এ্যাডভোকেট আবু হাসিন

ক্ষমতাচ্যুত ও পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে জটিলতা কোন ভাবেই কাটছে না। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লবের পর ভারত বিষয়টিকে স্বাভাবিকভাবে নেয়নি। যদিও বিষয়টি ছিলো বাংলাদেশের একান্তই অভ্যন্তরীণ। তারপরও পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে রাজকীয় মর্যাদায় দেশটি শুধু আশ্রয় দেয়নি বরং দৃশ্যপটে ফেরানো বা রাজনৈতিকভাবে পুনর্বাসনের জন্য বারবার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছে। তারা বিপ্লব পরবর্তী বাংলাদেশকে বেকায়দায় ফেলার জন্য নানাবিধ পদক্ষেপ গ্রহণ করে। শুরুতেই দেশটিই বাংলাদেশীদের জন্য ভিসা সুবিধা বন্ধ করে দেওয়া হয়। অস্থির করে তোলা হয় সীমান্তকে। দেশটি তাদের গোয়েন্দা সংস্থাকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করেও খুব একটা সুবিধা করতে পারেনি। এমনকি অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে গণরোষ সৃষ্টির চেষ্টা করেও সফল হয়নি। ভারতীয় মিডিয়াগুলোতে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে উস্কানীমূলক বক্তব্য প্রচার করা হলেও তা হালে পানি পায়নি।

গত ১২ জানুয়ারির নির্বাচনের পর আশা করেছিলো যে, নতুন সরকারকে তারা বাগে আনতে পারবে। বিএনপি সরকার আওয়ামী লীগের মত দেশটির অঙ্গলী হেলনেই চলবে। কিন্তু তাদের সে আশাও বাস্তবতা পায়নি। এমতাবস্থায় অনেকটা আশাহত হয়েই সাউথ ব্লক সহ ভারতীয় মিডিয়াগুলো উল্টাপাল্টা বক্তব্য দিতে শুরু করেছে। আবার ক্ষেত্র বিশেষে স্ববিরোধী খবরও প্রচার করা হচ্ছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দি ট্রিবিউনে জয়তী মালহোত্রা দাবি করছেন, শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের হাতে তুলে না দিলে ব্রিকস সম্মেলনে আসবেন না তারেক রহমান। আবার এনডিটিভি বলছে এ মাসের শেষ সপ্তাহে ভারত সফরে আসছেন তারেক রহমান। সর্বশেষ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল। ঢাকা এখন পর্যন্ত বলে আসছে তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। তারপরও ভারতীয় মিডিয়াগুলো এখনো রীতিমত অনুমান নির্ভর খবর প্রচার করেই চলেছে। সর্বোপরি বাংলাদেশ ও ভারতের চিন্তকরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হাসিনার পুনর্বাসন ও দু’দেশের সম্পর্কের নতুন ধারা সংযোজন নিয়ে যে বিতর্কের ঝড় তুলেছেন তাতে এসব তথ্যের কতটা সত্যি, কতটা অনির্ভরযোগ্য তা নিয়ে বিস্তর মতপার্থক্যের সৃষ্টি হয়েছে। বাস্তবে বাংলাদেশে নির্বাচিত নতুন সরকারের সাথে সম্পর্ক রিসেট নাকি হাসিনাকে ভারতে রেখেই আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন কোনটি চূড়ান্ত করবে তা নিয়ে ভারতের অবস্থানে মনে হচ্ছে তারা কোন ক্ষেত্রেই খুব একটা সুবিধা করতে পারছে না। তবে সার্বিক দিক বিবেচনায় মনে হচ্ছে নতুন সরকার ভারতের সাথে ছেড়ে কথা বলছে না বরং আত্মস্মানের সাথেই সবকিছু ডিল করার চেষ্টা করছে। ফলে ভারত এখন অনেকটাই আশাহত।

