স্বাক্ষরকারীরা ইরানের রাজবন্দীদের সুরক্ষার কথা বলছেন। অথচ তাঁরা ভালো করেই জানেন যে গত জুনে তেহরানে হামলার সময় ইসরায়েল স্বয়ং ইরানের সবচেয়ে কুখ্যাত ‘ইভিন কারাগার’-এ বোমা ফেলেছিল। তথ্যটি অন্তত তাঁদের একটু থামিয়ে চিন্তা করতে বাধ্য করা উচিত ছিল, কিন্তু তা হয়নি।
ইরানের বন্দিশালার নিষ্ঠুরতা ও ভিন্নমত দমনের ইতিহাস সবার জানা। আশির দশকে ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় রক্তগঙ্গা বয়ে গিয়েছিল। তেহরানের কাছে খাবোরান কবরস্থানটি সেই নৃশংসতার নীরব সাক্ষী হয়ে আছে।
এ ধরনের বর্বর আচরণ, যেখানেই ঘটুক না কেন, অবিলম্বে বন্ধ হতে হবে—ইসরায়েলের সেই বন্দিশালাগুলো পর্যন্ত, যেখানে ফিলিস্তিনি বন্দীদের কুকুর দিয়ে ধর্ষণের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
নিজেদের দেশের ওপর এই পাশবিক মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার বিরুদ্ধে ইরানের রাজবন্দীরা নিজেরাও কারাগার থেকেই চিঠি লিখে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। সম্মানীয় স্বাক্ষরকারীরা কি এই খবরটি রাখার প্রয়োজন মনে করেছিলেন?
স্বাক্ষরকারীদের মধ্য থেকে কেউই যে ফারসি ভাষার উৎসগুলো পড়তে পারেন না, তা স্পষ্ট। কিন্তু ইংরেজি ভাষায় সাবেক রাজবন্দী বেহরুজ গামারি-তাবরিজি খুব স্পষ্ট করে এই যুদ্ধের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন। স্বাক্ষরকারীরা কি তাঁর যুক্তিগুলো শোনার আগ্রহ দেখিয়েছেন?
এখানে উভয় পক্ষকে সমান দোষী বানানোর সুযোগ নেই। আপনি হয় গণহত্যাকারী বোমারুদের পক্ষে থাকবেন, না হয় যাদের ওপর বোমা ফেলা হচ্ছে তাদের পক্ষে দাঁড়াবেন।