প্রায় তিন বছর পর ইউরোপের শ্রেষ্ঠ ক্লাব প্রতিযোগিতায় ফিরে আজারবাইজানের চ্যাম্পিয়ন সাবাহকে ৪-০ গোলে হারিয়ে দুর্দান্ত শুরু করেছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড।
প্রায় তিন বছর পর চ্যাম্পিয়নস লিগে ফিরেই দাপুটে জয় পেয়েছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে প্রতিযোগিতায় অভিষিক্ত আজারবাইজানের সাবাহকে ৪-০ গোলে হারিয়েছে মাইকেল ক্যারিকের দল। মাতেউস কুনহা, ব্রুনো ফার্নান্দেজ ও বেনিয়ামিন শেশকোর প্রথমার্ধের গোলের পর দ্বিতীয়ার্ধে ব্যবধান বাড়ান লিসান্দ্রো মার্তিনেস।
২০২৩ সালের ডিসেম্বরে বায়ার্ন মিউনিখের কাছে হেরে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেওয়ার পর আর চ্যাম্পিয়নস লিগে খেলা হয়নি ইউনাইটেডের। দুই মৌসুম পর নতুন কাঠামোর লিগ পর্বে ফিরেই অবশ্য নিজেদের সামর্থ্যের বড় প্রমাণ দিয়েছে তারা। ম্যাচে শুরুতে কিছুটা অস্বস্তিতে থাকলেও ২৭ মিনিটে গোল করে এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা।
সাবাহর কাহিম পারিসের ভুল থেকে বল পেয়ে ব্রুনো ফার্নান্দেজ পাস দেন পাত্রিক দর্গুকে। বাঁ প্রান্ত থেকে তাঁর বাড়ানো ক্রস দারুণভাবে গোলে পরিণত করেন কুনহা। এর পর অবশ্য ম্যাচে ফেরার বড় সুযোগ পেয়েছিল সাবাহ। পারিসের ক্রস থেকে জয়স-ল্যান্স মিকেলসের হেড গোলের খুব কাছে থেকেও পোস্টের বাইরে দিয়ে চলে যায়।
ওটাই ছিল সাবাহর সবচেয়ে বড় সুযোগ। ৪২ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন অধিনায়ক ফার্নান্দেজ। ইউরি তিয়েলেমানস বক্সে ঢুকে বল বাড়িয়ে দেন ফার্নান্দেজের দিকে। সুযোগটি কাজে লাগিয়ে পাশ দিয়ে নেওয়া শটে গোল করেন পর্তুগিজ মিডফিল্ডার। মাত্র তিন মিনিট পর আবারও গোল করে ইউনাইটেড। ব্রায়ান এমবেউমোর নিখুঁত পাস ধরে গোলরক্ষক স্তাস পোকাতিলভকে কাটিয়ে ফাঁকা জালে বল পাঠান শেশকো।
বিরতির পর কুনহা নিজের দ্বিতীয় গোলের সুযোগ পেয়েছিলেন, কিন্তু তাঁর শট ঠেকিয়ে দেন পোকাতিলভ। তবে ৬৮ মিনিটে আর রক্ষা হয়নি সাবাহর। জশুয়া জির্কজির কাছাকাছি পোস্টে নেওয়া হেডের পর বলের গতিপথ হারিয়ে ফেলেন সাবাহ গোলরক্ষক। সেই সুযোগে লাফিয়ে উঠে বল জালে পাঠান মার্তিনেস।
শেষ দিকে মিকেলস ও অর্ফে এমবিনার সামনে সান্ত্বনার গোলের সুযোগ এসেছিল। এমবিনার হেড ক্রসবারের ওপর দিয়ে ছিটকে যায়। তবে এরপর আর কোনো বিপদ হতে দেয়নি ইউনাইটেড। বরং রবিবার ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে বড় স্বস্তির বিষয়—দলটি কোনো চোট ছাড়াই ম্যাচ শেষ করেছে।
পরিসংখ্যানেও ছিল ইউনাইটেডের পরিষ্কার আধিপত্য। তারা ২১টি শট নিয়েছে, যার প্রত্যাশিত গোলের হিসাব ছিল ৩.৬৭। সাবাহর ১১ শটের বিপরীতে তাদের প্রত্যাশিত গোল মাত্র ০.৯২। ফার্নান্দেজের গোলের পর সাবাহর ঘুরে দাঁড়ানোর বাস্তব সম্ভাবনাও কার্যত শেষ হয়ে যায়।
চ্যাম্পিয়নস লিগে ইউনাইটেডের জন্য ম্যাচটি আরও কিছু রেকর্ড এনে দিয়েছে। ২০০৩-০৪ মৌসুমে পানাথিনাইকোসকে ৫-০ গোলে হারানোর পর এবারই প্রথম কোনো চ্যাম্পিয়নস লিগ মৌসুমের প্রথম ম্যাচে এত বড় জয় পেল তারা। প্রতিযোগিতায় শেষ ১২ ম্যাচে এটি ইউনাইটেডের মাত্র তৃতীয় জয়; বাকি ম্যাচে চারটি ড্র ও পাঁচটি হার।
ইউনাইটেডের হয়ে ২০২০ সালে যোগ দেওয়ার পর বড় ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় মিডফিল্ডারদের মধ্যে গোল ও গোলে সহায়তা—দুই ক্ষেত্রেই সবার ওপরে ফার্নান্দেজ। তাঁর গোল ২৩টি, সহায়তা ২১টি। এ ছাড়া প্রথমার্ধে ইউনাইটেডের তিন গোলের গোলদাতা ও এসিস্ট করার হিসাবে ছয় খেলোয়াড়ের অবদান ছিল—ক্লাবের ইতিহাসে চ্যাম্পিয়নস লিগে একই ম্যাচের প্রথমার্ধে এমন ঘটনা মাত্র দ্বিতীয়বার।
অন্যদিকে সাবাহর জন্যও ম্যাচটি ছিল ঐতিহাসিক। এটি ছিল বড় কোনো উয়েফা প্রতিযোগিতায় তাদের প্রথম উপস্থিতি। দলটির একাদশে ১১টি ভিন্ন দেশের খেলোয়াড় ছিলেন—আলজেরিয়া, আজারবাইজান, ক্রোয়েশিয়া, জ্যামাইকা, কাজাখস্তান, নাইজেরিয়া, পোল্যান্ড, রুয়ান্ডা, সার্বিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা ও উজবেকিস্তান। তবে ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে শক্তিশালী ইউনাইটেডের সামনে সেই ইতিহাস শেষ পর্যন্ত সান্ত্বনাতেই সীমাবদ্ধ থাকল।
আর ইংলিশ ক্লাবের বিপক্ষে আজারবাইজানের দলগুলোর দুর্বল রেকর্ডও অব্যাহত রইল। ইংল্যান্ডের মাটিতে চ্যাম্পিয়নস লিগে আজারবাইজানের দলগুলোর এটি চতুর্থ ম্যাচ, চারটিতেই হার। সব মিলিয়ে সেই চার ম্যাচে তারা গোল করেছে মাত্র দুটি, বিপরীতে হজম করেছে ১৯টি।