পিটার ওবোর্ন ও ইরফান চৌধুরী
ইরানের ওপর অবৈধ মার্কিন-ইসরাইলি হামলার মূলে দু’টি ধারণাগত ভ্রান্তি রয়েছে। প্রথমটি হলো এই ধারণা যে, ইরান একটি বর্বর দেশ, যা মধ্যযুগে পড়ে আছে এবং আধুনিক বিশ্বের সাথে খাপ খাইয়ে চলতে অক্ষম। যেমনটি ট্রাম্প বলছিলেন, যখন তাকে প্রশ্ন করা হয়, ইরানের সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংস করা কি যুদ্ধাপরাধ নয়? তিনি উত্তর দেন, ‘ওরা পশু’।

দ্বিতীয় ভুল হলো এই বিশ্বাস যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পশ্চিমা সভ্যতার প্রতিনিধিত্ব করে।

এই নিবন্ধে আমরা উভয় পক্ষের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের বুদ্ধিবৃত্তিক কৃতিত্ব ও সক্ষমতা পর্যালোচনার মাধ্যমে এই মৌলিক অনুমানগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখব।

আমরা দেখতে পারছি, ট্রাম্পের যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে ইরানের নেতৃত্ব অনেক বেশি পরিশীলিত, বুদ্ধিমান, শিক্ষাগত যোগ্যতায় উন্নততর ও সফল।

চলুন, যুদ্ধের একেবারে শুরুর দিকে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে নিহত ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে তুলনা করে দেখা যাক।

খামেনি ছিলেন একজন মারজা অর্থাৎÑ ইসলামী আইনশাস্ত্রের বিশেষজ্ঞ। এর সবচেয়ে কাছাকাছি ব্রিটিশ তুলনা হতে পারে রাজার পরামর্শক বা হাইকোর্টের বিচারক। এই সর্বোচ্চ নেতা অসাধারণ ভাষাবিদও ছিলেন; মাতৃভাষা ফারসিতেই শুধু নয়, তিনি আরবি, আজেরি এবং তুর্কি ভাষাতেও অনর্গল কথা বলতে পারতেন। যথেষ্ট ভালো ইংরেজিও জানতেন। তিনি ছিলেন ফারসি কবিতার বিশেষ অনুরাগী, তবে পশ্চিমা সাহিত্যও প্রচুর পড়তেন। তার পাঠ তালিকায় ছিল জেন অস্টিন, লিও টলস্টয়, দান্তে আলিঘিয়েরি, জন স্টেইনবেক ও হ্যারিয়েট বিচ স্টোর বই।

২০০৪ সালে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘‘আমার মতে, ভিক্টর হুগোর ‘লে মিজারেবল’ এ পর্যন্ত লেখা সর্বশ্রেষ্ঠ উপন্যাস।’’ বেশ মনোজ্ঞ মূল্যায়ন।

সুস্পষ্ট বৈপরীত্য
খামেনি এবং তাকে হত্যার নির্দেশদাতা ট্রাম্পের মধ্যকার বৈসাদৃশ্যটি তাৎপর্যপূর্ণ। টনি শোয়ার্টজ, যিনি ‘ট্রাম্প : দ্য আর্ট অব দ্য ডিল’ বইয়ের নেপথ্য লেখক, অনুমান করেন, ট্রাম্প তার প্রাপ্তবয়স্ক জীবনে একটিও বই পড়েননি। ‘ফায়ার অ্যান্ড ফিউরি : ইনসাইড দ্য ট্রাম্প হোয়াইট হাউজ’ বইতে ট্রাম্পের জীবনীকার মাইকেল উলফ বলেছেন, ‘ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদকালে অনেকেই মনে করতেন, কার্যত তিনি এক আধা শিক্ষিত ব্যক্তি ছাড়া আর কিছু নন।’

ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব, নিহত ডক্টর আলী লারিজানি এবং তার সবচেয়ে কাছের মার্কিন প্রতিপক্ষ, যুদ্ধমন্ত্রী পিট হেগসেথের মধ্যে তুলনা বলার মতো বিষয়। হেগসেথ অন্যতম বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয় প্রিন্সটনে পড়াশোনা করেছেন বটে। তবে তার শিক্ষাগত যোগ্যতা কোনোভাবেই লারিজানির সমকক্ষ নয়। লারিজানি পাশ্চাত্য দর্শনের ওপর পিএইচডি করেন এবং পরে দার্শনিক কান্টের ওপর তিনটি বই লিখেন।

লারিজানি সম্পর্কে ইসরাইলি সাংবাদিক গিডন লেভ বলেন, ‘কয়েক দশক ধরে সরকারের গুরুদায়িত্ব পালন করার পরও তিনি তার সবচেয়ে বড় আবেগের বিষয়টি কখনো ত্যাগ করেননিÑ সেটি দর্শনচর্চা।’

লেভ তাকে ‘একজন অসাধারণ চিন্তাবিদ’ বলে অভিহিত করেন, যিনি এক অনন্য উপায়ে মননশীল জীবন ও কর্মময় জীবনের সমন্বয় করেন, যা কোনোভাবেই ছোটখাটো কৃতিত্ব নয়। লারিজানি তার লেখায় পাশ্চাত্য দর্শনের নিয়ম প্রয়োগ করেই তার কট্টর ধর্মীয় বিশ্বদৃষ্টির মূল ভিত্তিগুলো ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেন এবং তিনি প্রায়ই এমন যুক্তি উপস্থাপন করেন, যা সত্যিই চিন্তার উদ্রেক করে।

লারিজানি এবং ফক্স নিউজের প্রাক্তন উপস্থাপক, মদ্যপ ও ধর্মান্ধ পিট হেগসেথের মধ্যে তুলনা নেহাতই লজ্জাজনক।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. আব্বাস আরাকচি কেন্ট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে পিএইচডি করেছেন। তার ডক্টরাল থিসিসে পশ্চিমা ধাঁচের উদার গণতন্ত্র এবং ইসলামী শাসনের সংযোগের জায়গাটি পরীক্ষা করা হয়েছে। বুদ্ধিবৃত্তিক দিক থেকে তিনি তার মার্কিন প্রতিপক্ষ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর চেয়ে উচ্চতর স্তরে অবস্থান করেন। রুবিও সেই ব্যক্তি যিনি জলবায়ুর পরিবর্তনে মানুষের ক্ষতিকর ভূমিকা অস্বীকার করেন।



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews