ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলায় ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলে বিপর্যয় ও নিম্নমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। ঢাকা শিক্ষা বোর্ড ও মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের গড় পাসের হারের তুলনায় আলফাডাঙ্গা উপজেলার পাসের হার বেশ পিছিয়ে রয়েছে। তবে সাধারণ এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষায় ফলাফলের এই নিম্নমুখী চিত্র দেখা গেলেও বিপরীত চিত্র দেখা গেছে এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায়, যেখানে বোর্ডের তুলনামূলক ভালো অবস্থানে রয়েছে উপজেলাটি।
সোমবার (১০ আগস্ট) উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মোজাম্মেল হক স্বাক্ষরিত আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত ফলাফল বিবরণী বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য জানা গেছে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর আলফাডাঙ্গা উপজেলার ১৮টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে মোট ৯৬৪ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে পাস করেছে ৫৮৪ জন এবং অকৃতকার্য হয়েছে ৩৮০ জন শিক্ষার্থী। উপজেলায় গড় পাসের হার ৬০.৫৮%। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের সার্বিক পাসের হার যেখানে ৭১.৬৩% সেখানে বোর্ডের তুলনায় উপজেলার সার্বিক ফলাফল বেশ নিম্নমুখী।
উপজেলার ১৮টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ২৩ জন শিক্ষার্থী। এরমধ্যে সর্বোচ্চ ৮ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে আলফাডাঙ্গা আরিফুজ্জামান (মডেল) পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় (পাসের হার ৮৮.৬৬%)। এছাড়া কামারগ্রাম কাঞ্চন একাডেমী থেকে ৭ জন (পাসের হার ৭৯.০৭%), নওয়াপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৩ জন (পাসের হার ৬৫.৫২%), বানা মৌলভী আবদুল মজিদ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২ জন (পাসের হার ৬৮.২৫%), শিরগ্রাম বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১ জন (পাসের হার ৯০.১৬%), ইউনাইটেড একাডেমী পানাইল থেকে ১ জন এবং চরনারানদিয়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। বাকী ১১টি বিদ্যালয় থেকে কোনো শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেতে সক্ষম হয়নি। উপজেলার সবচেয়ে কম পাসের হার হেলেঞ্চা উচ্চ বিদ্যালয়ে (৩৩.৯৬%) এবং বেজীডাঙ্গা কাজী আমেনা ওয়াহেদ উচ্চ বিদ্যালয়ে (৩৬.০০%)।
উপজেলার ৭টি দাখিল মাদ্রাসা থেকে এবার মোট ১৯৭ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষা দেয়। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে মাত্র ৮৩ জন এবং ফেল করেছে ১১৪ জন শিক্ষার্থী। উপজেলার দাখিলে গড় পাসের হার মাত্র ৪২.১৩%। মাদ্রাসা বোর্ডের সার্বিক পাসের হার ৫৫.৪৯% হলেও আলফাডাঙ্গার ফলাফল বোর্ডের তুলনায় বেশ নিচে নেমে গেছে। উপজেলার কোনো মাদ্রাসা থেকেই এবার কোনো শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পাননি। গোপালপুর বায়তুল ফালাহ দাখিল মাদ্রাসায় সর্বোচ্চ ৫৪.৭৬% শিক্ষার্থী পাস করলেও সর্বনিম্ন ফলাফল করেছে হিদাডাঙ্গা মোমেনা সুফিনাজ দাখিল মাদ্রাসা (পাসের হার ২৭.২৭%) এবং বানা এসপি দাখিল মাদ্রাসা (পাসের হার ৩৪.৭৮%)।
সাধারণ ও মাদ্রাসা শিক্ষা ধারায় পাসের হার হতাশাজনক হলেও কারিগরি শিক্ষায় সন্তোষজনক ফলাফল করেছে উপজেলার শিক্ষার্থীরা। ভোকেশনালে মোট ১৮৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১৪২ জন উত্তীর্ণ হয়েছে এবং পাসের হার ৭৬.৩৪%। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের সার্বিক পাসের হার ৫৮.২০%-এর তুলনায় আলফাডাঙ্গার পাসের হার অনেক বেশি (ঊর্ধ্বমুখী)। এই বিভাগে মোট ৭ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছে। এর মধ্যে কামারগ্রাম কাঞ্চন একাডেমী থেকে ৩ জন, আলফাডাঙ্গা আরিফুজ্জামান (মডেল) পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২ জন, খায়রুন্নেছা মেমোরিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ১ জন এবং জাবেদ পারভেজ মেমোরিয়াল ইনস্টিটিউট থেকে ১ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে।
মাধ্যমিক ও দাখিল পর্যায়ে এমন ফলাফলে অভিভাবক, শিক্ষক ও সচেতন মহল উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, নিয়মিত পাঠদানের অভাব, শিক্ষার্থীদের ডিজিটাল ডিভাইসে অতিরিক্ত আসক্তি এবং শিক্ষকদের যথাযথ তদারকির ঘাটতিই এই নিম্নমুখী ফলাফলের মূল কারণ। তারা মনে করেন, অনতিবিলম্বে বিদ্যালয় ও মাদ্রাসাগুলোর শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বিভাগ ও পরিচালনা পর্ষদের কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
এ বিষয়ে আলফাডাঙ্গা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মোজাম্মেল হক জানান, "ফলাফলের তথ্য বিশ্লেষণ করে যেসব প্রতিষ্ঠানে পাসের হার কম এবং কাঙ্ক্ষিত ফলাফল হয়নি সেগুলোর একাডেমিক পরিবেশ ও দুর্বলতার জায়গাগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
এনআই