তবে থেমে নেই ভারতীয় তৎপরতা। তারা নতুন সরকারকে শেখ হাসিনা ইস্যুতে নানাভাবে চাপ সৃষ্টি অব্যাহত রেখেছে। একই সাথে নানাভাবে চাপ প্রয়োগ ও ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টিরও চেষ্টা চালানো হচ্ছে। ছড়ানো হচ্ছে নানা ধরনের গুজব। সে ধারাবাহিকতায় ভারতে পলাতক ছাত্রলীগ নেতা সাদ্দাম হোসেনের সাক্ষাৎকার নিয়ে এক প্রতিবেদনে দি প্রিন্ট বলছে, খুব শিগগিরই বাংলাদেশে এবার জেন জি আলফা রেভ্যুউলিশন ঘটবে। বাংলাদেশে জুলাই আন্দোলন আওয়ামী সরকারের পতনের জন্যে ডিপস্টেটের এক ষড়যন্ত্র ছিল এবং তা নস্যাৎ করে দিতে জেন জি আলফা রেভ্যুউলিশনের প্রস্তুতি চলছে ভারত এবং বাংলাদেশে। ভারতীয় চিন্তক বীণা সিক্রি, রিভা গাঙ্গুলি, রাধা দত্ত, জুলাই আন্দোলনকে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান মানতে নারাজ। এরাও এ বিপ্লবকে মেটিকুলাস ডিজাইন বলে অ্যাখ্যা দিচ্ছেন। আনন্দবাজারে ভারতে পলাতক আওয়ামী লীগ নেতা জাহাঙ্গীর কবির নানক সর্বশেষ সাক্ষাৎকারে নেত্রী হাসিনার সাথে নিজে ও বিপুলসংখ্যক আওয়ামী নেতাকর্মীর একযোগে বাংলাদেশে উত্তাল গণ-অভ্যুত্থান সৃষ্টির আভাস দিয়েছেন। এদের সবার টার্গেট ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ফিরে আসার হাসিনার ঘোষণাকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপট এবং বাস্তবতার সাথে এসবের দূরতম সম্পর্ক খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

এ বিষয়ে এসএফ মিডিয়া নিউজে বলা হয়েছে, ‘র’-এর প্রধান পরাগ জৈন ঢাকায় সফরে এসে দাবি তোলেন, শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ফিরে এলে তার বিরুদ্ধে যতগুলো মামলা রয়েছে তা বাতিল করতে হবে। বিচার করলে নতুন মামলা দিয়ে বিচার করতে হবে। তাকে এসএসএফ’র নিরাপত্তা দিতে হবে। তাকে রাখতে হবে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায়। এমনকি সাকিব আল হাসান, নওফেলের বাড়িতে হামলা অগ্নিসংযোগে জড়িত ব্যক্তিদের বিচার দাবি করা হয়েছে ভারতের তরফ থেকে। কিন্তু এসব দাবি কী ভারতের অধিকারের মধ্যে পড়ে ? শেখ হাসিনার ভাগ্য নির্ধারিত হবে বাংলাদেশের সিদ্ধান্তে। এখানে ভারতের নাক গলানোর কোন অধিকার নেই।

