করলেই হুমকি-ধমকির মুখে পড়তে হয় সাধারণ মানুষকে। সরেজমিন দেখা যায়, ছোট যমুনা নদীর নালুকাবাড়ী ও মানপুর আশ্রয়ণ প্রকল্প এলাকায় দুই পয়েন্ট থেকে বালু লুট চলছে। সেখানে নদীর পারজুড়ে বালুর বিশাল স্তূপ তৈরি করা হয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, দেড় বছর ধরে এই লুটপাট চললেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ চোখে পড়েনি। বর্ষা মৌসুমে নদীর তীর ভেঙে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। ইতোমধ্যে নালুকাবাড়ী ও মানপুর আশ্রয়ণ প্রকল্প এলাকায় দেখা দিয়েছে বড় বড় ফাটল। মুকুল নামে আশ্রয়ণ প্রকল্পের এক বাসিন্দা বলেন, বালুখেকোদের কারণে ঘর হারানোর ভয় করছে। কৃষক হানিফ বলেন, কয়েকজন দেড় বছর ধরে অবৈধভাবে বালু তুলে বিক্রি করছে। বাধা দিয়েছিলাম, আমাকে মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছে। এদিকে ঘটনাস্থলে সংবাদকর্মীদের উপস্থিতি টের পেয়ে ট্রাক্টর ফেলে পালানোর চেষ্টা করেন শ্রমিকরা। এক শ্রমিক স্বীকার করেন, কোনো ইজারা ছাড়াই এখানে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। প্রতি ট্রাক্টর বালু বিক্রি হচ্ছে ১২০০ টাকায়। ইউএনও ইসরাত জাহান ছনি বলেন, অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে বেশ কয়েকবার অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের খবর পেয়ে কেউ ঘটনাস্থলে থাকে না। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক জান্নাত আরা তিথি বলেন, অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।