উয়েফার সাবেক প্রধান ও ফরাসি ফুটবল কিংবদন্তি মিশেল প্লাতিনি বলেছেন, ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে “বিদায় নিতেই হবে”।
বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে ঘিরে সাম্প্রতিক কেলেঙ্কারি ও বিতর্কের পর তিনি এই মন্তব্য করেন।
প্লাতিনি রবিবার এক ফরাসি গণমাধ্যমকে বলেন, “অর্থনৈতিক বিষয় এক জিনিস, কিন্তু ইনফান্তিনো ব্যর্থ হয়েছেন কারণ তিনি নিয়মের রক্ষক, অথচ তিনি সেগুলো মানেননি।”
ফিফার প্রতি মূল অভিযোগ, বেসরকারি বিনিয়োগ পরিকল্পনা। ইনফান্তিনো বিশ্বকাপে বেসরকারি অর্থ আনার প্রস্তাব দিয়েছিলেন, যা বাতিল হলেও ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়।
বিশ্বকাপে চার মিনিট পর্যন্ত বিরতি দেওয়া হয় হাইড্রেশন বিরতি, যা বিজ্ঞাপন প্রচারে ব্যবহার করা হয়। প্লাতিনি বলেন, এটি নিয়মবহির্ভূত।
ফাইনালে বিরতি ১৫ মিনিটের বেশি চলে যায়, যা নিয়মের বাইরে। এই সময়ে চলে হাফটাইম শো।
এছাড়া এবারের বিশ্বকাপে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ফোনকলের পর আমেরিকান ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগুনের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করা হয়। প্লাতিনি এটিকে “সবচেয়ে খারাপ” ঘটনা বলে আখ্যা দেন।
ইনফান্তিনোকে আক্রমণ করে প্লাতিনি বলেছেন, ইনফান্তিনো “সবসময় টাকা ভালোবাসতেন” এবং এখন তাকে বিদায় নিতেই হবে।
“আমি সবসময় জানতাম সে টাকা ও ক্ষমতা ভালোবাসে।” তার মতে, উয়েফা যদি ইনফান্তিনোকে সরাতে চায়, তা কেবল আদালতের মাধ্যমে সম্ভব।
তিনি অভিযোগ করেছেন, ইনফান্তিনো নিয়মের রক্ষক হয়েও সেগুলো মানেননি।
উয়েফার পাশাপাশি কনকাকাফ ও এএফসি ইনফান্তিনোর ওপর চাপ বাড়িয়েছে।
ইনফান্তিনো আগামী মার্চে পুনর্নির্বাচনে দাঁড়ানোর আশা করছেন, কিন্তু ইউরোপ ও এশিয়া-আমেরিকার চাপ তার অবস্থান দুর্বল করছে।
প্লাতিনিও কিন্তু ধোয়া তুলশি পাতা ছিলেন না। ২০১৫ সালে প্লাতিনি দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত হন, যখন তিনি ফিফা সভাপতির পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চেয়েছিলেন।
সেপ ব্লাটারের কাছ থেকে ২০ লাখ ডলারের অবৈধ অর্থ গ্রহণের অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। ২০২৫ সালে তিনি সব অভিযোগ থেকে মুক্তি পান, তবে তখনই পদ ছাড়তে হয়।
ইনফান্তিনো সেই সুযোগে ২০১৬ সালে ফিফা সভাপতি নির্বাচিত হন। প্লাতিনি বলেন, “সে আমাকে নামায়নি, বরং আমার পতন থেকে সুবিধা নিয়েছে।”
প্লাতিনি বর্তমানে ইনফান্তিনোসহ সাবেক ফিফা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ফ্রান্সে মামলা করেছেন। অভিযোগ “অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, মিথ্যা অভিযোগ, প্রভাব খাটানো এবং প্রভাব খাটাতে সহায়তা।”
তিনি ক্ষতিপূরণ দাবি করছেন, কারণ তার মতে এসব ষড়যন্ত্র তাকে ফিফা সভাপতি হতে বাধা দিয়েছে।