ভারতের স্ট্র্র্যাট নিউজ গ্লোবাল বলছে, পরাগ জৈনর ঢাকা সফর দু’দেশের মধ্যেকার নিরাপত্তা সম্পর্কের নীরব বিন্যাস ও হাসিনাকে ঘিরে উত্তেজনাময় বিতর্কের মধ্যে নিরাপত্তা চ্যানেল সচল রাখার প্রয়াস। একই সাথে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলা হচ্ছে হাসিনা বাংলাদেশে ফিরে এলে মধ্যবর্তী নির্বাচন দিতে হবে। সে নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে প্রকৃত বিরোধী দল হিসেবে ভূমিকা পালন করবে এবং ক্ষমতায় পুনরায় বিএনপিকে আনতে সবরকমের যথাসাধ্য চেষ্টা করবে ভারত। অর্থাৎ বাংলাদেশের নির্বাচনে জনগণ কাকে নির্বাচিত করবে তা অতীতে সুজাতা সিংয়ের ফরমুলা বাস্তবায়ন থেকে ভারত আদতে কোনো অবস্থান পরিবর্তন করেনি। হাসিনার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় হয়ে যাওয়ার পর তার পক্ষে কোনো আপিল না হলেও ফের কিভাবে তার বিরুদ্ধে নতুন মামলায় বিচার সম্ভব তা বিশ্লেষণ করতে যেয়ে সময় টেলিভিশনে একজন সিনিয়র সাংবাদিক বলেন, মাওলানা আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড হলেও তো তিনি এখন বাংলাদেশে ফিরেছেন, সরকার চাইলে সবই পারে। কিন্তু মাওলানা আবুল কালাম আজাদ স্বেচ্ছায় আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন। তিনি আইনী সহায়তা ছাড়া আর কোন সুবিধা দাবি করেননি। ইচ্ছা করলে শেখ হাসিনাও সে পথ অনুসরণ করতে পারেন। কিন্তু ভারতের পক্ষে বাহানা তোলা হয়েছে দণ্ড মওকুফের। যা কোন ভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

টিভি টকশোতে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ইনক্লুসিভ নির্বাচন ও আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয় নিয়ে বিস্তর আলোচনা-পর্যালোচনা হয়েছে। বাংলাদেশে ইনক্লুসিভ নির্বাচনের কথা প্রথম বলেন ভারতের সাবেক সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী। তিনি বলেছিলেন, ইনক্লুসিভ নির্বাচন হলেই তা ভারতের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে এবং বাংলাদেশের সাথে সম্পর্ক কিভাবে রচিত হবে তখন দেখা যাবে। এখনো আলোচকরা সে ধারা অনুসরণ করে বলছেন, আওয়ামী লীগকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে দিতে হবে। দলীয় প্রতীকবিহীন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ রাজনীতিতে ব্যাপকমাত্রায় ফিরে আসবে এবং তার আগেই হাসিনা দেশে ফিরে এসে রাজনৈতিক পুনর্বাসনের সুযোগ নিয়ে মধ্যবর্তী নির্বাচনে অংশ নেবেন। তাদের একই আভাসের সাথে ভারতীয় চিন্তকদের বক্তব্যের মিল পাওয়া যাচ্ছে। ভারতীয় ইউটিউব চ্যানেল স্কিল বাংলার উপস্থাপক বলছেন, বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ বিরোধী দলে না থাকলে দেশটি পাকিস্তানের দখলে চলে যাবে এবং এর প্রভাব পড়বে ভারতেও। বিষয়টি ভারতীয় কর্তৃপক্ষ ও গণমাধ্যমের কাগুজে বাঘ ভীতি ছাড়া কিছুই নয়।

পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ যে পুরনো বৃত্তে নেই তা নিশ্চিত করেই বলা যায়। মূলত, প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া ও চীন সফরের মধ্যে দিয়ে এটা প্রমাণিত যে, বাংলাদেশ অন্য কোনো দেশের প্রেসক্রিপশনে আর চলবে না বরং বাংলাদেশ চলবে বাংলাদেশের গতিতে; স্বাধীনভাবে। ঢাকার অনড় অবস্থানের কারণে দিল্লী মুখে বলছে তারা গত ৫ আগস্টে হাসিনার বক্তব্য সমর্থন করেন না; কিন্তু তার প্রত্যর্পণের ক্ষেত্রে বলা হচ্ছে বিষয়টি আইনি কাঠামোর মধ্য দিয়ে আগাচ্ছে। হাসিনাকে ভারত হাতছাড়া করলে বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রভাব বলয় সৃষ্টির আর কোনো সুযোগ থাকে না দেশটির। এটিই তাদের ভয়ের অন্যতম কারণ। উল্লেখ্য, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ভারত সফরে গেলে স্বয়ং ইন্দিরা গান্ধী তাকে হাসিনাকে ফিরিয়ে নেয়ার অনুরোধ জানান। সে অনুরোধ জিয়া মেনে নেন এবং এরশাদ চক্র ও হাসিনার পুনর্বাসনের মধ্যে দিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতি ও কূটনীতি কিভাবে ভারতের নতজানু হয়ে ওঠে তা কারো অজনা নয়। ভারত সে ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি করতেই আওয়ামী পুনর্বাসন চাইছে কেবল। যদিও ট্রিবিউনে জয়তী মালহোত্রা তার প্রতিবেদনে স্পষ্ট করেছেন ঢাকার ‘মুড’ পরিবর্তন হয়েছে এবং এতে দিল্লী অনেকটা ক্ষুব্ধ। কিন্তু এতে বাংলাদেশের তেমন কিছু যায় আসে না। যা প্রমাণিত হয়েছে, জুলাই বিপ্লব পরবর্তী পদে পদে।

ভারতীয় কূটনীতিকরা কোনো রাখঢাক না রেখে সরাসরি বলার চেষ্টা করছেন, হাসিনা পালাননি। তাকে বাংলাদেশের নিরাপত্তাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে নিরাপদে ভারতে পৌঁছে দেয়া হয়েছে। টিভি টকশোতে ভারতীয় এ বক্তব্যের প্রতিধ্বনি শোনা গেছে অন্তত বাংলাদেশের একজন রাজনৈতিক গবেষক ও লেখক এবং এনবিআর’র সাবেক প্রধানের মুখে। ঢাকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে হাসিনা মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দণ্ডিত আসামী হলেও তার ঢাকায় নিরাপদে পুনরায় ফিরে আসার ব্যাপারে এমন বয়ান তৈরির কলাকৌশলের মধ্যে দিয়ে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগকে বৈধতা দেওয়ার প্রয়াস ধীরে ধীরে মোড়ক খুলছে। পরিকল্পিত বয়ানে বলা হচ্ছে কার্যকর বিরোধী দল নেই। বলার চেষ্টা করা হচ্ছে, সংসদে ও সংসদের বাইরে এত দুর্বল বিরোধী দল আর কখনো দেখা যায়নি।

সম্প্রতি ‘র’ প্রধানের সফরসঙ্গী হিসেবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে বৈঠক করেন শৈবাল রায় চৌধুরী। এ বৈঠকে মোবাইল মনিটরিং কার্যক্রম পুনরুজ্জীবিত করার ব্যাপারে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে। বাংলাদেশের নাগরিকদের নিয়ন্ত্রণের জন্য ভারতের আগ্রহ বিস্ময়কর। কারণ ইসরাইলের কাছ থেকে ভারত মোবাইল ফোনে আঁড়িপাতা যন্ত্র কিনেছে এবং বাংলাদেশে তা ব্যবহার করে আওয়ামী পুনর্বাসনে বৈরী রাজনৈতিক শক্তিকে মোকাবিলা করতে চাচ্ছে ভারত। তবে এনসিপি নেতা ও জাতীয় সংসদে বিরোধী দলীয় হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, হাসিনার প্রত্যর্পণ ও বাংলাদেশের সাথে ভারতের সম্পর্কের নতুন রূপরেখা না হওয়া পর্যন্ত তারেক রহমানের ভারত সফরে যাওয়া ঠিক হবে না। পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে জয়লাভের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা দিয়েছিলেন, শেখ হাসিনা শাহজালাল বিমানবন্দরে মর্যাদার সাথে ফিরবেন এবং লাখো জনতা তাকে স্বাগত জানাবেন। যা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের মারাত্মক লঙ্ঘন।

উল্লেখ করা দরকার, বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ঢাকায় এসে তারেক রহমানকে সমবেদনা জানিয়েছেন। ঢাকা আশ্বস্ত হয়েছিল নির্বাচিত নতুন সরকারের সাথে দিল্লী সুসম্পর্ক রাখার ইঙ্গিত দিচ্ছে; কিন্তু আওয়ামী লীগের সাথে যে সম্পর্ক সে একই সম্পর্ক ভারত বাংলাদেশের সাথে রাখতে চাচ্ছে। একই তুলাদণ্ডে তারেক ও হাসিনাকে মাপতে চাচ্ছে ভারত। এ কারণেই ভারতে প্রপাগান্ডা চলছে তারেক রহমান ভারত সফরে যাচ্ছেন। জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে বাংলাদেশে যে একটি মৌলিক পরিবর্তন হয়েছে তা উপলব্ধি করতে চাচ্ছে না দিলীø। মোদি দেখাতে চাচ্ছেন তারেকের ওপর তার প্রভাব রয়েছে যেমন আছে হাসিনার ওপরে। অন্যদিকে চীন, ভারত, যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবের মধ্যেও ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতি অক্ষুণ্ন রাখার চ্যালেঞ্জ নিয়েছেন তারেক। সম্পর্কের বাস্তবতা যত গভীর হোক না কেন, তার সীমাবদ্ধ রেখা ভারত নিজেই স্পষ্ট করে দিয়েছে। বাংলাদেশের প্রয়োজনে চীন, ভারত, যুক্তরাষ্ট্র কার সক্ষমতা কতটা তা যাচাই করছে ঢাকা। যা খুবই সময়োপযোগী ও প্রজ্ঞাপূর্ণ পদক্ষেপ বলেই মনে করা হচ্ছে।

এদিকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ সাংবাদিক সম্মেলনে বলেছেন, তারেক রহমানের ভারত সফরের সম্ভাবনা রয়েছে, তিনি এও বলেছেন, জুলাইয়ের রক্তের দাগ এখনো শুকায়নি। ভারতের সাথে আমাদের সম্পর্ক উন্নয়নের সুযোগ তৈরি আছে; কিন্তু ভারত সে সুযোগ কাজে লাগাবে কি না তা তারাই ভেবে দেখবে। আওয়ামী লীগের আবেগীয় ও নতজানু রাজনৈতিক দর্শনের ভিত্তিমূল থেকে জুলাই আন্দোলন বাংলাদেশকে সরিয়ে এনেছে। কিন্তু ভারত এ বাস্তবতা কোন ভাবেই উপলব্ধি করতে পারছে না। ফলে বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের দৃশ্যমান কোন উন্নতি হচ্ছে না।

মূলত, জুলাই বিপ্লব বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটা ইতিবাচক পরিবর্তন এনে দিয়েছে। বাংলাদেশ আর পেছনে তথা নতজানু পররাষ্ট্রনীতির অশুভ বৃত্তে ফিরতে চায় না। কিন্তু ভারত আওয়ামী প্রেম ও শেখ হাসিনার কথা কোন ভাবেই ভুলতে পারছে না। তারা যেকোন ভাবেই হোক বাংলাদেশের রাজনীতিতে শেখ হাসিনাকে নতুন করে পুনর্বাসন করতে চায়। কিন্তু বাস্তবতা সে অনকূলে কথা বলে না। ভারত যদি বাংলাদেশের সাথে সম্পর্ক উন্নয়ন করতে চায় তাহলে পারস্পরিক সমঝোতা ও সম্মানের ভিত্তিতেই তা হতে হবে। চাপিয়ে দিয়ে কোন সমস্যার সমাধান করা যাবে না। বিষয়টি আমাদের এ বৃহৎ প্রতিবেশী দেশ যত তাড়াতাড়ি উপলব্ধি করবে ততই মঙ্গল।

লেখক : আইনজীবী ও প্রাবন্ধিক।



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews